Published : 12 Apr 2026, 05:34 PM
আট দশক ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের কয়েক প্রজন্মের শ্রোতাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা শিল্পী আশা ভোঁসলের পদচারণা ছিল ঢাকাই সিনেমার গানেও। ‘বিরোধ’ ও ‘অবিচার’ নামে আশির দশকে মুক্তি পাওয়া দুইটি সিনেমার গান ইউটিউবে পাওয়া গেছে, যেগুলোয় প্লেব্যাক করেছেন আশা।
‘অবিচার’
সৈয়দ হাসান ইমাম ও শক্তি সামন্ত পরিচালিত ‘অবিচার’ সিনেমায় ‘নাগর আমার কাঁচা পিরিত’ গানটি গেয়েছেন আশা। এই গানে তার সহশিল্পী ছিলেন ভারতীয় গায়ক শৈলেন্দ্র সিং।
বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনার এই সিনেমা মুক্তি পায় ১৯৮৫ সালে। আশা ও শৈলেন্দ্রর গাওয়া গানটির কথা লিখেছেন গৌরী প্রসন্ন মজুমদার আর সুর করেছেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আশা ভোঁসলের স্বামী রাহুল দেববর্মণ।
এই সিনেমায় অভিনয় করেন বাংলাদেশের রোজিনা, নুতন এবং ভারতের উৎপল দত্ত, মিঠুন চক্রবর্তীসহ আরও কয়েকজন।
‘বিরোধ’
১৯৮৬ সালে মুক্তি পায় ‘বিরোধ’; বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনার এই সিনেমায় আশা ভোঁশলে গেয়েছেন ‘মায়াবী এই নেশায়’ গানটি।
প্রমোদ চক্রবর্তীর পরিচালনায় এই গানেরও কথা লিখেছেন গৌরী প্রসন্ন মজুমদার আর সুর করেছেন রাহুল দেববর্মণ। এই সিনেমার ‘তোরে আঁচলে’ শিরোনামের আরও একটি গানটি গেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। নায়ক-নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রাজেন খান্না ও শাবানা।
গত শতকের ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ৭০ ও ৮০-র দশক পর্যন্ত আশা ভোঁসলে ছিলেন একপ্রকার অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের জন্য বরাদ্দ প্রচলিত কণ্ঠধারাকে তিনি বদলে দেন, যা হয়ে ওঠে আধুনিক ভারতীয় নারীর প্রতীক।
১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়েই তার ভিন্ন মেজাজের কণ্ঠের কাজ শ্রোতাদের আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে তার কালজয়ী কাজগুলো ব্যাপক সাফল্য এনে দেয়।

এনডিটিভি লিখেছে, ৬০ ও ৭০-এর দশকের আধুনিক ও পশ্চিমা প্রভাবিত সংগীতের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে ভারতীয় সংগীত জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন আশা ভোঁসলে।
প্রাণবন্ত গজল থেকে শুরু করে ক্যাবারে কিংবা রক অ্যান্ড রোল—সবখানেই অবাধ বিচরণ তাকে ‘কুইন অব ভার্সেটাইল’ খেতাব এনে দেয়।
তিনি প্রথার বাইরে গিয়ে নিজের চলার পথ বেছে নিয়েছিলেন সচেতনভাবেই।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতি অদম্য ঝোঁকের কারণেই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবে জায়গা করে নেন আশা ভোঁসলে।
১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রের সাংলিতে এক সংগীত পরিবারে জন্ম নেওয়া আশা চলে গেছেন রোববার ৯২ বছর বয়সে।
যন্ত্রণাময় দাম্পত্য থেকে আত্মহননের চেষ্টা, আশার জীবনের এক অধ্যায়