Published : 08 Dec 2025, 05:24 PM
নতুন পোশাক কিনলে থাকে গায়ে চাপানোর উত্তেজনা ও আগ্রহ। তাই দোকান থেকে কিনে এনেই বা অনলাইনে দেওয়া অর্ডার হাতে পাওয়া মাত্রই অনেকেই তা পরে দেখেন।
তবে প্রশ্ন হল— এই পোশাক পরার আগে ধোয়া কতটা জরুরি?
পোশাকে যে সব অদৃশ্য ঝুঁকি থাকে
নতুন হলেও উৎপাদন ও বিপণনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পোশাক হাতে আসে। এক দেশে কাপড় তৈরি, আরেক দেশে রং করা, অন্য দেশে সেলাই— এসব ধাপেই বহু হাত ঘোরে কাপড়ে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় পোশাকে লেগে থাকতে পারে নানান ধরনের প্রক্রিয়াজাত রাসায়নিক, অতিরিক্ত রংয়ে কণা। দোকানে ঝোলানো অবস্থায় অসংখ্য ক্রেতার স্পর্শও যোগ হয়।
তাই বিশেষ করে যেসব পোশাক সরাসরি ত্বকে লাগে, যেমন- শার্ট, টপস, প্যান্ট বা অন্তর্বস্ত্র— সেগুলো ধুয়ে নেওয়াই নিরাপদ অভ্যাস।
দোকানের পোশাকে জীবাণুর সম্ভাবনা
“দোকানে রাখা পোশাকে শুধু রাসায়নিক নয়, জীবাণুর সংক্রমণও হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক কিংবা ভাইরাস কাপড়ের ওপর কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে”- বলেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বস্ত্র ও বয়নশিল্প বিভাগের অধ্যাপক সোনিয়া বেগম।
কেউ পোশাকটি পরে দেখেছে, কেউ হাত দিয়েছে— এসব স্পর্শের মাধ্যমেও পোশাক দূষিত হতে পারে।
যাদের ত্বক সংবেদনশীল, অ্যালার্জি বা চুলকানির সমস্যা আছে, তাদের জন্য এ ধরনের পোশাক সরাসরি পরা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে- মন্তব্য করেন এই অধ্যাপ।
আরামের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
প্রথম ধোয়াতে শুধু জীবাণু বা রাসায়নিকই দূর হয় না, পোশাকের গাঁটও স্বাভাবিক অবস্থায় আসে।
উৎপাদনের সময় কাপড় টানটান করে তৈরি করা হয়। প্রথমবার পানিতে ভিজলে সেই টান শিথিল হয়, ফলে পোশাক বসতে শুরু করে।
এতে পোশাক শরীরে আরামদায়ক লাগে এবং আসল ‘ফিট’ বোঝা যায়।
সব পোশাক কি ধোয়া জরুরি?
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফ্যাশন ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি’র ‘টেক্সটাইল/ সার্ফেস ডিজাইন’ বিভাগের প্রধান নমি ডেল ক্লেইনম্যান রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন যে, “সব ধরনের নতুন পোশাক ধোয়া অপরিহার্য নয়।”
যেসব পোশাক সরাসরি ত্বকে স্পর্শ করে না, যেমন- শার্টের ওপর পরা পোশাক, ইনারের ওপর যে কোনো পোশাক তাৎক্ষণিক ধোয়া না হলেও সাধারণত সমস্যা নেই।
আর যেসব পোশাকে শুধু শুষ্ক পরিষ্কারের পরামর্শ থাকে, সেগুলো বাড়িতে ধোয়া উচিত নয়।
তবে নিয়মিত ব্যবহারের আগে পরিষ্কার করে নেওয়াই নিরাপদ অভ্যাস।
না ধুয়ে পরলে কী সমস্যা হতে পারে?
নমি বলেন, “যাদের ত্বক সাধারণত সহনশীল, তাদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বড় সমস্যা নাও হতে পারে। তবে পোশাকে থাকা রাসায়নিক বা জীবাণু ত্বকের সংস্পর্শে এসে লালচে দাগ, চুলকানি বা ফুসকুড়ির মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এলার্জি-প্রবণদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি।”
আর রঙিন পোশাকে রয়েছে ভিন্ন ঝামেলা। গাঢ় নীল বা লাল রংয়ের পোশাক, বিশেষ করে জিন্স বা গাঢ় শার্ট, কামিজ, প্যান্ট প্রথম কয়েকবার পরলে রং ছাড়তে পারে।
এতে ত্বক নীলচে হয়ে যাওয়া কিংবা অন্য কাপড় ও আসবাবে দাগ লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
নতুন পোশাক ধোয়ার সঠিক কৌশল
অধ্যাপক সোনিয়া বেগম পরামর্শ দেন, “পোশাকের যত্নের নির্দেশিকা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। প্রথম ধোয়াতে ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করলে রং ফিকে হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং কাপড় সঙ্কুচিত হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।”
“বেশি তাপমাত্রার পানি কিংবা কড়া শুকানোর তাপে কাপড়ের তন্তু দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ধোয়ার পর স্বল্প তাপে শুকানো বা খোলা বাতাসে ঝুলিয়ে শুকানো ভালো পদ্ধতি”- পরামর্শ দেন তিনি।
তাই বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে পোশাক ধুয়ে নেওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি।
সচেতনতা থেকেই নিরাপত্তা
নতুন পোশাক পরার আনন্দ উপভোগ করতে চাইলে সামান্য ধৈর্য ধরাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
একবার ধুয়ে নেওয়ার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়ানো যায়, পোশাক আরামদায়ক হয় এবং ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
নতুন পোশাক শুধু দেখতেই নতুন নয়, নিরাপদ করে তুলতে পরিষ্কার করাও জরুরি।
আরও পড়ুন