Published : 25 Jun 2026, 12:08 PM
১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্ব আসরে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিল তারা নকআউট পর্বে। দলটির খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ভক্ত-সমর্থক, সবার জন্যই মুহূর্তটি গর্বের, আনন্দের। তবে একটু বেশিই বিশেষ যেন কোচ হুগো ব্রুশের কাছে।
মন্তেরেইয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস নতুন করে লেখে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৬৩তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া গোলটি করেন থাপেলো মাসেকো।
তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের রানার্স আপ হয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। শতভাগ জয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে পরের ধাপে গেল মেক্সিকো।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এদিন ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে মাঠে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বল দখলে এশিয়ার দলটির চেয়ে অনেক পিছিয়েও ছিল তারা। কিন্তু গোলের জন্য শট নেওয়া, লক্ষ্যে শট রাখায় দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে দ্বিগুণ ছিল দলটি।
৬৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রেখে গোলের উদ্দেশ্যে সাতটি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া। সেখানে গোলে ১৪টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এদিন কোরিয়াকে তেমন কোনো সুযোগ দেয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। রক্ষণ জমাট রেখে প্রতি আক্রমণের যে ছক কষেছিলেন কোচ ব্রুশ, সেটা খুব ভালোভাবেই বাস্তবায়ন করে দলটির ফুটবলাররা। পরিকল্পনা কাজে লাগায় ভীষণ খুশি ৭৪ বছর বয়সী ব্রুশ।
“আমার মনে হয়, কৌশলগতভাবে আমরা দারুণ একটা ম্যাচ খেলেছি। খুব ভালো ছিল এটা, সবাই মাঠে নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে… দলের পারফরম্যান্সে আমি অনেক গর্বিত।”
“যখন কোরিয়ানদের পায়ে বল ছিল, আমরা মাঠের সব ফাঁকা জায়গা বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছি এবং আমরা তাতে সফলও হয়েছি। আবার আমাদের পায়ে যখন বল এসেছে, তখন ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগিয়ে ওদের জন্য বিপদ তৈরি করেছি। আমাদের আক্রমণগুলো ছিল বেশ গতিময়, আর দলে এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যারা খালি জায়গাগুলো দারুণভাবে খুঁজে নিতে পারে।”
দক্ষিণ আফ্রিকার সবার মতো ব্রুশকেও ছুঁয়ে গেছে আবেগ। ম্যাচ শেষে সেটা নিয়েও বললেন আফ্রিকার দলটির কোচ।
“আবেগঘন মুহূর্ত ছিল এটা। আমরা মেক্সিকোতে এসেছিলাম গ্রুপ পর্বের বাধা পার করার লক্ষ্য নিয়ে… আর এটা আমার জন্য সত্যিই আবেগে ভরা মুহূর্ত ছিল। শুধু ম্যাচ জেতার কারণে নয়, আমার নিজের জন্যও। কারণ আগেও বলেছি, সম্ভবত এটি আমার কোচিং ক্যারিয়ারের শেষ দিকের কয়েকটি ম্যাচের একটি।”
আগামী রোববার শেষ বত্রিশের ম্যাচে কানাডার মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচটি থেকে ভালো ফলাফলের আশা করছেন ব্রুশ।
“নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখা এমন একটা দলের খেলা দেখা গেল আজ... আগামী রোববারও এমন এক দলকে দেখতে পাবেন যারা নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস রাখবে এবং ৯০ মিনিট, প্রয়োজনে আরও বেশি সময় লড়াই করে যাবে। এরপর দেখা যাক কী হয়। তবে আশা করি, আমরা একটি ইতিবাচক ফলাফল নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারব।”