Published : 05 Jul 2023, 01:30 PM
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় এইডিস মশার প্রজননস্থল খুঁজতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি যখন ‘চিরুনি অভিযান’ অভিযান চালাচ্ছে, উত্তর সিটি তখন শুরু করেছে ড্রোন জরিপ।
গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোন উড়িয়ে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্তে ভালো ফল পাওয়ায় এবার পুরো সিটিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা।
বুধবার ঢাকার আদাবর-মোহাম্মদপুর এলাকার সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রোন সার্ভে শুরু হয়। একই সঙ্গে উত্তর সিটির পাঁচটি এলাকায় চলছে এই ড্রোন জরিপ।
অনুষ্ঠানে সেলিম রেজা বলেন, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে দুই কিলোমিটার দূরত্বে যেতে সক্ষম এসব ড্রোন দিয়ে ছাদ বাগান রয়েছে এমন উঁচু ভবনগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। ছবিতে যেসব বাড়ির ছাদবাগানে জমে থাকা পানির অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা গিয়ে লার্ভা শনাক্ত করছেন এবং নিধন করছেন।
আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সিটি করপোরেশনের পুরো এলাকায় এই ড্রোন সার্ভে শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করেছে উত্তর সিটি। পাশাপাশি আগামী ৮ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে মশক নিধরনের ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’।
সেলিম রেজা বলেন, “পুরো উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় সার্ভে শেষ করতে ১৫ কার্যদিবস লাগবে। আজ শুরু হল। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।”
উত্তর সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শফিকুর রহমান বলেন, “ধরুন কারো একটা পাঁচ কাঠা জয়গা আছে যেটা চারদিক থেকে দেয়াল দিয়ে ঘেরা। সেখানে আমাদের লোকজন চাইলেই ঢুকতে পারছে না। এসব জায়গা আমরা ড্রোনের সাহায্যে উপর থেকে ছবি নিয়ে চিহ্নিত করতে পারি।
“আমাদের বাসায় ফ্রিজ আছে। সেই ফ্রিজে যদি পানি জমে থাকে সেটা তো আর সিটি করপোরেশনের লোকজন চিহ্নিত করতে পারবে না। তাই আমাদের প্রত্যেকের নিজেদের উদ্যোগী হয়ে এই অভিযানে সামিল হতে হবে। সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি, তাহলে এইডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
গত বছর উত্তর সিটির তিন লাখ ৬৫ হাজার বাড়ির ছবি সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৮০০ বাড়িতে ছাদবাগান পাওয়া যায়। তার মধ্যে প্রায় আড়াইশ বাড়িতে পাওয়া গেছে মশার লার্ভা। ড্রোন দিয়ে লার্ভা চিহ্নিত করা সম্ভব না। তবে সেখানে ছাদ বাগান ও বাগানে জমা পানি চিহ্নিত করা যায়।

সেলিম রেজা বলেন, “উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি বাড়ির ছাদ স্টাডি করে দেখতে চাই। আজকে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকাতে পাঁচটি ড্রোন এক সাথে ওড়াচ্ছি। আমরা হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করতে চাই। নতুন এই উদ্যোগে সম্মানিত নগরবাসীকে যুক্ত করতে চাই।”
তিনি বলেন, এইডিস মশা উন্মুক্ত জায়গায় পানি জমে থাকলে সেখানে ডিম ছাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এইডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
“বৃষ্টি হচ্ছে, আবার রোদ উঠে যাচ্ছে। তিন দিন পানি জমে থাকলে সেখানে এইডিস মশার লার্ভা হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিএনসিসি, স্কাউট, গার্লাস গাইড, ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই কাজে অন্তর্ভুক্ত করেছি।
“আমাদের টিম স্কুলে স্কুলে গিয়ে কাজ করছে, তাদেরকে মোটিভেশন করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এইডিস মশা প্রতিরোধী কাজগুলো নিয়ে যেতে চাচ্ছি। পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে চাচ্ছি। পাশাপাশি মসজিদে মসজিদে খুতবাতে এই বক্তব্যগুলো নিয়ে যেতে চাচ্ছি।”
কয়েকটি স্লোগানের মাধ্যমেও মশক নিধন অভিযানের কর্মসূচি তুলে ধরেন সেলিম রেজা।
তিনি বলেন, “১০টায় ১০ মিনিট প্রতি শনিবার/ নিজ নিজ বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার।
“এখন আর বলছি না যে, ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’। এখন বলছি, প্রতিদিন, জমা পানি ফেলে দিন।”
ঢাকায় এইডিস মশার বিস্তার ৫ বছরে এবারই বেশি
ডেঙ্গুর ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ ঢাকার ৫৫ ওয়ার্ড
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ঢাকায় এবার এইডিস মশার উপস্থিতি পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পর্যায়ে।
অধিদপ্তরের জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটির ৫৫টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছে।এর মধ্যে দক্ষিণ সিটির ৮টি এবং উত্তর সিটির ২৭টি ওয়ার্ড রয়েছে।
বছরের সাত মাস না যেতেই সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এরই মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, “এবছর এইডিস মশা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই আপনি আমি বসে থাকতে পারি না। আমরা সবাই মিলে এইডিস মশার বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি, সেখানে আপনাদের সবাইকে সাথে চাই।”