ঘর সজ্জায় ফিরছে পুরানো ধারা
পুরানো আমলে সাজে ঘরে দেওয়া যায় ঐতিহ্যের ছোঁয়া
সময়ের সাথে সাথে ঘর সাজানোর ধারাও বদলায়। কখনও নতুন ধারার প্রভাবে পুরানো সাজসজ্জা হারিয়ে যায়, আবার কখনও সেই পুরানো ধারা নতুন রূপে ফিরে আসে।
বর্তমানে ঘর-নকশাবিদরা এমনই কিছু সাবেকি আমলের সাজসজ্জার ধারা নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন।
ঐতিহ্যবাহী পর্দা ও রডের নকশা
অনেক সময় ঘরের জানালার সাজসজ্জায় কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাধারণত মানুষ পরিষ্কার ও সাদাসিধে নকশার রড বা পর্দা বেছে নেয় যাতে ঝামেলা কম হয়।
তবে রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যান্ডি চেং ডিজাইন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান গৃহসজ্জাকর ম্যান্ডি চেং বলেন, “একটু ঐতিহ্যবাহী ছোঁয়া ঘরের ব্যক্তিত্ব বাড়াতে পারে।”
তার কথায়, “পুরানো ধরনের অলঙ্কৃত রড ব্যবহার বিশেষ সৌন্দর্য আনে।”
এ ধরনের রডের প্রান্তে থাকছে শৈল্পিক নকশার ‘ফিনিয়াল’, যা ঘরে এনে দেয় রাজকীয় আবেদন।
পর্দার কাপড়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফুলেল নকশার চিন্টজ, টয়েল কাপড় কিংবা সূক্ষ্ম লেসের কাপড় ঘরে এনে দেয় উষ্ণতা ও রুচিশীলতা।
ম্যান্ডি মনে করেন, “জানালার জন্য এই ধরনের কাপড় বাছাই করলে তা শুধু আলো-ছায়া নিয়ন্ত্রণই নয়, বরং ঘরের সামগ্রিক সৌন্দর্যেও বিশেষ মাত্রা যোগ করে।”
ওয়ালপেপার বর্ডার – দেয়ালের সহজ অথচ ভিন্নধারার সাজ
১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ওয়ালপেপার বর্ডার প্রায় প্রতিটি ঘরের পরিচিত অংশ ছিল। পুরো দেয়াল ওয়ালপেপার দিয়ে ঢাকার পরিবর্তে কেবল ওপরের বা মাঝের অংশে নকশা করা বর্ডার লাগানো হতো।
নতুন যুগের শুরুর দিকে এই ধারা কিছুটা পুরানো মনে হলেও,
কানাডার টরন্টো-ভিত্তিক গৃহসজ্জাকর আলেকজান্দ্রা গেটার মনে করেন- সময় এসেছে এটিকে আবার ফিরিয়ে আনার।
তিনি একই প্রতিবেদনে বলেন, “এখন ওয়ালপেপার বর্ডার নতুনভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এটি পুরো ওয়ালপেপারের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও বেশ অভিনব ও মজাদার।”
তার মতে, যারা নিজে হাতে ঘর সাজাতে চান তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার শুরু হতে পারে। কারণ ওয়ালপেপার বর্ডার লাগানো তুলনামূলকভাবে সহজ, আর খরচও কম।
এটি ঘরের চরিত্র বদলে দেয় এবং দেয়ালে এক ধরনের গল্প তৈরি করে।
স্ক্যাল্পড (ঢেউয়ের মতো কাটা কিনারা) ও এমব্রয়ডারি করা সাজসজ্জা
পুরানো বাড়িকে যে জিনিসটি সবচেয়ে আলাদা করে তুলে ধরে, তা হল ফ্রিল, নকশা ও সূক্ষ্ম কাজের সৌন্দর্য।
আলেকজান্দ্রা গেটার বলেন, “কোনো স্ক্যাল্পড প্রান্ত বা এমব্রয়ডারি ডিটেইল এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না। এগুলো এখন সর্বত্র দেখা যাচ্ছে। টেবিলের কাপড়ে, বিছানার চাদরে, কুশনের কাভারে।”
স্ক্যাল্পড প্রান্ত মানে- ঢেউয়ের মতো কাটা কিনারা, যা দেখতে নরম ও রোমান্টিক লাগে। আর এমব্রয়ডারি করা ডিজাইন ঘরে আনে হাতের কাজের উষ্ণতা ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া।
গেটারের ভাষায়, “এটি এক ধরনের ‘কটেজকোর’ আবহ তৈরি করে। তবে যেন আরও প্রাপ্তবয়স্ক ও গুছানো রূপে। যেন সাবেকি ঘর, তবে ২০২৫ সালের জন্য সাজানো।”
যে কারণে এই ধারা আবার জনপ্রিয় হচ্ছে
বিশ্বব্যাপী মানুষ এখন ঘরে ব্যক্তিত্ব ও গল্প ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। অতীতের জিনিসে রয়েছে ‘নস্টালজিয়া’, আর সেই স্মৃতির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে আধুনিক আরাম ও কার্যকারিতা।
এই মিশ্র ধারা ঘরকে শুধু সুন্দরই করে না, বরং তাকে করে তোলে সময়ের সেতুবন্ধন।
আরও পড়ুন
