Published : 28 Jan 2026, 03:23 PM
‘মাইগ্রেইন’কে অনেকে আধ কপালি ব্যথা হিসেবে চিহ্নিত করেন। কারণ বেশিরভাগ সময় মাথার একপাশে ব্যথা শুরু হয়। তবে কারও কারও পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে এই ব্যথা।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন এই বিষয়ে বলেন, “সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেইন নয়। দৃষ্টিস্বল্পতা, মস্তিষ্কের টিউমার বা অন্য কোনো সমস্যার কারণেও এমন ব্যথা হতে পারে।”
মাইগ্রেইন এক ধরনের ‘প্রাইমারি হেডেক’, যা নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
“মাইগ্রেইন হওয়ার কারণ হল মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হওয়া এবং ধমনি স্ফীত হয়ে ব্যথা সৃষ্টি করে। ব্যথার সঙ্গে বমি বমি-ভাব, দৃষ্টিবিভ্রম, আলো-শব্দে অস্বস্তি দেখা দেয়”- ব্যাখ্যা করেন এই চিকিৎসক।
এর কারণ পুরোপুরি জানা না গেলেও বংশগত প্রবণতা, মানসিক চাপ, ঋতুস্রাব, চকলেট, পনির, কফি, অনিদ্রা, অতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহার বা উজ্জ্বল আলো এটিকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
চিকিৎসায় ‘পেইনকিলার’ বা ব্যথানাশক বড়ি ব্যবহার সাধারণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদি সেবনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাই প্রাকৃতিক উপায়ে মাইগ্রেইনের ব্যথা কমানো চেষ্টা করা যেতে পারে।
পানি পান: শরীরে পানির ঘাটতি মাইগ্রেইন’কে আরও তীব্র করে। দিনে আট থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করলে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে থাকে।
তুলসী পাতা: তুলসী ফুটিয়ে চা বানিয়ে পান করলে মাইগ্রেইনের ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়। তুলসী পাতার ঘ্রাণ নিলেও আরাম মেলে। বাসায় টবে তুলসী গাছ রাখলে সহজেই ব্যবহার করা যায়।
পুদিনা পাতা: পুদিনায় প্রদাহ কমানোর গুণ রয়েছে। পুদিনা পাতা লেবুর শরবতে মিশিয়ে গ্রহণ করলে বা ‘পিপারমিন্ট এসেনশল অয়েল’ কপালে মালিশ করলে ব্যথা কমে।
ক্যামোমাইল চা: ক্যামোমাইল ফুলের চা মন শান্ত রাখে এবং মাইগ্রেইনের ব্যথা কমায়।
২০১৬ সালে ‘ফাইটোমেডিসিন জার্নাল’য়ে এর উপকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা উচিত।
রোজমেরি: রোজমেরি পানীয় হিসেবে পান করলে বা ‘রোজমেরি অয়েল’ কপালে মালিশ করলে ব্যথায় আরাম পাওয়া যায়।
ল্যাভেন্ডার: ‘ল্যাভেন্ডার অয়েল’ কপালে মালিশ করলে বা শুকনা ফুলের পাপড়ি দিয়ে পানীয় তৈরি করে গ্রহণ করলে মাইগ্রেইনের ব্যথা কমাতে সহায়ক হয়। ল্যাভেন্ডারের গন্ধ মনও শান্ত করে।
মাশরুম, ডিম ও বাদাম: এগুলোতে রিবোফ্ল্যাবিন প্রচুর। হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং মাইগ্রেইন প্রতিরোধ কাজ করে।
কলা: খালি পেটে ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ থেকে মাইগ্রেইন হতে পারে। কলায় ম্যাগনেসিয়াম প্রচুর। দ্রুত এনার্জি দেয় এবং ব্যথার সম্ভাবনা কমায়।
অন্যান্য উপায়: ম্যাগনেসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- ঢেঁকি ছাঁটা চাল, আলু, বার্লি, খেজুর, ডুমুর, সবুজ-হলুদ-কমলা শাকসবজি নিয়মিত খেলে উপকার হয়।
আদার রস বা গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে গ্রহণ করলেও ব্যথা কমে। মাথা ও ঘাড়ে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে ব্যথা দূর হতে সাহায্য করে।
ডা. নয়ন পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেন, “মাইগ্রেইনের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করবেন না।”
প্রাকৃতিক উপায়ে নিয়মিত চর্চা করলে মাইগ্রেইনের তীব্রতা অনেকাংশে কমে আসে এবং জীবনযাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়।
আরও পড়ুন