শীত মৌসুমে শিশুকে সুস্থ রাখতে

শীতকালে একদমই গোসল না করলে শরীর খারাপ করার সম্ভাবনা বাড়ে।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Jan 2024, 07:37 AM
Updated : 28 Jan 2024, 07:37 AM

শীতকালে অনেকেই নিয়মিত গোসল করেন না, এটা স্বাস্থ্যকর নয়। সুস্থ ও রোগমুক্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অত্যাবশ্যক, শিশুদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য।

শীতে শিশুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত গোসল করানো, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এই বিষয়ে পরামর্শ দিতে গিয়ে বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিশুর বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রুমানা বাসার বলেন, “শীতে শিশুদের নানান রকম অপুষ্টি, ঠাণ্ডা-কাশি ও রোগ দেখা দেয়। তাই তাদের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন”

তিনি বলেন, “শীতকালে শিশুকে ত্বকের সমস্যা থেকে দূরে রাখতে অবশ্যই নিয়মিত গোসল করাতে হবে। একদিন পরপর কুসুম গরম পানি গোসল করানো ভালো। খুব বেশি গরম পানি ত্বকের ক্ষতি করে।”

গোসলের আগে শিশুর গায়ে তেল মালিশ করে নিলে ত্বক ভালো থাকে এবং ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা কমে।

“গোসল করানোর সময় যতটা সম্ভব মৃদু সাবান ও শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। অন্যত্থায়, সাবান ও শ্যাম্পুর ক্ষতিতর রাসায়নিক উপাদান ত্বকের ক্ষতি করতে পারে”- বলেন এই অধ্যাপক।

তেল মেখে গোসল করানোর পরেও শিশুর ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় লোশন বা অলিভ অয়েল মালিশের পরামর্শ দেন, রুমানা বাসার।

শীতে শিশুর পোশাক হওয়া উচিত আরামদায়ক। ওজনে হালকা কিন্তু শরীর উষ্ণ রাখে এমন পোশাক বাছাই করা উচিত। মোটা ও ভারী তন্তুর পোশাক, চাদর বা কম্বল শিশুর ত্বকের ক্ষতি করে।

‘’শিশুকে শীতের কাপড় পরিয়ে ওপরে নরম ও পাতলা কম্বল দিয়ে ঘুমানোর সময় ঢেকে দিতে হবে”- বলেন তিনি।

এই সময়ে শিশুর গায়ে র‌্যাশ দেখা দিলে কোন কাপড়ে সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

শীতে শিশুকে সবসময় কুসুম গরম পানি খাওয়ানোর পরামর্শ দেন, রুমানা। এতে গলা ব্যথা, কফ ও কাশির প্রবণতা কমে।

সব মৌসুমেই শিশুকে সুস্থ রাখতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। মুরগির সুপ, দুধ, ডিম, বাদাম, শাক সবজি, মিষ্টি আলু বেছে নিতে হবে।

প্রতিদিন একটা ডিম ও এক গ্লাস দুধ শিশুর খাবার তালিকায় রাখার পরামর্শ দেন বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফারাহ মাসুদ।

তিনি বলেন, “সুস্থ থাকতে শিশুকে অবশ্যই সুষম খাবার খাওয়াতে হবে। দুধ, ডিম, কলিজা, বাদাম, ঘি, নরম মাংস ও রঙিন শাক সবজি শিশুর জন্য অত্যাবশ্যক।”

তাছাড়া মৌসুমি ও ভিটামিন সি ধরনের ফল শিশুকে জ্বর, ঠাণ্ডা-কাশি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে, জানান ফারাহ মাসুদা।  

পর্যাপ্ত পুষ্টি, পানি পান, বিশ্রাম ও বাহ্যিক যত্নের মাধ্যমে শিশুকে শীতকালের রোগ থেকে দূরে রাখা যায়। শিশুর যত্নে এই বিষোয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখা উচিত।

আরও পড়ুন

Also Read: শিশুকে যেভাবে স্বাস্থ্যকর খাবারে অভ্যস্ত করা যায়

Also Read: যেসব খাবার শিশুর ওপর বাজে প্রভাব ফেলে

Also Read: শিশুর মানসিক উন্নতিতে যা করণীয়