Published : 11 Sep 2025, 02:16 PM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের ভোটে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শেখ সাদী হাসান।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ জানান তিনি।
শেখ সাদী হাসান বলেছেন, “ভোট গ্রহণের আগের রাতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পাই যে, জামায়াতে ইসলামীর কোনো এক অখ্যাত কোম্পানি থেকে যথাযথ ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নির্বাচন কমিশন জাকসু নির্বাচনের ব্যালট পেপার ও ভোট গণনার ওএমআর মেশিন সরবরাহ করেছে।”
তিনি বলেন, “বিষয়টি জানাজানি হলে চাপের মুখে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ওএমআর মেশিনের পরিবর্তে ম্যানুয়ালি ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।”
ভিপি প্রার্থী আরও বলেন, “কিন্তু একই কোম্পানি সরবরাহ করা ব্যালট পেপার দিয়ে আজকে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। সেই কোম্পানি থেকে আরও ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে নীলনকশার মাধ্যমে ছাত্রশিবির জয়ী হতে পরিকল্পনা করছে বলে আমরা মনে করছি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই কোম্পানির ব্যালট দিয়েই ভোটগ্রহণ করছে। এ ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
শেখ সাদী হাসান বলেন, “তারপরও আমরা আশা রাখছি যে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে এবং ছাত্রশিবিরের এই নীলনকশা বাস্তবায়নে অপতৎপরতা চালাবে না।”
জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ক্যাম্পাসের আশপাশে জড়ো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী।
তিনি বলেন, “এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারাবেন। এখানে শিক্ষার্থীরা ভোট দেবেন। কিন্তু গেইটের বাইরে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের কী কাজ আমরা বুঝতে পারছি না।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুপুরে জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মাফরুহি সাত্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রথম দিকে ব্যালট পেপার ওএমআর মেশিনে গণনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু মেশিনে ভোট গণনার বিষয়ে একটি ছাত্র সংগঠন (ছাত্রদল) অভিযোগ দিয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কমিশনের পক্ষ থেকে ভোট ম্যানুয়ালি গণনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”