Published : 17 Dec 2025, 06:49 PM
মূল্যস্ফীতি মূলত একটি অদৃশ্য করের মতো কাজ করে— পণ্য ও সেবার দাম বাড়লে আয়ের মান হ্রাস পায়, ফলে সংসার চালাতে কাটছাঁট বা ঋণের প্রয়োজন পড়ে।
এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক আঞ্চলিক প্রধান ফকির আকতারুল আলম।
তার মতে, সচেতনতা ও পরিকল্পিত ব্যয় ব্যবস্থাপনায় এই চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
খরচ কমানোর কৌশল
প্রথমে অপ্রয়োজনীয় খাতে কাটছাঁট করুন। উদাহরণ স্বরূপ- বাইরে খাওয়া বা বিনোদনের খরচ মাসে তিনবার থেকে একবারে সীমিত রাখলে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হয়।
অতিরিক্ত সাবস্ক্রিপশন, যেমন- ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, জিম মেম্বারশিপ বা মোবাইল প্যাকেজ বন্ধ করলে মাসে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা বাঁচতে পারে।
পরিকল্পিত কেনাকাটা
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন- চাল, ডাল, তেল বা পেঁয়াজের দাম সপ্তাহভিত্তিক ওঠানামা করে। মাসের শুরুতে দাম তুলনামূলক স্থির থাকলে একসঙ্গে মাসিক চাহিদা কিনে রাখুন। এতে দুতিনশ টাকা সাশ্রয় সম্ভব।
বড় অফার বা ডিসকাউন্টের সময় বাল্ক কেনাকাটা খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
সঞ্চয়ের অভ্যাস বজায় রাখা
সামর্থ্য কমে গেলেও সঞ্চয় বন্ধ করবেন না। আগে মাসে ৫ হাজার টাকা সঞ্চয় করলে এখন ২ হাজার টাকায় নামিয়ে আনুন, তবে নিয়মিততা ধরে রাখুন।
সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটে দুয়েক বছরের জন্য টাকা রাখলে নিরাপদ মুনাফা পাওয়া যায়।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা
নতুন ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বিদ্যমান কিস্তির ওপর অতিরিক্ত ঋণ যোগ হলে চাপ বাড়বে।
উদাহরণ স্বরূপ, মাসে ১০ হাজার টাকার কিস্তি চললে নতুন ৫ হাজার টাকার ঋণ যোগ হলে মোট ১৫ হাজার টাকার বোঝা হয়, যা আয় না বাড়লে ঝুঁকিপূর্ণ।
পরিবর্তে বিদ্যমান ঋণ আগেভাগে পরিশোধের চেষ্টা করুন।
আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ
পারিবারিকভাবে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ খোঁজা যেতে পারে।
অনলাইনে পার্টটাইম কাজ, যেমন- ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন টিউশন বা ছোট ব্যবসা শুরু করলে মাসে দুতিন হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় সম্ভব। যা খাদ্যপণ্যের বাড়তি দাম সামলাতে সহায়তা করবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও ব্যক্তিগত স্তরে এসব কৌশল অবলম্বন করলে পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা যায়। সচেতনতাই এখানে মূল চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন
অল্প আয় থেকেও যেভাবে সঞ্চয় করা যায়