Published : 08 Dec 2025, 05:51 PM
পরিকল্পনা ছিল বেলুন ফুলিয়ে, বাঁশি বাজিয়ে, কেক কেটে মহা ধুমধামে উদযাপন হবে হিন্দি সিনেমার ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্রর জন্মদিন। সেই সুযোগ তিনি দেননি। ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে ধর্মেন্দ্র এখন স্বজন, ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে কেবলই স্মৃতি।
ধর্মেন্দ্রর জন্মদিনে স্ত্রী অভিনেত্রী হেমা মালিনী তাকে নিয়ে কিছু কথা লিখেছেন ইনস্টাগ্রামে। লিখেছেন তার মেয়ে এশা দেওলও। এশার কথা, ‘বাবা তোমাকে হৃদয়ের নিভৃতে শক্ত করে ধরে রেখেছি’।
দুইটি ছবির সাথে যে পোস্টটি এক্সে হেমা মালিনী দিয়েছেন, তার ক্যাপশনে লিখেছেন ‘ধরমজি’।
Dharam ji
Happy birthday my dear heart❤️
More than two weeks have passed since you left me heartbroken, slowly gathering up the pieces and trying to reconstruct my life, knowing that you will always be with me in spirit. The joyful memories of our life together can never be… pic.twitter.com/zY3QBJN0YE
— Hema Malini (@dreamgirlhema) December 8, 2025
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “দুসপ্তাহের বেশি সময় হয়ে গিয়েছে তুমি নেই। আমার হৃদয় ভেঙে চুরমার। ধীরে ধীরে হৃদয়ের টুকরো কুড়িয়ে আমার জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। যদিও জানি তুমি সবসময় আমার পাশেই আছ। আমাদের জীবনে একসঙ্গে কাটানো আনন্দময় মুহূর্ত কখনও মুছবে না। এবং এই মুহূর্তগুলোই আমাকে আনন্দ দেবে।
“আমি ভগবানকে ধন্যবাদ জানাই যে এমন সুন্দর এতগুলি বছর কাটাতে পেরেছি। দুই মেয়ের জন্য আমাদের সম্পর্কের বাঁধন আরও অটুট হয়েছে। সেসব সুখস্মৃতি সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে।”
তিনি আরও লেখেন, “ভগবানের কাছে একটাই প্রার্থনা তোমাকে সুখ এবং শান্তি দিন, যেমনটা তোমার প্রাপ্য হওয়া উচিত।”
প্রেম করে বিয়ে করার কারণে দীর্ঘদিন চর্চায় ছিলেন ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনী। ১৯৭০ সালে প্রথম দুজন পর্দা ভাগাভাগি করেন ‘তুম হাসিন ম্যায় জাওয়ান’ সিনেমায়। আর তাদের চার হাত এক হয় ১৯৭৯ সালে।
তবে দুই অভিনেতার মন দেওয়া-নেওয়া যখন শুরু, তখন ধর্মেন্দ্র বিবাহিত এবং চার সন্তানের জনক।
হেমা মালিনীকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেলেও প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে তালাক মেলেনি এই নায়কের। অগত্যা বলিউডের এই দুই তারকা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং সেই ধর্মমতেই বিয়ে করেন। ধর্মেন্দ্র ‘দিলওয়ার খান কেওয়াল কৃষ্ণ’ নামে পরিচিত হন। এই দম্পতির দুই মেয়ে এশা দেওল ও অহনা দেওল।
ধর্মেন্দ্র ও হেমামলিনী একসঙ্গে কাজ করেছেন ৩০টির বেশি সিনেমায়। সেগুলোর মধ্যে ‘সীতা অউর গীতা’, ‘ড্রিমগার্ল’, ‘শরিফ বদমাশ’, ‘জুগনু’, ‘দোস্ত’ কালজয়ী হয়।
বাবাকে নিয়ে এশা দেওল লিখেছেন, “বাবা সবসময়ই আমরা সবসময় একসঙ্গেই আছি। তা সে স্বর্গ হোক কিংবা পৃথিবী। এখন আমি এখনও হৃদয়ে বড় শক্ত করে ধরে রেখেছি তোমায়। জীবনের বাকিটা সময়ও ঠিক একই রকমভাবে তোমাকে ধরে রাখতে চাই।”
ধর্মেন্দ্র ও তার প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সংসারে ধর্মেন্দ্রর চার সন্তান। তারা হলেন সানি দেওল, ববি দেওল, অজিতা দেওল ও বিজিতা দেওল। তবে ধর্মেন্দ্র অনেক বছর ধরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গেই এক বাড়িতে থাকতেন।
ছয় দশকের বেশি সময় তিনশোর বেশি সিনেমায় অভিনয়ে অসামান্য প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন ধর্মেন্দ্র। তাকে বলা হত গ্রিক দেবতা, মাটির ছেলে, ফ্যামিলি ম্যান। সবচেয়ে বড় কথা, তার মনটাও ছিল পর্দার মতই খোলা।
ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে প্রায় একমাস ভুগে গত ২৪ নভেম্বর অনন্তলোকে পাড়ি দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র।
ধর্মেন্দ্রর পুরো নাম ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষাণ দেওল। ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের নাসরালিতে তার জন্ম। দ্ররিদ্র কৃষক পরিবারের এই সন্তানটির শৈশব থেকে সিনেমার প্রতি প্রবল টান অনুভব করতেন।১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার 'ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় জিতে' পা রাখেন বলিউডে। ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্র। সেই থেকে শুরু।
ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে ‘ফুল অউর পাথথর’ এবং ‘অনুপমা’, ‘আয়ে দিন বাহার কে’ সিনেমায় রোমান্টিক নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে নামের সঙ্গে ‘নায়ক’ তকমা লাগান ধর্মেন্দ্র।
এছাড়া ‘ধর্ম বীর’ ও ‘হুকুমত’ এর মত সিনেমায় ধর্মেন্দ্র পর্দা কাঁপিয়েছেন অ্যাকশন হিরো হিসেবে। নাম করেছেন ‘বন্দিনী’, 'আনপাড়', ‘সত্যকাম’, 'আয়া সাওয়ান ঝুমকে', 'ড্রিম গার্ল', 'মেরা গাঁও মেরা দেশ', 'দোস্ত' সহ আরও বহু সিনেমা করেও।
শুরুতে নায়ক হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে কমেডি চরিত্রে অভিনয়ের শক্তিশালী ছাপ রাখেন ধর্মেন্দ্রে। বিশেষ করে হৃষিকেশ মুখার্জি পরিচালতি ‘চুপকে চুপকে’ সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারের মাইলফলক হিসেবে ধরা হয়।
তবে ধর্মেন্দ্রর ক্যারিয়ার ঘুরে দাঁড়ায় রমেশ সিপ্পির কালজীয় সিনেমা ‘শোলে’ দিয়ে। ঠাকুরের ডাকে জয় আর বীরু নামের দুই তরুণ মাস্তানের ডাকাত ধরার সিনেমা হয়ে ওঠে বলিউডের ইতিহাস। সিনেমায় ধর্মেন্দ্র ও অমিতাভ অভিনীত জয় ও বীরুর বন্ধুত্ব আজও মনে রেখেছেন দর্শকরা।
আশির দশকে ‘নওকর বিবি কা’, ‘গুলামি’, ‘ইনসানিয়ত কে দুশমন’, ‘লোহা’ সিনেমায় আবার ফিরে আসে ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তা। নব্বইয়ের দিকে সেই জৌলুসে ভাটার টান এলেও নিজেকে বদলে ধর্মেন্দ্র হয়ে ওঠেন ‘চরিত্রাভিনেতা’।
২০১২ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘পদ্মভূষণ’ পান তিনি।
ধর্মেন্দ্রকে শেষবার দেখা গেছে ‘তেরি বাতো মে অ্যায়সা উলঝা জিয়া’। ওই সিনেমায় শাহিদ কাপুর এবং কৃতি শ্যানন অভিনয় করেছিলেন।
এছাড়া ধর্মেন্দ্রর শেষ সিনেমা ‘ইক্কিস’ আসছে আগামী মাসের ২৫ তারিখে। শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত সিনেমাটির ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে।
আরও পড়ুন
বীরুকে হারিয়ে জয় লিখলেন, 'চারপাশ শূন্য '
'শোলের' জয় গাড়ি চালিয়ে গেলেন বীরুকে দেখতে
ধর্মেন্দ্র মৃত্যুর খবর 'গুজব' বললেন মেয়ে এশা, ক্ষুব্ধ হেমা মালিনী
ধর্মেন্দ্র হাসপাতালে কেমন আছেন