Published : 10 May 2025, 02:06 PM
প্রযুক্তির অতিনির্ভরতা কি সত্যিই মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর? ‘ডিজিটাল ডিমেনশা’ বা স্মৃতিশক্তি ক্ষয়ের জন্য প্রযুক্তিকে দায়ী করা হয়ে থাকে অনেক সময়।
তবে বিজ্ঞান বলছে, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নয়নে সাহায্য করতে পারে।
জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত ‘হিউম্যান-টেকনোলজি ইন্টারঅ্যাকশন’ গবেষক ড. মারভিন কপকা বলছেন, “আজকের দিনে তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় সহজেই। আর মোবাইল বা কম্পিউটারেই সেসব সংরক্ষণ করে ফেলি। তার মানে এই নয় যে, প্রযুক্তি মস্তিষ্ক নষ্ট করছে।”
রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “বরং, নতুন প্রযুক্তি শেখা মানেই নতুন কিছু শেখা। এটা এক ধরনের মানসিক ব্যায়াম, যা স্মৃতিশক্তিকে তীক্ষ্ণ রাখে।”
প্রযুক্তির সুফল পেতে হলে জানতে হবে ‘কগনিটিভ এইজিং’ বা মস্তিষ্কের বয়সজনিত পরিবর্তন সম্পর্কেও।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘হোম ইনস্টেড’-এর জেরোনটোলজিস্ট এবং কেয়ারগিভার অ্যাডভোকেট ড. লেইকলিন আইশেনবার্গার একই প্রতিবেদনে বলেন, “বয়স বাড়ার সঙ্গে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে— যেমন শব্দ খুঁজে পেতে দেরি হওয়া, দিন তারিখ ভুলে যাওয়া, মাঝে মাঝে জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা বা নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখা দেওয়া।”
তিনি বার্ধক্য, বয়স্কদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক প্রভাব এবং তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে গবেষণার কাজ করেন।
তবে এসব বিষয় নিয়মিত না হলে চিন্তার কিছু নেই। প্রযুক্তি এসব সমস্যা সামাল দিতেও সাহায্য করতে পারে, যদি ব্যবহার করা হয় মস্তিষ্কবান্ধব উপায়ে।
তাহলে কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করলে মস্তিষ্ক উপকৃত হবে?
সামাজিক সংযোগ বাড়াতে প্রযুক্তি ব্যবহার
ড. আইশেনবার্গার বলেন, “মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা মানসিক ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রযুক্তির কল্যাণে আজ খুব সহজেই পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। নিয়মিত ভিডিও কল, ছবি শেয়ার, বার্তা বিনিময়- এসবই সামাজিক সংযোগে সাহায্য করে আর মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।
বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য এই সংযোগ খুবই দরকারী। এখন অনেক প্রবীণ ব্যক্তিও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্তানদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন বা ছবি আদান-প্রদান করেন। যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক।
প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন কিছু শেখা
মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে নতুন কিছু শেখার বিকল্প নেই। স্মার্টফোনে ব্রেইন গেমস, অডিওবুক, ভাষা শেখার অ্যাপ এসবই দারুণ উপায়।
ড. আইশেনবার্গার বলেন, “চ্যালেঞ্জিং কাজ বা নতুন কিছু শেখা মস্তিষ্কের জন্য ভালো। চাইলে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ভাষা শিখতে পারেন, কুইজ খেলতে পারেন, কিংবা ডকুমেন্টারি দেখে নতুন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারেন।”
অনেকে ইউটিউব দেখে রান্না শেখেন, কেউ ছবি আঁকা বা সেলাই শেখেন। এগুলো মস্তিষ্ককে নতুনভাবে কাজে লাগায়।
প্রযুক্তি দিয়ে সংগীত তৈরি
সংগীত মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের থেরাপি।
ড. কপকা বলেন, “মোবাইল বা কম্পিউটারে সংগীত তৈরির অনেক অ্যাপ আছে, যেগুলো ব্যবহার করে আপনি নিজেই কিছু তৈরি করতে পারেন। এটা ছন্দের অনুভূতি ও সৃজনশীলতা বাড়ায়।”
যদি গিটার বা হারমোনিয়াম বাজাতে জানেন, তবে অনলাইন টিউটোরিয়াল দেখে নিজেই সংগীত রেকর্ড করতে পারেন। যারা জানেন না, তারাও সহজ অ্যাপ দিয়ে শুরু করতে পারেন।
দৈনন্দিন কাজ সংগঠিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার প্রতিদিনের কাজের চাপ কমাতে স্মার্টফোনের টুলগুলো অনেক সাহায্য করে।
ড. কপকা বলেন, “যেমন অ্যাপলের মেডিকেইশন রিমাইন্ডার। এটা আপনাকে ওষুধ খাওয়ার সময় মনে করিয়ে দেয়।”
অনেকেই এখন গুগল ক্যালেন্ডার, টু-ডু লিস্ট অ্যাপ ব্যবহার করেন। কেউ কেউ মোবাইলে নোট নিয়ে রাখেন জরুরি কাজের তালিকা। এতে অপ্রয়োজনীয় তথ্য মনে রাখার চাপ কমে এবং মস্তিষ্ক অন্য কাজের জন্য প্রস্তুত থাকে।
‘প্রয়োজন’ আর ‘চাহিদা’ আলাদা করা
প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে ভারসাম্য থাকা দরকার।
ড. আইশেনবার্গার পরামর্শ দেন, “সব কিছুতেই মোবাইল ব্যবহার না করে একটু সময় নিতে হবে। দেখতে হবে নিজের থেকে চিন্তা করতে পারেন কি-না।”
আরও পড়ুন
প্রযুক্তির ব্যবহারের সাথে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি হয়ত কম