মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে সাময়িক বাধা স্ট্রোকের চূড়ান্ত পূর্বাভাস
দেরি হওয়ার আগেই স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝে নিন।
হঠাৎ হাত অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে যদি তা ঠিক হয়ে যায়, তবে অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যান।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সাময়িক অবস্থাকে বলা হয় ‘ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) বা সাময়িক স্ট্রোক।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের মতে, একে 'মিনিস্ট্রোক' বলার চেয়ে স্ট্রোকের 'চূড়ান্ত পূর্বাভাস' বা ‘ওয়ার্নিং স্ট্রোক’ হিসেবে বিবেচনা করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত।
কারণ, এটা ভবিষ্যতে বড় ধরনের এবং স্থায়ী পঙ্গুত্ব সৃষ্টিকারী স্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ হিসেবে কাজ করে।
ঝুঁকির তীব্রতা এবং পরিসংখ্যান
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৩ সালের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, সাময়িক স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া প্রতি পাঁচজন ব্যক্তির মধ্যে একজন পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে বড় ধরনের স্ট্রোকের শিকার হন।
ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের স্ট্রোক নিউরোলজিস্ট ডা. এরিকা কামার্গো ফে হার্ভার্ড হেল্থ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “এই ঝুঁকির মাত্রা বেশি থাকে লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। এছাড়া সাময়িক স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়া ব্যক্তিদের ‘ব্রেন ইমেজিং’ পরীক্ষা করার পর জানা যায় যে, তাদের মধ্যে শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ আসলে ইতিমধ্যেই মৃদু স্ট্রোকের শিকার হয়েছেন।”
লক্ষণ চেনার আধুনিক সূত্র: ‘বি ফাস্ট’
মস্তিষ্কের কোন অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে লক্ষণের ভিন্নতা দেখা দেয়।
আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসকেরা স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত চেনার জন্য ‘বি ফাস্ট’ (BE FAST) নামক একটি কার্যকর সূত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
‘বি’ ব্যালেন্স বা ভারসাম্যহীনতা: হঠাৎ করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে সমস্যা হওয়া বা একদিকে হেলে পড়ে যাওয়া। এর সঙ্গে সাধারণত মাথা ঘোরার সমস্যা যুক্ত থাকে।
‘ই’ আইজ বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা: এক বা দুই চোখে হঠাৎ দেখতে সমস্যা হওয়া। অনেক সময় রোগীরা চোখের সামনে ধূসর ছায়া দেখার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ঝাপসা বা একটা জিনিসকে দুটো দেখার (ডাবল ভিশন) সমস্যাও হতে পারে।
‘এফ’ ফেইস বা মুখের অবশতা: হাসার চেষ্টা করলে মুখের একপাশ ঝুলে পড়া। সাধারণত মুখের কোণ একদিকে বেঁকে যায়।
‘এ’ আর্ম বা হাতের দুর্বলতা: হঠাৎ করে শরীরের একদিকের হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া বা অবশ-ভাব অনুভূত হওয়া।
‘এস’ স্পিচ বা কথা বলার জড়তা: কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্ট করে বলতে না পারা। অন্য কেউ কিছু বললে তা বুঝতে কষ্ট হওয়া এবং স্মার্টফোনে টেক্সট করার ক্ষেত্রেও অক্ষমতা প্রকাশ পাওয়া।
‘টি’ টাইম বা সময় সচেতনতা: লক্ষণগুলো সাময়িকভাবে ভালো হয়ে গেলেও বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া উচিত।
জরুরি পদক্ষেপ ও প্রতিরোধ
সাময়িক স্ট্রোকের পর মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রতিচ্ছবি বা ‘ইমেজিং’ পরীক্ষা এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রধান কারণটি শনাক্ত করা জরুরি।
এর মাধ্যমে রক্তে শর্করার স্বল্পতা বা কোনো সংক্রমণ রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
এই মৃদু আক্রমণের পরপরই সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন নিশ্চিত করতে পারলে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
