Published : 12 Sep 2025, 05:25 AM
বর্জন ও অনিয়মের অভিযোগ তোলার মধ্যে দিয়ে হয়ে যাওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে ঢিমেতালে।
ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চারটি হলের ভোট গণনা শেষ করতে পেরেছেন নির্বাচনি কর্মকর্তারা।
একে একে গণনা করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হল ছাত্র সংসদের ভোট।
বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে সিনেট ভবনে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা ভোট গণনা কক্ষের কর্মকর্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম, মীর মশাররফ হোসেন, আ ফ ম কালাম উদ্দিন হল ও শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। আর শেষ পর্যায়ে রয়েছে ভাষানী হলের ভোট গণনা।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় ভোট শেষে হলের কেন্দ্রগুলো থেকে বাক্সগুলো সিনেট ভবনে আনা হয়। পরে রাত ১০টার কিছু পরে শুরু হয় ভোট গণনা।
সবার আগে কাজী নজরুল ইসলাম ও মীর মশাররফ হোসেন হলের বাক্স খুলে গণনা শুরু হয়।
আরও পড়ুন:
'খারাপ' ভোটও 'নো জাকসুর' চেয়ে ভালো, বর্জন করছে না বাগছাস
জাকসু নির্বাচন: রাতে জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
সিনেট ভবনে কর্মকর্তারা ঘোষণা দেন, একসঙ্গে দুটি করে হলের ভোট গণনা করা হবে। প্রথমে হল সংসদের, এরপর কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা হবে।
সিনেট হলে পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে চলছে ভোট গণনা। যেখানে শুধু হল সংসদের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা উপস্থিত রয়েছেন।
এরপর কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনার সময় তাদের পোলিং এজেন্টদের ডাকা হবে।

একটি একটি করে হলের ফল গণনা শেষ হলেও সেটির প্রাথমিক ফলও বাইরে অপেক্ষমান প্রার্থী কিংবা সংবাদমাধ্যমকে বলা হচ্ছে না। পরে একসঙ্গে ফল ঘোষণা করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে।
সিনেট ভবনের হলের বাইরে অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী, কিছু প্রার্থীদের প্রতিনিধিকে অপেক্ষমান দেখা গেছে, সঙ্গে রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা।
ভবনের বাইরে মধ্যরাত অবধি বেশকিছু শিক্ষার্থীর সমাগম দেখা যায়। অনেকে গান-বাজনা করে সময় কাটাচ্ছিলেন। তবে ভোট গণনায় ধীরগতির কারণে তারা পর্যায়ক্রমে এলাকা ছেড়ে যান।
সবশেষ অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী সিনেট ভবন এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। আর রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য।
আরও পড়ুন:
জাকসু নির্বাচন: রাতে জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
জাকসু: ভোট বর্জন করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি চার প্যানেলের
ভোট গণনা পরিস্থিতি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বেশ কয়েকটি স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে। সেসব স্ক্রিনের সামনে ছোট কিছু জটলা রয়েছে শিক্ষার্থীদের। তবে সেখানে ভোটের ফলের কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।
ভোট নিয়ে আগের কয়েকদিন যে উৎসাহ এবং দিনের শুরুর দিকে উত্তেজনা ছিল ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলসহ পাঁচটি প্যানেলের প্রার্থীরা ভোট বর্জন করায় সেই আমেজের অনেকটাই ভাটা পড়েছে।
এর আগে রাত পৌনে ৩টার দিকে নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক খো. লুৎফুল এলাহী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন শুধু হল সংসদের ভোট গণনা চলছে। হলের ভোট গণনা শেষ হলে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা শুরু হবে। মনে হচ্ছে, জুমার নামাজের আগে শেষ হবে না।”

তিনি বলেন, “শিক্ষক-কর্মকর্তারা সারাদিন হলে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন আবার তারা সিনেট ভবনে ভোট গণনায় দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা ক্লান্ত। এ কারণে ভোট গণনা ধীর গতিতে হচ্ছে।
“সকালে যদি ২১টি হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়; তারপর কেন্দ্রের ব্যালট গণনা শুরু হবে। সব মিলিয়ে ফলাফল ঘোষণা করতে করতে নামাজের পর চলে যেতে পারে।”
৩৩ বছর পর প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর এই ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ২১টি হলে বড় ধরনের কোনো গোলযোগ ছাড়াই ভোট গ্রহণ বিকাল ৫টায় শেষ হয়। এতে ভোট পড়েছে ৬৮ শতাংশ।
আরও পড়ুন:
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলে সোয়া ঘণ্টা ভোট বন্ধ, নিরাপত্তা জোরদার
জাকসু: এবার নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা 'সম্প্রীতির ঐক্যের'
জাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা 'সংশপ্তক পর্ষদের'
জাকসুর ব্যালট-মেশিন ‘জামায়াতের কোম্পানির’, পক্ষপাতের অভিযোগ ছাত্রদলের