Published : 25 Jun 2026, 12:22 PM
এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি, এই সম্ভাবনায় চাপা উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ ফুটবল বিশ্বজুড়ে। অথচ একসময় তাদের দেখা হতো নিয়মিতই। স্মৃতির ভেলায় রেয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার সেই রুদ্ধশ্বাস ক্লাসিকোর দিনগুলিতে ফিরে গেলেন জোসে মরিনিয়ো। রেয়ালে নতুন করে পুরোনো দায়িত্বে ফেরা কোচ বললেন, দুই কিংবদন্তির দ্বৈরথের সময়টায় গোটা বিশ্ব তখন বুঁদ থাকত এই লড়াইয়ে।
রেয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার লড়াই এখনও হয়। সেই ক্লাসিকো যথেষ্টই উন্মাদনার জন্ম দেয়। তবে মেসি-রোনালদোর সময়ের সেই আবেগ এবং বিশ্বময় আবেদনে নিশ্চিতভাবেই ভাটা পড়েছে।
রেয়ালে ৯ বছরে স্মরণীয় সব ক্লাসিকো উপহার দিয়ে ২০১৮ সালে ইউভেন্তুসে পাড়ি জমান রোনালদো। মেসির সঙ্গে তার মুখোমুখি লড়াইও এরপর বিরল হয়ে পড়ে। সবশেষ ২০২৩ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজির মেসি ও রিয়াদ অল স্টারের রোনালদো। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দুজনের সবশেষ সাক্ষাৎ ২০২০ সালে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোনালদোর দুই গোলে ইউভেন্তুস ৩-০ গোলে হারায় মেসির বার্সাকে।

এই দুজনের দ্বৈরথ যখন তুঙ্গে, তখন তিন বছর রেয়ালের কোচ ছিলেন মরিনিয়ো। ১৩ বছর পর আবার তিনি ফিরছেন রেয়ালের ডাগআউটে। নতুন করে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রথম সাক্ষাৎকারে মার্কি সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ারকে তিনি শোনালেন সেই সময়ের ক্লাসিকোগুলোর কথা।
“আগে লোকে ক্লাসিকোগুলো যেভাবে দেখত, এখন আর আগের মতো করে দেখে না। তখন পুরো বিশ্ব থমকে যেত। এটা শুধু মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা বা স্পেনের ব্যাপার ছিল না, বরং ছিল পুরো বিশ্ব উৎসুক থাকত। লোকে ওই ম্যাচগুলোর জন্য অপেক্ষা করত।”
“অবশ্যই ক্রিশ্চিয়ানো এবং মেসি ছিলেন কিংবদন্তি। তারা ছিলেন বিশ্বের সেরা দুজন খেলোয়াড়। রেয়াল মাদ্রিদ বিশ্বের সেরা ক্লাব। রেয়াল মাদ্রিদের পর বার্সেলোনা বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলির একটি।”
রেয়াল প্রতি হৃদয়ের টান থেকেই আবার এখানে ফিরে এসেছেন বলে জানালেন মরিনিয়ো। তবে বার্সেলোনার প্রতি তার কোনো বিদ্বেষ নেই।
“মোটেও অস্বীকার করব না যে, আমি রেয়াল মাদ্রিদকে ভালোবাসি এবং এই কারণেই এখানে ফিরছি। কিন্তু বার্সেলোনার প্রতি আমার কোনো বাজে অনুভূতি নেই। তাদের বিপক্ষে খেলতে উপভোগ করি, কারণ ফুটবলে সেরাদের বিপক্ষে খেলতেই সবচেয়ে ভালো লাগে। সেরাদের সঙ্গে খেলেই নিজেরা আরও ভালো হওয়ার প্রেরণা মেলে।”
“ফুটবল তো ফুটবলই। ইন্টার মিলানে যাওয়ার আগে চেলসিতে থাকার সময় বার্সেলোনার বিপক্ষে বহুবার খেলেছি। চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বড় ম্যাচ, তারপর ইন্টারের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বড় ম্যাচ, এবং এরপর রেয়াল মাদ্রিদে যাই। আমার মনে হয়, নিয়তিই আমাদের একে অপরের বিপক্ষে দাঁড় করিয়েছিল।”
মরিনিয়োর খেলার ধরন অনেক সময় রক্ষণাত্মক বলে যে সমালোচনা আছে, সেটির প্রসঙ্গে অবশ্য ৬৩ বছর বয়সী কোচ ঠিকই টেনে আনলেন বার্সেলোনাকে।
“বার্সেলোনাকে এমন একটি দল হিসেবে দেখা হয় যারা অসাধারণ ফুটবল খেলে। এমন একটি দল হিসেবে তাদেরকে দেখা হয়, যারা প্রচুর গোল করে। কিন্তু এটা একটা বড় স্ববিরোধিতা। স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করা দলটি ছিল আমার রেয়াল মাদ্রিদ। ২০১১-১২ মৌসুমে, এক মৌসুমে ১২১টি গোল এবং ১০০ পয়েন্ট ছিল। সেই দলটি কতটা রক্ষণাত্মক ছিল?”