স্বামী-স্ত্রীর চাইতে আমরা ‘অনেক বেশি বন্ধু’: জাভেদ
জাভেদ বলেন, “স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সমতা এবং বোঝাপড়ার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।“
বিবাহিত সম্পর্ক সফল করার মন্ত্র জানিয়েছেন ভারতের বর্ষীয়ান গীতিকার ও লেখক জাভেদ আখতার।
তিনি বলেছেন, সম্পর্কে যদি ‘বন্ধুত্ব থাকে’, তাহলে সেই সম্পর্ক ‘টিকে যায়’। এ ব্যাপারে উদাহরণ হিসেবে অভিনেত্রী শাবানা আজমির সঙ্গে তার চার দশকের দাম্পত্য জীবনের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, বরখা দত্তের 'মোজো স্টোরি'তে কথা বলতে গিয়ে বিয়ে এবং শাবানা আজমির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন জাভেদ।
দাম্পত্যের সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর জোর দিয়েছেন এই লেখক।
নিজেদের কথা উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “'আসলেই আমরা সেই অর্থে বিবাহিত নই। আমরা বন্ধু।”
ভারতের কবি ও গীতিকার কাইফি আজমি এবং অভিনেত্রী শওকত আজমির মেয়ে শাবানা ১৯৮৪ সালের ৯ ডিসেম্বর কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতারকে বিয়ে করেন। তখন জাভেদ বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা। নিজের পরিবারের অমতে জাভেদকে শাবানা বিয়ে করেছিলেন বলে ভাষ্য তার।
বিয়ে নামের সামাজিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন রেখে জাভেদ বলেন, “বিয়েটিয়ে আস্ত একটা বেকার বিষয়। এটা শত শত বছরের পুরোনো এক প্রথা, যা আরো পুরনো কোনো পাহাড় থেকে নেমে এসেছে। আর পাহাড় বেয়ে নেমে আসার সময় বিয়ে নামের এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সময় প্রচুর শ্যাওলা, ময়লা আবর্জনা জড়িয়ে নিয়েছে।”
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত সে প্রসঙ্গে জাভেদ বলেন, “সম্পর্কটা হওয়া উচিত সমতা এবং বোঝাপড়ার ভিত্তিতে।
“দুইজন মানুষ কীভাবে সব সময় একসঙ্গে সুখে থাকতে পারে? সুখ শান্তি তখনই আসবে যখন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বিবেচনাবোধ থাকবে। একজন অন্যের জন্য যখন জায়গা ছাড়বেন, তখনই শান্তি থাকবে।”
তিনি বলেন, “সম্মান ছাড়া ভালোবাসা প্রকৃত নয়। একসঙ্গে চলার পুরো যাত্রাপথ সহজ নাও হতে পারে। বুঝতে হবে যে অপরদিকের মানুষটি একটি আলাদা মানুষ, আলাদা চিন্তার এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তিনি রাখেন। একজন সঙ্গী কারো সম্পত্তি বা ব্যক্তিগত ভৃত্য নয়।”
শাবানাকে বিয়ে করার আগে জাভেদ তার সাবেক স্ত্রী হানি ইরানির সঙ্গে তার নতুন প্রেম নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তাদের দুই সন্তান পরিচালক অভিনেতা ফারহান আখতার ও যোইয়া আখতার তখন ছোট।
বলিউডের চিত্রনাট্যকার জুটি জাভেদ আখতার ও সেলিম খানকে নিয়ে বানানো তথ্যচিত্র ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’-এ শাবানার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইরানিকে কষ্ট দেওয়ার কথা জাভেদ খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন।
এই অনুষ্ঠানেও তিনি বলেন, “পৃথিবীতে ইরানি একমাত্র মানুষ, যার প্রতি আমি অপরাধবোধ অনুভব করি। আমার অনুতাপ হয়। আমি বলব, আমাদের ওই বিয়ের ব্যর্থতার ৬০-৭০ শতাংশ দায় আমার।”
