Published : 12 Apr 2026, 06:23 PM
ভারতের সুরকার এ আর রহমানের সুরে সিনেমার বহু গান গেয়েছেন সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। এই গায়িকার মৃত্যুতে শোকার্ত সুরকার রহমান।
নিজের ইনস্টাগ্রামে আশা ভোঁসলের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন অস্কারজয়ী এই সুরকার শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
ছবির ক্যাপশনে রহমান লিখেছেন, “তিনি তার কণ্ঠ ও জ্যোতি নিয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন...কী অসাধারণ একজন শিল্পী।”
রহমানের সুরে বহু সিনেমায় গান গেয়েছেন আশা ভোঁসলে। ১৯৯৫ সালে রহমানের সুর করা প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘রাঙ্গিলা’তে ‘তানহা তানহা’ ও ‘রঙ্গিলা রে’ গান দুটো গেয়েছিলেন আশা। এরপর নিয়মিতই রেহমানের সুরে গেয়েছেন এই কালজয়ী গায়িকা।
রহমানের সুর করা ‘তাল’, ‘তক্ষক’, ‘কাভি না কাভি’, ‘দৌড়’, ‘লাগান’-এর মত সিনেমায় প্লেব্যাক করেন আশা।
রোববার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মারা যান আশা ভোঁসলে; তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের ছোট বোন আশা ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে আর ফিরলেন না তিনি।

আট দশকের বেশি সময় ধরে ২০টি ভিন্ন ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পাওয়া শিল্পী আশা ভোঁসলে। তার জন্ম ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর।
বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের হাত ধরে সংগীতজীবনে পা রেখেছিলেন আশা ভোঁসলে। সময়টা ছিল ১৯৪৩ সাল। প্রথম প্লেব্যাক করেন মারাঠি সিনেমায়।
এরপর ১৯৪৮ সালে ‘চুনারিয়া’ সিনেমায় ‘খাতু আয়া’ গানের মধ্য দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক জগতে তার যাত্রা শুরু। তিনি প্রথম এককভাবে হিন্দি গানে কণ্ঠ দেন ১৯৪৯ সালে। শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, পপ, গজলসহ বিভিন্ন ঘরানার গান গেয়ে ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ তিনি।
গত শতকের ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ৭০ ও ৮০-র দশক পর্যন্ত আশা ভোঁসলে ছিলেন একপ্রকার অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের জন্য বরাদ্দ প্রচলিত কণ্ঠধারাকে তিনি বদলে দেন, যা হয়ে ওঠে আধুনিক ভারতীয় নারীর প্রতীক।
১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়েই তার ভিন্ন মেজাজের কণ্ঠের কাজ শ্রোতাদের আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে তার কালজয়ী কাজগুলো ব্যাপক সাফল্য এনে দেয়।
এনডিটিভি লিখেছে, ৬০ ও ৭০-এর দশকের আধুনিক ও পশ্চিমা প্রভাবিত সংগীতের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে ভারতীয় সংগীত জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন আশা ভোঁসলে।
প্রাণবন্ত গজল থেকে শুরু করে ক্যাবারে কিংবা রক অ্যান্ড রোল—সবখানেই অবাধ বিচরণ তাকে ‘কুইন অব ভার্সেটাইল’ খেতাব এনে দেয়।
তিনি প্রথার বাইরে গিয়ে নিজের চলার পথ বেছে নিয়েছিলেন সচেতনভাবেই।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতি অদম্য ঝোঁকের কারণেই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবে জায়গা করে নেন আশা ভোঁসলে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আশা ভোঁসলে শর্মিলা ঠাকুর, আশা পারেখ, রেখা, উর্মিলা মাতণ্ডকর, কারিশমা কাপুর, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন থেকে শুরু করে শমিতা শেঠি পর্যন্ত আরও বহু অভিনেত্রীর জন্য গান গেয়েছেন।
ঢাকাই সিনেমার যে গান কণ্ঠে তুলেছিলেন আশা ভোঁসলে
যন্ত্রণাময় দাম্পত্য থেকে আত্মহননের চেষ্টা, আশার জীবনের এক অধ্যায়