Published : 04 Jul 2026, 08:03 AM
এন্দ্রিক ভক্তরা হয়তো তাকে ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে দেখতে চান, যদিও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে তাদের সেই চাওয়া এখনও পূরণ হয়নি। প্রতি ম্যাচেই খেলার সুযোগের জন্য বেঞ্চে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে। তবে, এতে এতটুকুও অসন্তোষ নেই এন্দ্রিকের।
মরক্কোর বিপক্ষে আসর শুরুর ম্যাচে মাঠে নামারই সুযোগ হয়নি রেয়াল মাদ্রিদের এই ফুটবলারের। হাইতির বিপক্ষে পরের ম্যাচে ২৬ মিনিট, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষের কিছুটা সময় এবং শেষ বত্রিশে জাপানের বিপক্ষে ৪৫ মিনিট খেলার সুযোগ পান তিনি।
এতে তার ভক্তরা অখুশি হলেও, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এন্দ্রিক স্বাভাবিকই আছেন। তিনি সরাসরি বললেন, কোচের সিদ্ধান্তে তার কোনো আপত্তি নেই। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ের আগে, কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভূয়সী প্রশংসা করলেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
“আমার জন্য কী সবচেয়ে ভালো হবে, তিনি তো সেটা করবেন না, তিনি সেটাই করবেন, যা দলের জন্য সর্বোচ্চ ভালো হবে।
“কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে তিনি ভয় পান না; তার কাছে যেটা সঠিক মনে হয়, তিনি তাই করেন এবং তাতে ভালো কিছুই ঘটে। মনে হয় যেন, ঈশ্বর তার পাশেই আছে। কারণ, কার্লো যাই করুক, সেটাই ফল আসে।”
দলের প্রয়োজনে যেকোনো মুহূর্তে, যেকোনো ভাবে কোচের ডাকে সাড়া দিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়ে দিলেন এন্দ্রিক।
“কোচ আমাকে যখন কিছু করতে বলবেন, আমি পিছপা হবো না; তিনি যা বলবেন, আমি ঠিক তাই করব।”
ম্যাচে কতটুকু সময় খেলার সুযোগ পাবেন, আদৌ পাবেন কিনা- এমন অনিশ্চয়তা তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে না বলেও জানালেন এন্দ্রিক।
“আমার মনে হয়, আমি শান্তিতেই ঘুমাব, শিশুর মতো। সত্যিই আমি শান্তিতেই থাকব, কারণ ঘুমাতে যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটা আমি করি: প্রার্থনা করি, ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলি এবং আত্মবিশ্বাসী থাকি যে সবকিছু সঠিক সময়েই হবে।”
বরং টিনএজ বয়সে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকতে পেরেই ভীষণ খুশি এন্দ্রিক।
“এখানে থাকতে পেরেই আমি কৃতজ্ঞ; আমার জন্য, এই স্কোয়াডের অংশ হতে পারা এবং বিশ্বকাপে খেলাটাই একটা বিজয়।”
ব্রাজিলিয়ান ক্লাব পালমেইরাস ছেড়ে ২০২৪ সালে রেয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন এন্দ্রিক। ইউরোপে গিয়ে সেখানে তিনি প্রথম কোচ হিসেবে পেয়েছিলেন এই আনচেলত্তিকেই। সেই থেকে বর্ষীয়ান এই ইতালিয়ান কোচের সঙ্গে ভালো বোঝাপড়াও শুরু হয় এন্দ্রিকের।
“আমি ইউরোপে যাওয়ার পর, সেখানে তিনিই আমার প্রথম কোচ ছিলেন। (সেখানে) তাকে প্রথম কোচ হিসেবে পাওয়াটা আমার ক্যারিয়ারে ছিল সেরা অভিজ্ঞতা।
“রেয়ালে (আনচেলত্তির কোচিংয়ে), আমি অনেক খেলেছি। হয়তো তা ছিল অল্প কিছু মিনিটের জন্য, তবে বাস্তবিক অর্থে আমি প্রায় সব ম্যাচেই মাঠে নামতাম। তিনি আমাকে শান্ত থাকতে বলতেন যে, আমার সময় আসবে।”
কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী রোববার নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সময় রাত ২ টায় শুরু হবে ম্যাচটি।