Published : 11 Jan 2026, 06:48 PM
নিজের একটি ফ্ল্যাট বা বাড়ি— অধিকাংশ মানুষের জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন। এই স্বপ্ন পূরণে সারা জীবনের সঞ্চয়ের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সহায়তা অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আবাসন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা পুনর্নির্ধারণ করেছে।
৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ জারি করা নতুন নির্দেশনায় খেলাপি ঋণের হারের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো এখন সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত আবাসন ঋণ দিতে পারবে।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক আঞ্চলিক প্রধান ফকির আকতারুল আলম, এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
ঋণের যোগ্যতা ও অনুপাত
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুসারে, আবাসন খাতে ঋণ ও মূলধনের অনুপাত ৭০:৩০। মানে, এক কোটি টাকার ফ্ল্যাটের জন্য ব্যাংক সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারে; বাকি ৩০ লাখ গ্রাহকের নিজস্ব অর্থ (ডাউন পেমেন্ট) দিতে হবে।
তবে কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান চাইলে পুরো অর্থও ঋণ দিতে পারে।
ঋণগ্রহীতার বয়স কমপক্ষে ২২ বছর হতে হবে এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ শেষে বয়স ৬৫ বছরের বেশি হবে না।
চাকরিজীবীদের মাসিক আয় কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা হতে হবে। ব্যবসায়ী বা বাড়িওয়ালারাও যোগ্য।
ব্যাংককে নিশ্চিত করতে হয় যে, গ্রাহকের পর্যাপ্ত নিট আয় রয়েছে এবং কিস্তি পরিশোধে সক্ষম।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবাসন ঋণের জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন পড়বে।
ব্যাংকভিত্তিক সর্বোচ্চ ঋণসীমা
নতুন নির্দেশনায় ঋণসীমা নির্ভর করে ব্যাংকের আবাসন খাতে খেলাপি ঋণের হারের ওপর-
সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, খেলাপি ঋণ কম থাকায় কয়েকটি ব্যাংক (যেমন- সিটিজেনস ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক) ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে সক্ষম।
অন্যান্য ব্যাংকগুলোর সীমা তিন কোটি বা দুই কোটি টাকা। সঠিক সীমা জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
আবাসন ঋণ নেওয়ার আগে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার, সুদের হার (সাধারণত ৯ থেকে ১৮ শতাংশ) এবং নিজের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করুন।
সময় মতো কাগজপত্র প্রস্তুত রাখলে এবং যোগ্যতা পূরণ করলে স্বপ্নের ফ্ল্যাট বা বাড়ি অর্জন সহজ হয়। প্রয়োজনে আর্থিক উপদেষ্টা বা ব্যাংক কর্মকর্তার সহায়তা নিন।
আরও পড়ুন
মূল্যস্ফীতির চাপে খরচ সামলানোর উপায়