Published : 28 Jun 2025, 12:48 PM
আরো খানিকটা পরিস্কার হল ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট ‘জেমস বন্ডের’ ভবিষ্যৎ দৃশ্যপট। ইয়ন ফিল্মসের হাত থেকে এই সিনেমার প্রযোজনার দায়িত্ব অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওর হাতে পৌঁছানোর চারমাসের মাথায় জানা গেল, নতুন জেমস বন্ড পরিচালনর দায়িত্ব নিচ্ছেন কোন নির্মাতা।
বিবিসি জানিয়েছে, আগামী ‘বন্ড’ সিনেমা পরিচালনা করবেন প্রখ্যাত কানাডিয়ান পরিচালক ডেনিস ভিলেনিউভ।
এই বিবৃতিতে অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস জানিয়েছে, ‘ডিউন’, ‘অ্যারাইভাল’ আর ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’ এর মত সিনেমার জন্য পরিচিত অস্কার জয়ী এই নির্মাতা ‘০০৭’ এর হাল ধরছেন এবার।

তবে নির্মাতা ঠিক হলেও এখনো নির্ধারণ হয়নি ‘বন্ড’ হচ্ছেন কোন অভিনেতা। এ ব্যাপারে অ্যামাজন মুখ খোলেনি।
পরিচালক ভিলেনিউভ নতুন জেমস বন্ডের নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে ভিলেনিউভ নিজেকে জেমস বন্ডের একজন ‘আজীবন ভক্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি আমার বাবার সাথে বন্ডের সিনেমা থেকে বড় হয়েছি। শন কনারির ‘ড. নো’ দেখার পর থেকে আমার জন্য বন্ড মানে এক পবিত্র ঐতিহ্য। সেই থেকে আমি গোয়েন্দার সাথে আছি। আমি সেই ধারাবাহিকতাকে সম্মান জানাতে চাই এবং সামনে আরও অনেক মিশনের পথ খুলে দিতে চাই।”
ভিলেনিউভ বলেছেন, বন্ড পরিচালনা করা নিঃসন্দেহে ‘বিশাল দায়িত্ব’; তবে সেটি ‘রোমাঞ্চকর চ্যালেঞ্জ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভিলেনিউভ বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘদিনের প্রযোজনার দায়িতত্বে থাকা বারবারা ব্রকোলি ও মাইকেল জি উইলসন দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে ভক্তদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তা নিশ্চই কাটতে চলেছে।”
অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওসের প্রধান মাইক হপকিন্সের কথায়, “ভিলেনিউভ ‘সিনেমা দুনিয়ার মাস্টার।”
“বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্য দুর্দান্ত গল্প উপহার দিতে তার সত্যিই জুড়ি নেই।”

মাইক হপকিন্স বলেছেন, ভিলেনিউভের সিনেমাগুলোতে ভিজ্যুয়াল আর চরিত্রভিত্তিক গভীরতা মিলে তৈরি হয় ভিন্নধর্মী দৃশ্যকল্প। তার চরিত্রগুলো সাধারণত একা। তারা ভোগেন নৈতিক দোটানা আর টানাপোড়েনে।
ছয় দশকের বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট জেমস বন্ডের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল ইয়ন ফিল্মস। বন্ড কে হবেন, তার চলাফেরা থেকে শুরু করে অস্ত্র তাক করার স্টাইল কেমন হবে সব ঠিক করতেন ইয়নের স্বত্বাধিকারী মাইকেল জি উইলসন ও বারবারা ব্রোকলি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ ৬৩ বছর পর বন্ডের উপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ হারায় ইয়ন ফিল্মস।
অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিও ও ইয়ন ফিল্মসের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। ওই চুক্তির ফলে উইলসন ও ব্রোকলি এককভাবে বন্ডের সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ হারায়।
সে সময় এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে উইলসন ও ব্রোকলি সহ স্বত্বাধিকারী হিসেবে থাকছেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে। সিনেমার নতুন পর্বের সিদ্ধান্ত থেকে অভিনয়শিল্পী নির্বাচনসহ সৃজনশীল সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করবে অ্যামাজন এমজিএম।
সিনেমার নতুন পর্ব কবে আসবে, আগামী বন্ড কে হবেন, অন্যান্য অভিনয়শিল্পী কারা হচ্ছেন-সব কিছুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এখন অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওর হাতে।
১৯৬২ সালে শন কনেরি অভিনীত জেমস বন্ডয়ের প্রথম ছবি ‘ড. নো’ দিয়ে ব্রিটিশ গুপ্তচরকে প্রথম পর্দায় আনা হয়। আর ২০০৬ সালে ‘ক্যাসিনো রয়্যাল’ দিতে শুরু করে গত ১৫ বছরে অত্যন্ত ব্যবসাসফল পাঁচটি জেমস বন্ড সিনেমায় অভিনয় করার পর ব্রিটিশ স্পই চরিত্রটিকে ২০২১ সালে বিদায় জানান ড্যানিয়েল ক্রেইগ। ২০২১ সালের শেষের দিকে ‘নো টাইম টু ডাই’ মুক্তির মধ্য দিয়ে তার বন্ড অধ্যায় শেষ হয়।
পর জেমস বন্ডের নতুন সিনেমা হবে এই সিরিজের ২৬তম সিনেমা।
২০২২ সাল থেকে নতুন বন্ড খুঁজতে আঁটঘাট বেঁধে নামেন উইলসন ও ব্রোকলি, যদিও তার কোনো ফলাফল আসেনি।
ক্রেইগের বিদায়ের পর সে সময় বন্ড ফ্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দুটি শর্তে কোনো নড়চড় নেই। সেগুলো হল বন্ডের বয়স এবং উচ্চতা। নতুন বন্ডকে ৩০ থেকে ৩২ বছর বয়সী হতে হবে, যাতে দীর্ঘসময় তাদের সঙ্গে সেই অভিনেতা থাকতে পারেন। এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল উচ্চতা। নতুন বন্ডের উচ্চতা কম হলেও হতে হবে ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি।

এছাড়া নির্মাতারা চাইছিলেন, বন্ড হয়ে যে অভিনেতাই আসুন না কেন, তাকে আগামী অন্তত এক থেকে দেড় দশক বন্ড হয়ে থাকতে হবে। অভিনেতার অভিনয় গুণ এবং যাবতীয় শর্ত পূরণ হলে তবেই নতুন বন্ডের নাম ঘোষণা করা হবে।
অ্যামাজনের হাতে কী হবে জেমস বন্ডের?
এক দশক চালিয়ে যাবেন, খোঁজা হচ্ছে এমন বন্ড