Published : 28 Jun 2026, 07:31 AM
উজবেকিস্তানের জালে পাঁচ গোল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো পর্তুগাল আবার ছন্দ খুঁজে ফিরল। তুলনামূলক ভালো খেলল কলম্বিয়া, কিন্তু তারাও পেল না জালের দেখা। তবে মূল চাওয়া পূরণ হয়েছে তাদের। রোনালদো-ফের্নান্দেসদের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে গ্রুপ সেরা হয়েছে লাতিন আমেরিকার দলটি।
মায়ামি গার্ডেন্সে হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচটি গোলশুন্য ড্র হয়েছে।
বেশিরভাগ সময় পজেশন রাখার পাশাপাশি আক্রমণেও আধিপত্য করে কলম্বিয়া। গোলের জন্য ২৪টি শট নিয়ে ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। আর পর্তুগালের ১৩ শটের কেবল দুটি ছিল লক্ষ্যে।
অপরাজিত থেকে গ্রুপ সেরা হলো কলম্বিয়া। দুই জয় ও এক ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৭। এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে পর্তুগাল।
একই সময়ে শুরু আরেক ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ডিআর কঙ্গো। সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হয়ে নকআউট পর্বে উঠল তারা।
তিন ম্যাচেই হেরে বিদায় নিল উজবেকিস্তান।
ম্যাচের প্রথম আক্রমণেই দারুণ সুযোগ পেয়ে যায় কলম্বিয়া। যদিও শেষ পর্যন্ত কাছ থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি জন কর্দোবা। ১৭তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে পর্তুগাল গোলরক্ষকের পরীক্ষা নেন এই ফরোয়ার্ড, ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন দিয়োগো কস্তা।
প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগে প্রতিপক্ষের সীমানায় একটি ফ্রি কিক পায় পর্তুগাল। অনেক দূর থেকে রোনালদোর শট রক্ষণ দেয়ালকে ফাঁকি দিলেও, সোজাসুজি শটে অনায়াসে বল গ্লাভসে জমান কামিলো ভার্গাস।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে টানা আক্রমণে দারুণ কয়েকটি সুযোগ দৈরি করে পর্তুগাল। ৪০তম মিনিটে ডি-বক্সে ব্রুনো ফের্নান্দেসের জোরাল শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় আটকান ভার্গাস, ফিরতি বল পেয়ে রোনালদো অ্যাক্রোবেটিক শট রক্ষণে প্রতিহত হয়। দুই মিনিট পর জোয়াও ফেলিক্সের শট ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
বিরতির ঠিক আগে আরেকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া; তবে ডেডলক ভাঙেনি এবারও। হামেস রদ্রিগেসের দূর থেকে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে আটকান কস্তা।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১০ মিনিটে ভালো দুটি আক্রমণ শাণান ফেলিক্স। প্রথমবার ডি-বক্সের মুখে গিয়ে ডান পাশে ফের্নান্দেসের উদ্দেশে বল বাড়ান, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার সেটা ছেড়ে দেন রোনালদোর জন্য, কিন্তু তার আগেই ক্লিয়ার করেন এক ডিফেন্ডার। দ্বিতীয়বার নিজেই শট নেন ফেলিক্স, তবে সেটা লক্ষ্যে থাকেনি।
পরের ১০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে বারবার পর্তুগিজ রক্ষণে হানা দেয় কলম্বিয়া। দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের আগে গুস্তাভো পুয়ের্তার কোনাকুনি শট দূরের পোস্টের একটু দূর দিয়ে চলে যায় বাইরে।
নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট বাকি থাকতে আবারও প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ভীতি ছড়ায় কলম্বিয়ার। ডিফেন্ডার হুবেন দিয়াসের দারুণ নৈপুণ্যে সেবারও বেঁচে যায় তারা। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সানচেস হেডে বল জালে পাঠালে উল্লাসে ফেটে পড়ে কলম্বিয়ান গ্যালারি, কিন্তু অফসাইডের বাঁশিতে সেটা আর জয়োল্লাস হয়ে ওঠেনি।
শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে পর্তুগাল খেলবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত হয়নি; তারা খেলবে তৃতীয় হয়ে উঠে আসা কোনো এক দলের বিপক্ষে।