Published : 06 Oct 2023, 12:34 PM
বলা হয়ে থাকে পেশির ‘বিল্ডিং ব্লক’ হল প্রোটিন।
শুধু পেশি গড়তেই নয়, বেশি সময় ধরে পেটভরা অনুভূতি দেওয়ার পাশাপাশি রাতের বেলা অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছে কমাতেও ভূমিকা রাখে প্রোটিন ধরনের খাবার।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেল্থ (এনআইএইচ)’য়ের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়- ব্যক্তি, বয়স, কাজকর্মের ধরন ও স্বার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করবে প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ।
সাধারণভাবে পরামর্শ হল- শরীরের প্রতি পাউন্ড ওজন হিসেবে দৈনিক অন্তত ০.৩৬ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা দরকার। যেমন- কারও ওজন যদি ১৫০ পাউন্ড অর্থাৎ ৬৮ কেজি হয়, সেক্ষেত্রে তাকে অন্তত ৫৪ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে প্রতিদিন।
এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন পুষ্টিবিদ ট্রিস্টা বেস্ট ইটদিসনটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরামর্শ দেন, “ওজন কমানোর যাত্রায় সাধারণত দেহের প্রতি পাউন্ড ওজনের জন্য প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ ০.৬ থেকে ০.৮ গ্রাম করা ভালো। এর ফলে যেমন খিদা নিয়ন্ত্রণে থাকে তেমনি পেশিও থাকবে দৃঢ়। কারও কারও ক্ষেত্রে বিশেষ করে যারা বেশি কর্মক্ষম বা অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান তাদের প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। যার ফলে খিদা কম লাগার পাশাপাশি পেশিও সুরক্ষিত থাকবে। এক্ষেত্রে পরিমাপ হতে পারে প্রতি পাউন্ড ওজন হিসেবে ০.৮ থেকে ১.২ গ্রাম।”
আর প্রোটিনের গুণগত মানও এক্ষেত্রে গুরুত্ব পূর্ণ। চর্বিহীন মাংস, মাছ, দুগ্ধজাত খাবারের পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ খাবার যেমন- ডাল ও ছোলা ভালো প্রোটিনের উৎস।
তবে মনে রাখতে হবে, ওজন কমাতে প্রোটিন গ্রহণ উপকারী হলেও অতিরিক্ত গ্রহণে হিতে বিপরীত হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিন শরীরে কাজে লাগে, পেশি নির্মাণে কাজ করে। অতিরিক্ত হলেই সেটা চর্বি হিসেবে দেহে জমা হবে।
এছাড়া ‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া’র সাথে যুক্ত হয়ে ‘কোরিয়া ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ মেডিসিন’ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ‘লং বিচ ভ্যাটেরান অ্যাফেয়ার্স হেল্থ সিস্টেম’য়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে- অতিরিক্ত প্রোটিন কোনো কোনো ক্ষেত্রে বৃক্কের ওপরেও চাপ ফেলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।
বেশি মাত্রায় প্রোটিন গ্রহণ মানে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া। অথচ দেহ সুস্থ রাখতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন।
এই কারণে ওজন কমানোর যাত্রায় সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে অবশ্যই অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন
সকালের সঠিক কাপ চায়ে কমতে পারে ওজন