Published : 24 Nov 2025, 11:04 PM
শোলে সিনেমার সহঅভিনেতা অমিতাভ বচ্চন যেমন এলেন, নাতির বয়সী তরুণ অভিনয়শিল্পীরাও ছুটে এলেন শ্মশানে; বন্ধু, স্বজন আর ভক্তদের শোকে ভাসিয়ে বিদায় নিলেন ধর্মেন্দ্র দেওল।
ষাট ও সত্তরের দশকের হিন্দি সিনেমার এই মহাতারকা সোমবার দুপুরে তার মুম্বাইয়ের বাড়িতে মারা যান। বিকালে পবন হংস শ্মশানে পরিবারের সদস্য ও ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য হয়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, অমিতাভ বচ্চনের পাশাপাশি তার ছেলে অভিষেক বচ্চন এসেছিলেন শেষকৃত্যে।
ধর্মেন্দ্রর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন অনিল কাপুর, সঞ্জয় দত্ত, আমির খান, শাহরুখ খান, সালমান খান, অক্ষয় কুমার, নির্মাতা অনিল শর্মাসহ অনেকে।
কেবল তারকারা নয়, প্রিয় অভিনেতাকে শেষবারের মত দেখতে শ্মশানের বাইরে ভিড় করেছিলেন প্রায় ৫০০ ভক্ত-অনুরাগী।
ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে ধর্মেন্দ্র ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন অক্টোবর মাসের শেষ দিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতের মূল ধারার সংবাদমাধ্যমে তার মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে।
তখন তার মেয়ে অভিনেত্রী এশা দেওল বলেছিলেন, “মিডিয়া ভুল খবর ছড়াচ্ছে। আমার বাবার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন।”
এরপর বাড়ি ফেরেন ধর্মেন্দ্র। কদিন আগেও একাধিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে, ধর্মেন্দ্র বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
এর মধ্যে সোমবার এল তার মৃত্যুর খবর। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মুম্বাইয়ে ধর্মেন্দ্রর জুহুর বাড়ির বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্স তার বাড়ির থেকে বের হতে দেখা যায়। তার স্ত্রী অভিনেত্রী হেমা মালিনী ও এশা দেওলকে দেখা যায় পবনহংস শ্মশানে। পরে একে একে বলিউড তারাকারা শ্মশানে পৌঁছান।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর, সায়রা বানু, করণ জোহর, কারিনা কাপুর খান, বোমান ইরানি, অনন্যা পান্ডেসহ আরও অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন সোশাল মিডিয়ায়।

ধর্মেন্দ্রর পুরো নাম ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষাণ দেওল। ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের নাসরালিতে তার জন্ম। দ্ররিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম হলেও সিনেমার প্রতি তার টান ছিল প্রবল।
১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার 'ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় জিতে' ধর্মেন্দ্র পা রাখেন বলিউডে। ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্র। সেই থেকে শুরু।
ছয় দশকের বেশি সময় তিনশোর বেশি সিনেমায় অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ধর্মেন্দ্র।
ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে ‘ফুল অউর পাথথর’ এবং ‘অনুপমা’, ‘আয়ে দিন বাহার কে’ সিনেমায় রোমান্টিক ভূমিকায় অভিনয় করে নামের সঙ্গে ‘নায়ক’ তকমা লাগান তিনি।
এছাড়া ‘ধর্ম বীর’ ও ‘হুকুমত’ এর মত সিনেমায় ধর্মেন্দ্র পর্দা কাঁপিয়েছেন অ্যাকশন হিরো হিসেবে। নাম করেছেন ‘বন্দিনী’, 'আনপাড়', ‘সত্যকাম’, 'আয়া সাওয়ান ঝুমকে', 'ড্রিম গার্ল', 'মেরা গাঁও মেরা দেশ', 'দোস্ত' সহ আরও বহু সিনেমা করে।

শুরুতে নায়ক হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে কমেডি চরিত্রে অভিনয়ের শক্তিশালী ছাপ রাখেন ধর্মেন্দ্রে। বিশেষ করে হৃষিকেশ মুখার্জি পরিচালতি ‘চুপকে চুপকে’ সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারের মাইলফলক হিসেবে ধরা হয়।
তবে ধর্মেন্দ্রর ক্যারিয়ার ঘুরে দাঁড়ায় রমেশ সিপ্পির কালজীয় সিনেমা ‘শোলে’ দিয়ে। ঠাকুরের ডাকে জয় আর বীরু নামের দুই তরুণ মাস্তানের ডাকাত ধরার সিনেমা হয়ে ওঠে বলিউডের ইতিহাস। সিনেমায় ধর্মেন্দ্র ও অমিতাভ অভিনীত জয় ও বীরুর বন্ধুত্ব আজও মনে রেখেছেন দর্শকরা।
আশির দশকে ‘নওকর বিবি কা’, ‘গুলামি’, ‘ইনসানিয়ত কে দুশমন’, ‘লোহা’ সিনেমায় আবার ফিরে আসে ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তা। নব্বইয়ের দিকে সেই জৌলুসে ভাটার টান এলেও নিজেকে বদলে ধর্মেন্দ্র হয়ে ওঠেন ‘চরিত্রাভিনেতা’।
২০১২ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘পদ্মভূষণে’ ভূষিত হন তিনি।
ধর্মেন্দ্রকে শেষবার দেখা গেছে ‘তেরি বাতো মে অ্যায়সা উলঝা জিয়া’ সিনেমায়। ওই সিনেমায় শাহিদ কাপুর এবং কৃতি শ্যানন অভিনয় করেছিলেন।
তার শেষ সিনেমা ‘ইক্কিস’ আসছে আগামী মাসের ২৫ তারিখে। শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত সিনেমাটির ট্রেইলার ইতোমধ্যে মুক্তি পেয়েছে।