১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রোজা রেখেও যে কারণে ওজন কমে না

রমজান মাসে ওজন কমাতে চাইলে মানতে হবে কিছু নিয়ম।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Feb 2026, 03:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:00 PM

রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর অনেকেরই প্রত্যাশা থাকে— ওজন কিছুটা কমবে। তবে বাস্তবে দেখা যায়, রমজান শেষে অনেকের ওজন না কমে বরং বেড়ে যায়।

কেউ কেউ আবার ওজন কমাতে চাইলেও কমছে না।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “রোজায় ওজন না কমা বা বেড়ে যাওয়ার পেছনে মূলত- খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের ধরন ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব দায়ী।”

রোজার প্রথম দুই সপ্তাহে প্রায় অর্ধেক মানুষের ওজন বাড়ে, আর শেষ দুই সপ্তাহে গড়ে আড়াই থেকে পাঁচ কেজি কমে। তবে সঠিক নিয়ম না মানলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

রোজায় ওজন বাড়ার সবচেয়ে বড় কারণ ইফতারে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার।

দীর্ঘ উপবাসের পর শরীরে শক্তি ও পুষ্টির চাহিদা বেশি থাকে। ফলে অনেকে ইফতারে উচ্চ ক্যালরির খাবার খান- ঘন চিনির শরবত, বিরিয়ানি, তেহারি, ফ্রায়েড রাইস, পায়া, নেহারি, কিমা পরোটা, চর্বিযুক্ত হালিম, ফাস্ট ফুড, ডাবল চর্বি-মেয়োনেইজ-চিজযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার, অতিরিক্ত তেলে ভাজা পেঁয়াজি-বেগুনি-সমুচা।

এসব খাবারে ক্যালরি অনেক বেশি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া, রাতে খেয়েই শুয়ে পড়া, সেহরিতে ক্যালরিবহুল খাবার ও অতিরিক্ত খাওয়া, রোজায় শারীরিক পরিশ্রম কম করা— এসবের কারণে শরীরে ক্যালরি জমা হয় এবং ওজন বেড়ে যায়।

রমজানের শেষ দুই সপ্তাহে অনেকের ওজন কমে। এর কারণ— গভীর রাতে খাবার খাওয়াতে অনীহা, সেহরি না খাওয়া বা কম খাওয়া, ঘুমের ধরন পরিবর্তন ও বিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন।

তবে যারা সেহরি খান না বা খুব কম খান, তাদের ক্ষেত্রে শরীরে ক্যালরির ঘাটতি হয়ে ওজন কমে। তবে এটি স্বাস্থ্যকর নয়।

ওজন স্বাভাবিক রাখতে বা কমাতে রোজায় কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে

১. একবারে অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। ইফতার শুরু করতে হবে হালকা খাবারে— খেজুর, পানি, দই-চিড়া, ফল।

২. ক্যালরিবহুল, অস্বাস্থ্যকর ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৩. ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি— তিন বেলাই খান। তবে অল্প অল্প করে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

৪. ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত আড়াই-তিন লিটার পানি ও তরল খাবার (স্যুপ, দুধ, ফলের রস) গ্রহণের অভ্যাস করতে হবে। খাবারের ২০ শতাংশ পানি চাহিদা পূরণ করে, বাকি ৮০ শতাংশ সরাসরি পানি থেকে আসে।

৫. রাতে কমপক্ষে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান (রাত ১০টা থেকে ৩টা) এবং ফজরের পর দুয়েক ঘণ্টা ঘুমান। ঘুম কম হলে কর্টিসল বাড়ে, যা ওজন বাড়ায়।

৬. প্রতিদিন ব্যায়াম করুন। ইফতারের পর ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা দ্রুত হাঁটুন বা পছন্দমতো ব্যায়াম করুন। বিশ রাকাত তারাবিহ নামাজ দাঁড়িয়ে পড়াও ব্যায়ামের কাজ করে।

৭. সুষম খাবার খান— তাজা শাকসবজি, ফল, মাছ, মুরগি, দুধ, ডিম ও সহজপাচ্য খাবার।

ওজন বাড়তে থাকলে বা কমাতে চাইলে পুষ্টিবিদের পরামর্শে রোজার ডায়েট চার্ট তৈরি করা উপকারী হতে পারে।

ডা. নয়ন পরামর্শ দেন, “কম ক্যালরিযুক্ত কিন্তু পুষ্টিকর খাবার খান। ঘন চিনির শরবতের বদলে ডাবের পানি বা ইসবগুল মিশ্রিত পানি গ্রহণ করুন। কম তেলে ভাজা খাবার খান। রাতে খেয়ে শুয়ে না পড়ে হাঁটুন।”

সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি, ব্যায়াম ও ঘুম নিশ্চিত করলে রোজায় ওজন স্বাভাবিক এবং শরীর সুস্থ থাকে।

রমজানে শরীরকে চাপমুক্ত রাখতে এই নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরি।

আরও পড়ুন

ওজন কমানোর লক্ষ্য ভ্রষ্ট করতে পারে ‘ডায়েট’ খাবার

উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজন যেমন হওয়া উচিত

ওজন কমানোর অদ্ভুত কৌশল