Published : 17 Jul 2026, 10:09 PM
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালীমন্দির চত্বরে নির্মাণাধীন আলোচিত রাম বিগ্রহ অপসারণ এবং নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর শত শত মানুষ উপজেলা সদরের চারমাথা মোড়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ফ্লাইওভারের নিচে জড়ো হন। তারা সচেতন নাগরিক ফোরামের ব্যানারে পাঁচ দফা দাবি তোলে ধরেন।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গণসমাবেশে বক্তব্য দেন সচেতন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক মওলানা মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা ইমাম ওলামা পরিষদের সভাপতি মওলানা সাদেকুল ইসলাম, মুফতি মিজানুর রহমান, উপজেলা ইমাম ওলামা পরিষদের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, মওলানা আমিনুল ইসলাম বুলবুল, লিয়াউল হাম্দ সৈকত, মওলানা নুরুল আলম বিপুল, মুফতি আজহারুল ইসলাম, আনিসুর রহমান আনাস, মাকসুদুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম আরিফ, সামিউল ইসলাম।
মওলানা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “অবিলম্বে বৃহত্তম এই রাম মূর্তি অপসারণ করা না হলে কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে। প্রকল্পের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র সম্পর্কে বিভিন্ন মহলে নানা অভিযোগ, বিতর্ক ও প্রশ্ন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অতীতে উগ্রবাদী আচরণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা ও প্রকৃত অবস্থা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালীমন্দির চত্বরে নির্মিত বিশাল আকৃতির মূর্তিগুলো দ্রুত অপসারণ করতে হবে; হরিদাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে; উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার যে পাঁয়তারা চালাচ্ছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে; উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে; ইসকন অনুসারীরা রথযাত্রার নামে উলঙ্গ বেহায়াপনা ও অস্ত্রের মহড়া দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, অবিলম্বে রথযাত্রা বন্ধ করতে হবে।
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে রোববার রাতে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির এলাকা থেকে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট গ্রেপ্তার করে।
এর আগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।