Published : 31 Jul 2025, 05:43 PM
ঘরের মধ্যে এমন এক জায়গা আছে, যেখানে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটে, উৎসব হয়, কিংবা সাধারণ ছুটির দিনে একসঙ্গে খাওয়া হয়। সেই স্থানটি হল খাবার ঘর বা ডাইনিং রুম।
এই ঘরের রং ঠিকভাবে না বাছাই করলে, পুরো পরিবেশটাই হয়ে উঠতে পারে শুষ্ক, বিরক্তিকর কিংবা অমায়িকতার অভাবে ভরা।
তাই, দেয়ালে তুলি চালানোর আগে রং নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা অত্যন্ত জরুরি।
এড়িয়ে চলার মতো রং
খাবার দোকানের রং: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রধান রং ডিজাইনার মিশেল মারসেনি রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “লাল, কমলা, হলুদ রংগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। এই রংগুলো সাধারণত ফাস্টফুড রেস্তোরাঁতে ব্যবহৃত হয় যাতে মানুষ দ্রুত খেয়ে চলে যায়।”
এই উজ্জ্বল রংগুলো মানুষের মনকে দ্রুত উত্তেজিত করে। ফলে আরাম করে বসে খাওয়ার পরিবেশ নষ্ট হয়।
ডাইনিং রুমে বরং এমন রং বেছে নিতে হবে যা অতিথিদের ধীর করে এবং বেশি সময় সেখানে বসে থাকতে আগ্রহী করে তোলে।
অতিরিক্ত সাদা: “যদিও সাদা রং পরিষ্কার এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। তবে ডাইনিং রুমে এটি অনেক সময় নির্বিকার, হাসপাতালের মতো অনুভব করায়,” বলেন মিশেল মারসেনি।
তবে যদি দেয়ালে অনেক আর্টওয়ার্ক থাকে, তাহলে হালকা সাদা বা নিরপেক্ষ হালকা রং ব্যবহার করা যেতে পারে।
নিরস নিরপেক্ষ রং: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্থাপত্য রং পরামর্শক অ্যামি ক্রেন বলেন, “বেইজ বা নিরপেক্ষ ধূসর রংগুলো অনেক সময় খুব বেশি নির্লিপ্ত এবং প্রাণহীন হয়ে যায়। খাবার ঘরে সাধারণত কম আসবাব থাকে। ফলে দেয়ালের রং ঘরের আবহ তৈরি করতে বড় ভূমিকা রাখে।”
এসব নিরপেক্ষ রংয়ের বদলে একটু প্রাণবন্ত, অথচ আরামদায়ক রং বেছে নেওয়া উচিত।
যেমন রং নির্বাচন করা ভালো
হার্ব গার্ডেন: প্রাকৃতিক রং যেমন- সবুজ বা নীলকে ডাইনিং রুমের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত মনে করেন, মিশেল মারসেনি।
এই গাঢ়, প্রাণবন্ত সবুজ রং হালকা রংয়ের আসবাবের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। ওয়ালপেপার যুক্ত করতে চাইলে, তাও সুন্দরভাবে মিলিয়ে নেওয়া যায়।
সি সল্ট: যদি নিরপেক্ষ রংয়ের দিকেই থাকা হয়, তাহলে এই হালকা রং খুবই উপযুক্ত। এতে কিছুটা গভীরতা আছে, তবে একেবারে প্রাণহীন নয়। এটি ডাইনিং রুমকে আরামদায়ক এবং রুচিসম্মত করে তোলে।
এভারগ্রিন ফগ: এই মধ্যম তীব্রতার সবুজ রংয়ে কিছুটা ধূসর ছায়াযুক্ত হলেও এটি দারুণভাবে প্রাকৃতিক কাঠের আসবাবের সঙ্গে মানিয়ে যায়। ঘরে আনে ভারসাম্যপূর্ণ গাম্ভীর্য।
হাডসন বে: এই গাঢ় নীল রংয়ে আছে সবুজের স্নিগ্ধতা। সন্ধ্যার খাবার বা ঝলমলে আলোতে এই রং চমৎকারভাবে নাটকীয় প্রভাব তৈরি করে, আবার আরামদায়ক ভাবও বজায় রাখে।
পাম রেইসিন: যারা লাল, হলুদ কিংবা কমলার মতো গরম রং পছন্দ করেন কিন্তু রেস্তোরাঁর পরিবেশ এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য বেগুনি কিংবা বার্গান্ডি রং হতে পারে চমৎকার বিকল্প। এই রং লাল ও বেগুনির মধ্যবর্তী প্রাণবন্ত ছায়া, যা ডাইনিং রুমে উষ্ণতা আনে।
বুথবে গ্রে: যদিও এটি ধূসর রং। তবে এতে নীলাভ ছায়া আছে যা দিনের আলোর পরিবর্তনে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। এটি নিরপেক্ষ রংয়ের তালিকায় থেকেও ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
সঠিক রং বাছাইয়ের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
সাহসী হোন
অ্যামি ক্রেন বলেন, “খাবার ঘরে রংয়ের ব্যবহার প্রাণবন্ত হওয়া উচিত। তার মানে এই নয় যে, একসাথে অনেক রং ব্যবহার করতে হবে। বরং এমন রং বাছাই করা উচিত যা পরিবেশকে উজ্জ্বল করে এবং ডিনার পার্টির আমেজ তৈরি করে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘর গাঢ়, ওয়ালপেপার এবং বিভিন্ন রংয়ের সংমিশ্রণের জন্য উপযুক্ত স্থান।”
উষ্ণতা বজায় রাখা
মিশেল মারসেনি বলেন, “খাবার ঘর এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষ দীর্ঘ সময় কাটাতে চায়। তাই আমি গাঢ়, স্যাচুরেইটেড এবং সুন্দর রং ব্যবহার করতে পছন্দ করি।”
বেগুনি, সবুজ ও নীলের মতো মাঝারি গাঢ় রং এই ঘরের জন্য খুবই মানানসই। কারণ এগুলো আরাম এবং উষ্ণতা জাগায়।
আশপাশের ঘরের সঙ্গে মিল
খাবার ঘর যদি ‘ওপেন প্ল্যান’য়ের অংশ হয়, তাহলে আশপাশের ঘরগুলোর রংয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি।
অ্যামি ক্রেন বলেন, “ঘরের মধ্যে রংয়ের প্রবাহ, ভারসাম্য এবং সংযুক্তি থাকা প্রয়োজন।”
গাঢ় বেগুনি ব্যবহার করলে অন্যান্য ঘরে হালকা নীল রং দিলে তাতে বেগুনির হালকা ছাপ থাকে।
আলো চিন্তা করে রং বাছাই
খাবার ঘরে দিনের কোন সময় বেশি ব্যবহার করা হয়, সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
অ্যামি ক্রেন বলেন, “যদি ঘরটি শুধুমাত্র রাতের খাবারের জন্য ব্যবহার করেন, তাহলে কৃত্রিম আলোতে রং কেমন দেখায় তা আগে পরীক্ষা করে নিতে হবে।”
আরও পড়ুন
ছোট ঘরকে বড় দেখাবে যে সাত রংয়ে