Published : 24 Apr 2026, 03:44 PM
জীবদ্দশায় আলোচনা-সমালোচনা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। মৃত্যুর পরও অনেক বিতর্কই পিছু ছাড়েনি ‘কিং অব পপ’ মাইকেল জ্যাকসনের।
মাইকেলের জীবনাচরণ নিয়েও ছিল ভক্তদের ব্যাপক কৌতুহল। এমনটাও চাউর হয়েছিল, পপসঙ্গীতের রাজা নাকি গায়ের রঙ পাল্টে ফেলতে চেয়েছিলেন।
তারকা হয়ে ওঠার শুরুতে যে মাইকেল জ্যাকসন ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ, সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যেতে থাকল তার গায়ের রঙ। সেখান থেকেই মূলত শুরু গুজবের। আসলেই কি নিজের রঙ বদলাতে চেয়েছিলেন মাইকেল?
আসলে শ্বেতী রোগের কারণেই ধীরে ধীরে সাদাটে হয়েছিলেন মাইকেল জ্যাকসন। বিষয়টি অনেক আগে নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তিনি।
সম্প্রতি সেই গুজবের বিষয়টি আবার সামনে আসে। আর গুজবের জবাব এবার দিয়েছেন প্রয়াত শিল্পীর ভাতিজা জাফার জ্যাকসন।
‘কিং অব পপ’ এর বায়োপিক ‘মাইকেল’ এর মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ২৯ বছর বয়সী জেফার। সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসবে ২৪ এপ্রিল।
শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে দর্শকের আগ্রহে থাকা এই সিনেমাটি। আর গত ২০ এপ্রিল লস অ্যাঞ্জেলেসে হয়েছে বায়োপিকের প্রিমিয়ার শো। সেখানে রেড কার্পেটে হাঁটার সময় জাফার কথা বলেন ‘এক্সট্রা’ টিভির প্রতিবেদক ও ‘ড্যান্সিং উইথ দ্য স্টার্স’ এর বিচারক ডেরেক হাফের সাথে।
‘মাইকেল’ দিয়ে সিনেমায় নাম লেখানো জাফারের কাছে ডেরেকের প্রশ্ন ছিল, মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে মানুষের মনে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা কী ছিল?
বায়োপিকের প্রিমিয়ার এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন মাইকেল জ্যাকসনের ‘এক-দস্তানা’ লুক নিয়ে জানার অপেক্ষায় আছে দর্শকরা।
জবাব দেওয়ার আগে কয়েকমুহূর্ত ভাবেন জাফার।
এরপর বলেন, “সবচেয়ে ভুল ধারণা? আমার মনে হয়, তিনি শেতাঙ্গ হতে চেয়েছিলেন, এটা।”

জাফার বলেন, “এটা একটা বড় ভুল ধারণা এবং এই সিনেমা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে, আসলে ব্যাপারটা কী ছিল। মানে, শ্বেতী রোগটি তার জীবনে কী ভূমিকা রেখেছিল? অনেকেই আসলে বোঝে না, এটা কী। তিনি অল্প বয়স থেকেই এর সাথে লড়াই করছিলেন।”
মাইকেল জ্যাকসন শ্বেতী রোগে ভুগছিলেন। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা, এতে রঞ্জক উৎপাদনকারী কোষ মেলানোসাইটকে আক্রান্ত হয়। এর ফলে ত্বকে সাদা ছোপ পড়ে।
'ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট' খ্যাত গায়কের ত্বকে ১৯৮০-এর দশকে শ্বেতি শনাক্ত হয়, যা ধীরে ধীরে তার শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তার ত্বক ফর্সা দেখাত।
সে সময় গুজব ব্যাপক মাত্রা পায়; অভিযোগ ওঠে, কৃষ্ণাঙ্গ এই গায়ক তার ত্বক ফর্সা করতে চাইছেন।
সেই অভিযোগের জবাব মাইকেল দিয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে অপরাহ উইনফ্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। সেখানে তিনি জোর দিয়েই বলেন, তিনি ত্বক ব্লিচ করছেন না।
মাইকেল দাবি করেন, ১৯৮২ সালের দিকে, নিজের ‘থ্রিলার’ অ্যালবাম প্রকাশের কিছুদিন পর থেকেই তার ত্বকে সাদা ছোপ ছোপ দাগ পড়তে শুরু করে।
তার একবছর পর ১৯৮৩ সালে মাইকেল জ্যাকসন ‘মোটাআুন ২৫’ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন। সেখানেই প্রথমবারের মতো হার এক হাতে দেখা যায় চকমকে দস্তানা।
অভিনেত্রী সিসিলি টাইসন সিএনএনের এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, স্টাইলের জন্য নয়, মাইকেল সেই দস্তানা শ্বেতী কারণেই পরেছিলেন।
“হঠাৎ করেই (আমার ডিজাইনার) আমাকে বলে, ‘আমি তার জন্য তৈরি করেছি’। মাইকেলের শ্বেতী বাড়তে শুরু করেছিল এবং তার হাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তা ঢেকে রাখতেই ওই দস্তানা। এভাবেই দস্তানাটির জন্ম।”
এই তথ্য কীভাবে পেয়েছিলেন, এমন প্রশ্নে সিসিলির জবাব ছিল, “তিনি (মাইকেল) যখন এটি তৈরি করতে দেন, আমি তখন সেখানে ছিলাম।”
শেষ মুহূর্তে বদলে যায় 'মাইকেল' এর শেষাংশ