Published : 21 Nov 2025, 05:42 PM
ভূকম্পনে সারাদেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও।
অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও সংগীতশিল্পীদের মধ্যে কেউ আতঙ্কের মুহূর্ত বর্ণনা করেছেন, কেউ বা সবার নিরাপত্তা কামনা করেছেন।
ভূমিকম্পের 'এমন তীব্রতা কখনও অনুভব করেনি' জানিয়ে অভিনেতা ফারুক আহমেদ লিখেছেন, “আমি থাকি ১৪ তলা বিল্ডিংয়ের ৫ম তলায়। নাস্তা খেয়ে বসে ছিলাম। হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি। সমস্ত বিল্ডিং কাঁপছে। জানালা দিয়ে দেখলাম পাশের বিল্ডিং দোলনার মত দুলছে। মানুষজন চিৎকার করছে। আমরা নিচে দাঁড়ালাম। মনে হচ্ছিল পুরা ইমারত ভেঙে পড়বে। আমার দীর্ঘ জীবনে ভূমিকম্পের কম্পন বহুবার অনুভব করেছি। এমন তীব্রতা কখনও অনুভব করিনি। সবাই ভালো থাকুন। "
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী লিখেছেন, “ভূমিকম্প! আশা করি সবাই নিরাপদে আছেন।”
এমন ভূমিকম্পে বিস্ময় প্রকাশ করে অভিনেতা রওনক হাসান লিখেছেন, “ওরে ঝাঁকি! এ কি ভুমিকম্প! সবাই ঠিক আছেন তো?"
চঞ্চল চৌধুরী লিখেছেন, “ভূমিকম্পের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা! সবাই নিরাপদে থাকুন, ভালো থাকুন, সৃষ্টিকর্তা সকলকে রক্ষা করুন।”
অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, “মনে হচ্ছে আমার বিড়ালগুলো আগে থেকেই বুঝতে পারছিল।”
ছেলেকে নিয়ে দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমেছেন জানিয়ে অভিনেত্রী শাহানা রহমান লিখেছেন, “ভূমিকম্প বুঝতে পেরে স্বননকে নিয়ে সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে যাই। আমাদের বিল্ডিংয়ের সবাই এবং আশেপাশের লোকজন নিচে নেমে এসেছিল তখন। কী যে ঝাঁকুনি দিয়ে গেলো প্রত্যেককে। বাসায় উঠে এসে দেখি দেয়ালের ছবির ফ্রেম, ডাইনিং টেবিলের পানির বোতল সব মেঝেতে।”
একটা পুরাতন হস্তশিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “শ্রীলংকা থেকে নিয়ে আসা পুরাতন একটা হস্তশিল্প। একটা মা শিম্পাঞ্জির কোলে তার বাচ্চা, দেখে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। আমিও ছেলেকে নিয়ে এভাবেই দৌড়ে নেমেছি সিঁড়ি দিয়ে।”
পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী লিখেছেন, “বিশাল ভূমিকম্প এমন কখনই দেখিনি। পাশ থেকে সবার চিৎকার।”
সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণবের বাড়ির পিলার থেকে টাইলস খসে পড়েছে। সেই ছবি পোস্ট করেছেন অর্ণব।
মাইলস ব্যান্ডের হামিন আহমেদ লিখেছেন, “শক্তিশালী ভূমিকম্প। আমার দিক থেকে সব ঠিক আছে। আশা করি সবাই ভালো আছেন।”
অভিনেত্রী রোকাইয়া জাহান চমক 'ভূমিকম্প হলে করণীয়' নিয়ে সতর্কতামূলক পোস্ট করেছেন।
ক্যাপশনে লিখেছেন, “জানুন ও বাঁচুন, ভয় না, সাহস আর বুদ্ধি দিয়ে লড়াই করুন। সৃষ্টিকর্তা সহায় হোক।”
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে দেশের তিন জেলায় শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ।
২৬ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে আতঙ্ক ছড়ায়, বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে মানুষ। এরপর আসতে থাকে প্রাণহানি আর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য।
এই ভূখণ্ডে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেরও ইতিহাস রয়েছে। তবে গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন প্রাণঘাতি ভূমিকম্প দেশের মানুষ আর দেখেনি।
ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, “দুটো প্লেটের সংযোগস্থলে এ ভূমিকম্পটি হয়েছে, ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটে। ভূমিকম্পের কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশ। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”