Published : 25 Nov 2025, 12:47 PM
হিন্দি সিনেমার ধর্মেন্দ্র দেওলের চিরবিদায়ে নতুন করে মানুষের স্মৃতিতে আলোড়ন তুলেছে বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে থাকা ‘শোলে’ সিনেমার সেই গান ‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে’। গানের দুই বন্ধু জয় (অমিতাভ বচ্চন) এবং বীরুর (ধর্মেন্দ্র) একজন আজ নেই। বীরুকে শেষবারের মত দেখে এসে সোশাল মিডিয়ায় ভারাক্রান্ত জয় লিখলেন, ‘আরেকজন বীর আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন’।

ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে প্রায় একমাস ভুগে সোমবার অনন্তলোকে পাড়ি দিয়েছেন হিন্দি সিনেমার ‘হি-ম্যান’ খ্যাত ধর্মেন্দ্র। মুম্বাইয়ের পবন হংস শ্মশানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বলিউডের আরো অনেকের সঙ্গে শামিল হন অমিতাভ বচ্চন। সঙ্গে ছিলেন ছেলে ও নাতি অভিষেক বচ্চন এবং অগস্ত্য নন্দা।
শ্মশানে অমিতভাকে কারো সঙ্গে তেমন কোনো কথা বলতে দেখা যায়নি। বেদনার্ত অমিতাভ কেবল বন্ধুকে বিদায় জানিয়ে চলে যান।

মুক্তির অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও ‘শোলে’ সিনেমায় জয়-বীরুর বন্ধুত্বের গল্প ‘আইকনিক’। পর্দার মত, জীবনের গল্পেও অমিতাভ-ধর্মেন্দ্রর বন্ধুত্ব ছিল অটুট। মাঝে হাসপাতাল থেকে ধর্মেন্দ্রকে যখন বাড়িতে নেওয়া হয়, তখন একদিন নিজে গাড়ি চালিয়ে বন্ধুকে দেখে আসেন তিনি।

ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে অমিতাভ উজাড় করে লিখেছেন এক্সের পোস্টে।
অমিতাভ লিখেছেন, “আরেকজন বীর আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন… ছেড়ে চলে গেলেন রঙ্গমঞ্চ ছেড়ে…অসহ্য এক নীরবতা রেখে গেলেন…।”

এরপর হাত জোড়ের ইমোজি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘ধরমজি’
“…তিনি মহত্ত্বের প্রতীক, কেবল তার শারীরিক উপস্থিতির জন্যই নয়। বরং তার হৃদয়ের বিশালতা এবং স্নেহময় সরলতার জন্যও তিনি সব সময় কাছের ছিলেন।…পাঞ্জাবের গাঁয়ের মাটির স্বাদ নিয়ে তিনি এসেছিলেন। নিজের প্রতি সৎ ছিলেন…তার গৌরবময় কর্মজীবন জুড়ে অকপট ছিলেন। যেখানে প্রতি দশকে পরিবর্তন দেখা যেত…সেখানে ভ্রাতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে…তিনি বদলাননি…তার হাসি, তার আকর্ষণ…তার উষ্ণতা ছিল তার আশেপাশের সবার জন্য বিস্তৃত…এক বিরল…আমাদের চারপাশের বাতাস শূন্য হয়ে গেছে। এমন একটি শূন্যতা যা সবসময় ফাঁকাই থাকবে।”
অমিতাভ পোস্টটি শেষ করেছেন ‘প্রার্থনা’ শব্দটি লিখে।

‘শোলে’ ছাড়াও ধর্মেন্দ্রর সুপারহিট কাজগুলোর মধ্যে ‘চুপকে চুপকে’ এবং ‘রাম বলরাম’ সিনেমায় অমিতাভ তার সহশিল্পী ছিলেন।
শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান, অক্ষয় কুমার, গোবিন্দ, অনিল কাপুর এবং রাণবীর সিং-দীপিকা পাড়ুকোনসহ আরো কয়েকজন অভিনেতা শ্মশানে ধর্মেন্দ্রর শেষকৃত্যে অংশ নেন।
কেবল তারকারা নয়, প্রিয় অভিনেতাকে শেষবারের মত দেখতে শ্মশানের বাইরে ভিড় করেছিলেন প্রায় ৫০০ ভক্ত-অনুরাগী।
এছাড়া কাজল, শিল্পা শেঠি-রাজ কুন্দ্রা, রেখা, সঞ্জয় খান, সুজান ও জায়েদ খান সন্ধ্যায় অভিনেতার জুহুর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন।
১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্র। সেই থেকে শুরু।
ছয় দশকের বেশি সময় তিনশোর বেশি সিনেমায় অভিনয়ে অসামান্য প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন ধর্মেন্দ্র। তাকে বলা হত গ্রিক দেবতা, মাটির ছেলে, ফ্যামিলি ম্যান। সবচেয়ে বড় কথা, তার মনটাও ছিল পর্দার মতই খোলা।

‘কমন ম্যান’ ধর্মেন্দ্র পরে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ‘মাচোম্যান’। ‘শোলে’, ‘ধর্মবীর’, ‘ফুল অউর পাথ্থর’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘সীতা অউর গীতা’ সিনেমায় ধর্মেন্দ্রর চরিত্রগুলো রীতিমত সাড়া ফেলে দেয়।
ধর্মেন্দ্রের শেষ সিনেমা ‘ইক্কিস’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে যা চলতি বছরের বড়দিনে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন শ্রীরাম রাঘবন।
আরও পড়ুন:
বলিউডকে শোকে ভাসিয়ে বিদায় নিলেন ধর্মেন্দ্র
পাঞ্জাবের মাটি থেকে উঠে আসা ধর্মেন্দ্রর সিনেমার মত এক জীবন