Published : 19 Jul 2026, 02:42 PM
বলিউডের নায়ক সালমান খানের পর এবার আমির খানকে হুমকির অভিযোগ উঠেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। আমিরের তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করেই এই বিপত্তি ঘটেছে।
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামে পরিচিত অন্য এক ব্যক্তি সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এই হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
পোস্টে, আমির খান দেশে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচার করছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। আর তারা (লরেন্স বিষ্ণোই) এ ধরনের কাজকর্ম মেনে নেবে না বলেও জানিয়েছে ওই পোস্টে।
তবে এনডিটিভি এবং দ্য ওয়াল এই পোস্টের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
পোস্টে বলা হয়েছে, “আমির খানের মত মানুষ আমাদের দেশে যাকে ‘লাভ জিহাদ’ বলা হচ্ছে, সেটিকে উৎসাহ দিচ্ছেন। এটি আমাদের সংস্কৃতি, সনাতন ধর্ম এবং দেশের বিরুদ্ধে। আমরা এমন কাজ কোনওভাবেই মেনে নেব না। খুব শিগগিরই তাকে এর ফল ভোগ করতে হবে।”
শুধু সতর্কবার্তাতেই থেমে থাকেনি সেই পোস্ট। সেখানে আরও লেখা হয়েছে, “আমরা আমাদের ভাই-বোন এবং দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছি, যারা তারকাখ্যাতির আড়ালে এই ধরনের কাজকে উৎসাহ দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা নিজেদের কায়দাতেই ব্যবস্থা নেব। এমন কর্মকাণ্ড যারা বাড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের চুপ করিয়ে দেওয়া হবে।”
একই পোস্টে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে ১৩ বছরের এক নাবালিকার অপহরণ, পাচার এবং যৌন নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেই মামলায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করা হলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
বলিউডে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির মুখে পড়া নতুন ঘটনা নয়। বহু বছর ধরেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির মুখে রয়েছেন সালমান খান।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহলও
এই ঘটনার পাশাপাশি আমিরের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে আমিরকে আক্রমণ করে মন্তব্য করেন।
তার বক্তব্যকে সমর্থন করে অযোধ্যার ‘তপস্বী ছাওনি’-র পীঠাধীশ্বর জগৎগুরু পরমহংস আচার্য আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
তিনি আমির খানকে ‘লাভ জিহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ বলে কটাক্ষ করে ঘোষণা করেন, “অযোধ্যা ধাম থেকে আমি ঘোষণা করছি, যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করতে পারবে, তাকে ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, তার সমস্ত আইনি লড়াইয়ের খরচও আমি বহন করব। আমার বিশ্বাস, এই ধরনের ১০০-২০০ জনকে শেষ করতে পারলেই দেশ থেকে লাভ জিহাদের বীজ উপড়ে ফেলা সম্ভব।”
আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ চর্চার অভিযোগ আনে প্রথমে বজরং দল। অভিনেতার বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভেও নামে এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিহারের ফোর্বসগঞ্জ এলাকায় সম্প্রতি বজরং দলের সদস্যেরা আমির খানের তৃতীয় বিয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। সে সময় তারা ‘আমির খান মুর্দাবাদ’, ‘আমির খান ভারত ছাড়ো’ স্লোগান দেয়।
তারা ‘মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট’ খ্যাত এই অভিনেতার কুশপুতুলও পুড়িয়েছেন।
বজরং দলের নেতা মনোজ সোনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমির খান বার বার হিন্দু পরিবারের মেয়েদের বিয়ে করছেন। এর মাধ্যমে তিনি হিন্দু সমাজকে অপমান করছেন।”
মনোজ সোনি আরও বলেন, “আমির নাকি বিয়ে করে হিন্দু সমাজকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তিনি যদি খুব তাড়াতাড়ি এ সব কাজ বন্ধ না করেন, তা হলে তাকে শিক্ষা দেওয়া হবে।”
আমিরের পাশে দাঁড়ালেন বন্ধু
এই পরিস্থিতিতে অভিনেতার পাশে দাঁড়ালেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও অভিনেতা আমিন হাজি।
তার কথায়, “আমির সবসময় বিয়ে এবং সম্পর্ককে সম্মান করেছে। অনেকেই ওর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হাসিঠাট্টা করেন। কিন্তু তারা জানেন না, প্রতিটি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সময় আমির কতটা দায়িত্বশীল থেকেছে। সাবেক পরিবার, সন্তানদের প্রতি নিজের সমস্ত কর্তব্য পালন করেছে। এই দিকটা খুব কম মানুষই দেখেন।”
আমিন বলেন, “তাকে ভেঙে পড়তে দেখেছি, কাঁদতেও দেখেছি। ১৫ বছর পর আবার নতুন করে ভালবাসা খুঁজে পাওয়া নিয়ে অনেকে মজা করছেন। কিন্তু সেই দীর্ঘ সময়ে কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ও গিয়েছে, তা খুব কম মানুষই জানেন।”

গেল ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের নিজের বাড়িতে গৌরী স্প্র্যাটকে আইনি মতে বিয়ে করেন আমির খান। গত বছরের মার্চে নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবার প্রকাশ্যে গৌরীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলেন আমির।
ওই ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ছিলেন আমিরের সন্তান জুনাইদ খান, ইরা খান, জামাতা নূপুর শিখরে, পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর, রাজকুমার হিরানি, মুকেশ আম্বানি, রাজ ঠাকরে, ইরফান পাঠান, বীর দাস, এলি আব্রামসহ চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন অঙ্গনের ঘনিষ্ঠজনেরা।
আর গৌরীর পক্ষ থেকে তার সাত বছরের ছেলে, বাবা রবার্ট বব স্প্র্যাট, ভাই, বোন তাদের সন্তানেরাসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
আমির তার ছেলেবেলার বন্ধু রীনা দত্তকে বিয়ে করেন ১৯৮৬ সালে। তাদের দুই সন্তান জুনায়েদ খান ও ইরা খান। জুনায়েদ ইতোমধ্যে চলচ্চিত্র জগতে কাজ করছেন। আর ইরা কাজ করছেন মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে।
১৬ বছর সংসারের পর ২০০২ সালে রীনার সঙ্গে আমিরের বিচ্ছেদ হয়।
এরপর ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। ২০০১ সালে ‘লগান’ চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। কিরণ সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন।
আমির খানের দ্বিতীয় সংসার জীবনও টেকে ১৬ বছর। ২০২১ সালে কিরণের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। যদিও তারা যৌথভাবে ছেলে আজাদ খানের দেখভাল করছেন।
আর পড়ুন-
আমিরের তৃতীয় বিয়েতে সাবেক স্ত্রীদের থাকার কথা ছিল?
আমিরের স্ত্রী গৌরীর প্রথম স্বামী কে ছিলেন
গৌরীতে যে কারণে 'শান্তি পেয়েছেন আমির
গৌরীর সঙ্গে ঘর বাঁধলেন আমির খান
প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই আমিরের বিয়ের প্রস্তুতি
'আমিরের বিবাহিত জীবন পারফেক্ট না হওয়া পর্যন্ত…', সালমানের যে মন্ত