Published : 28 May 2025, 02:27 PM
ঘুম থেকে উঠেই বিছানা গুছিয়ে ফেলার সাধারণ ঘটনা। গোছানো বিছানা নাকি গোছানো জীবনের প্রতীক!
তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ঘুম থেকে উঠেই বিছানা গুছিয়ে ফেলা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে।
বিশেষ করে, যারা অ্যালার্জি বা হাঁপানির সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন যুক্তরাজ্যের ম্যাট্রেস ও ঘুম বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাট্রেসনেক্সটডে’-এর প্রধান নির্বাহী মার্টিন সিলি।
প্রায় ৪০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই বিশেষজ্ঞ রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “ঘুম থেকে উঠেই বিছানা গুছিয়ে ফেলা মানেই জীবাণু ও ধুলিকণার জন্য একটি আদর্শ আবাস তৈরি করে দেওয়া।”
কেন গোছানো বিছানায় ধুলিকণা বেশি জমে?
সাধারণত ঘুমানোর সময় গড়পড়তা ৫শ’ মিলিলিটার বা প্রায় দুই কাপ ঘাম নিঃসরণ করা হয়। ফলে বিছানা ও চাদরে জমে যায় আর্দ্রতা। আর এই আর্দ্র পরিবেশই ধুলিকণাজাত ক্ষুদ্র জীবাণু— ‘ডাস্ট মাইট’-এর আদর্শ আবাসস্থল।
এই ‘ডাস্ট মাইট’ চোখে দেখা যায় না, তবে এগুলো মৃত চামড়ার কোষ খেয়ে বেঁচে থাকে এবং এদের বর্জ্য পদার্থই আমাদের অ্যালার্জির অন্যতম কারণ।
‘আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘ডাস্ট মাইট’য়ের বর্জ্য পদার্থ যেমন- মল ও প্রস্রাব, শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে এবং নাক ঝরা, চোখে পানি, হাঁচি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ তৈরি করে।
বিছানা গোছাতে সময় নিন—কমপক্ষে ৩০ মিনিট
মার্টিন সিলির মতে, “ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছানোর আগে কমপক্ষে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করা উচিত। এ সময় চাদর, বালিশ ও তোশকের ওপর জমে থাকা ঘাম বা আর্দ্রতা বাতাসে শুকিয়ে যায়। ফলে ‘ডাস্ট মাইট’ বংশবৃদ্ধির জন্য আর আদর্শ পরিবেশ থাকে না।”
তিনি বলেন, “ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে চাদর চাপা দিলে সেই আর্দ্রতা ভেতরে আটকে পড়ে। ফলে ‘ডাস্ট মাইটস’সহ অন্যান্য জীবাণুরা সেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে চাদর কিছুটা তুলে রেখে দিলে এবং জানালা খুলে দিলে বা ফ্যান চালালে বায়ু চলাচল বাড়ে এবং আর্দ্রতা কমে যায়।”
২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত একটি গবেষণাও সিলির বক্তব্যকে সমর্থন করেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে কিছু সময়ের জন্য বিছানাকে ‘এয়ার আউট’ করলে ডাস্ট মাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।
‘এয়ার আউট’ বলতে বোঝায় কোনো কিছু খুলে বা উন্মুক্ত করে বাতাস চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া, যাতে ভেতরের আর্দ্রতা, গন্ধ বা জমে থাকা বাষ্প বের হয়ে যায় এবং জিনিসটি শুষ্ক ও সতেজ হয়।
অ্যালার্জি আছে? তাহলে গোছানো বিছানাই বিপজ্জনক হতে পারে
যদি সকালে উঠে হাঁচি, চোখে চুলকানি বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন, তবে ‘ডাস্ট মাইটস’ হতে পারে এর অন্যতম কারণ।
সেক্ষেত্রে ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে বিছানা গোছানোর বদলে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে তারপর গোছাতে হবে।
শুধু তাই নয়, নিয়মিত চাদর ধোয়া, তোশকের কভার ব্যবহার এবং বালিশ পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
সাধারণত বালিশ দুয়েক বছর ব্যবধানে বদলে ফেলাই ভালো।
ঘর পরিষ্কার রাখার সহজ উপায়
চাদর ও বালিশের কভার সপ্তাহে অন্তত একবার ধুয়ে ফেলতে হবে। গরম পানিতে ধুলে জীবাণু ভালোভাবে ধ্বংস হয়। বিছার তোশকে সুরক্ষা কভার ব্যবহার করতে হবে। এটি ধুলিকণাকে সরাসরি তোশকে পৌঁছাতে বাধা দেয়।
এছাড়া জানালা খুলে ঘরে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময়ের জন্য ঘরে আলো-বাতাস চলাচল করা জরুরি।
চাইলে ফ্যান বা এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা যায়, বিশেষ করে শীতকালে যখন জানালা খোলা রাখা সম্ভব হয় না।
সবাই কি এই নিয়ম মেনে চলবে?
সবাই একভাবে জীবনযাপন করেন না। অনেকেই সকালে বিছানা গুছিয়ে না রাখলে অস্থির বোধ করেন। এমন ব্যক্তিদের জন্য ভালো খবর হচ্ছে যদি ‘ডাস্ট মাইটে’ সংবেদনশীল না হয়ে থাকেন এবং বিছানায় অ্যালার্জির লক্ষণ না থাকে, তাহলে ঘুম থেকে উঠেই বিছানা গুছানো তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
তবে কারও যদি ঘন ঘন অ্যালার্জির সমস্যা হয়ে থাকে কিংবা ঘুমের পর নাক বা গলায় অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে বিছানা কিছুটা দেরিতে গুছিয়ে দেখতে পারেন এতে উপকার হয় কিনা।
বিছানার স্বাস্থ্য রক্ষায় অতিরিক্ত কিছু পরামর্শ
বিছানায় খাবার না খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সম্ভব হলে তোশক রোদে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এটা মাসে অন্তত একবার হতেই হবে।
ঘরে পোষা প্রাণী থাকলে, তাদের বিছানায় না ওঠার ব্যবস্থা করতে হবে।
যদি সম্ভব হয়, বিছানার পাশে কার্পেট এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এটি ধুলাবালু জমায়।
আরও পড়ুন
বিছানায় লম্বাসময় কাটানোয় ঘুমের ক্ষতি