Published : 01 Mar 2026, 03:01 PM
ঈদুল ফিতরের ছুটি মানে, অনেকের কাছে বাড়ি ফেরার উৎসাহ, পরিবারের সঙ্গে মিলনের আনন্দ আর সেই সঙ্গে ট্রেনের টিকিটের লড়াই।
বছরের এই সময়ে নিরাপদ, আরামদায়ক ও সময়মতো যাত্রার জন্য ট্রেনই অনেকের প্রথম পছন্দ। তবে যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় টিকিট পাওয়া যেন একটা যুদ্ধ।
দীর্ঘ লাইন, অনলাইনে সার্ভার ডাউন, কয়েক মিনিটেই সব শেষ— এসব অভিজ্ঞতা ঈদযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
সেন্টমার্টিন ট্যুরিজমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আহম্মেদ হাসান ইস্পাহানি বলেন, “ঈদের ট্রেনের টিকিট কাটা এখন পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির খেলা। আগেভাগে রেজিস্ট্রেইশন, ইন্টারনেট স্পিড, সঠিক সময়ে লগইন— এসব না থাকলে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।”
ট্রেনের টিকিট কেনা যায় দুভাবে— অফলাইন ও অনলাইন। অফলাইনে স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে সরাসরি টিকিট কাটা হয়। তবে ঈদের সময় লাইন এত লম্বা হয় যে অনেকে ভোর থেকে দাঁড়িয়ে থাকেন, তবু টিকিট না-ও পেতে পারেন।
এই পদ্ধতি ঝামেলাপূর্ণ, সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

অনলাইনে টিকিট কাটাই এখন সবচেয়ে সহজ ও সময়সাশ্রয়ী উপায়। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট https://eticket.railway.gov.bd/ থেকে খুব সহজেই টিকিট কাটা যায়।
প্রথমে ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেইশন করতে হবে। নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। রেজিস্ট্রেশনের পর লগইন করে যাত্রার তারিখ, ট্রেনের নাম, স্টেশন, যাত্রী সংখ্যা ও ক্লাস নির্বাচন করুন। সিট ম্যাপ থেকে পছন্দের আসন বেছে নিন। তারপর পেমেন্ট করুন— মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড বা অন্যান্য পদ্ধতিতে।
পেমেন্ট সফল হলে ই-টিকিট আপনার ইমেইল ও মোবাইলে চলে আসবে। এই টিকিটের ডিজিটাল কপি মোবাইলে সেভ করে রাখুন। যাত্রাপথে টিকিট চেকার দেখাতে হতে পারে।
ঈদের টিকিট সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে ছাড়া হয়। অনলাইনে সকাল ৮টায় এবং অফলাইনে সকাল ৯টায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু গ্রাহকের সংখ্যা এত বেশি যে, অনলাইনে বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই জনপ্রিয় রুটের টিকিট শেষ হয়ে যায়। তাই আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া খুব জরুরি।
ইন্টারনেট স্পিড চেক করুন, অ্যাকাউন্টে লগইন করে রাখুন, পেমেন্ট অপশন প্রস্তুত রাখুন। সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে লগইন করে অপেক্ষা করুন। ঠিক ৮টায় যাত্রার তারিখ সিলেক্ট করে সিট চয়েস করুন। দ্রুত পেমেন্ট করলে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
যদি অনলাইনে না পান, তাহলে অফলাইনে চেষ্টা করতে পারেন। তবে স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর আগে জেনে নিন কোন ট্রেনের কোন ক্লাসে টিকিট ছাড়া হচ্ছে।
অনেক সময় কাউন্টারে লোকজন বেশি থাকে, তাই ভোরবেলা যাওয়াই ভালো। টিকিট কাটার সময় যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে রাখুন।
ঈদের ট্রেনযাত্রা সুন্দর করতে আরও কিছু টিপস
আগেভাগে টিকিট কাটুন, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোথাও থেকে টিকিট কিনবেন না, টিকিটের স্ক্রিনশট ও প্রিন্টেড কপি সঙ্গে রাখুন। যাত্রার সময় ট্রেনে খাবার, পানি ও ওষুধ নিয়ে যান।
রমজানের এই সময়ে ট্রেনের টিকিট কাটা একটা পরিকল্পিত কাজ। আগেভাগে প্রস্তুতি নিলে বাড়ি ফেরা হবে আরামদায়ক ও আনন্দময়।
আরও পড়ুন