Published : 26 Jun 2026, 09:46 PM
চব্বিশ সালের শেষ দিকে মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকীকে গুলি করে হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠজন নায়ক সালমান খান মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, এর প্রভাব পড়েছিল শরীরে।
ওই মৃত্যু সালমানকে এতটাই নাড়িয়ে দেয় যে, তার চলাফেরাতেও সমস্যা হত।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, দুবছর আগে সালমানের সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা সামনে এসেছেন তার সহঅভিনেতা বিশাল বশিষ্ঠ।
এক সাক্ষাৎকারে বিশাল বলেন, সালমান মানসিক ও শারীরিকভাবে দুদিক থেকেই প্রবল চাপের মধ্যে ছিলেন। ওই সময় সিনেমার শুটিংও চলছিল।
তার কথায়, “সালমানকে দেখে বোঝা যেত, তিনি কতটা ক্লান্ত এবং ভেঙে পড়েছেন। ধীরে ধীরে হেঁটে এসে দৃশ্যের শুটিং শেষ করতেন। ‘কাট’ বলামাত্রই ফিজিয়োথেরাপির জন্য চলে যেতেন। অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য শরীর সচল রাখা জরুরি ছিল, কিন্তু তিনি যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন।”
বিশাল বলেছেন, পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে, অনেক সময়ে চেয়ার থেকে উঠতে বা বসতেও সমস্যায় পড়তেন সালমান। তবু একদিনও শুটিং এড়িয়ে যাননি তিনি। অভিনেতার এই পেশাদারিত্বই সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে তাকে।
বিশালের কথায়, “সেটে হয়ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে আমাদের। কিন্তু সবাই জানত, তিনি কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন!”
সালমানের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে সিনেমার বেশ কিছু অ্যাকশন দৃশ্য পরে শুট করা হয়। শুটিংয়ের শেষ দিকে সালমানের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন বিশাল।

৬৬ বছর বয়সী জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকীকে গুলি করে হত্যা করা হয় ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবরে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায়। বাবা সিদ্দিকীকে হত্যার দায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং সোশাল মিডিয়ায় স্বীকার করে নেয় পরে।
সালমানের সঙ্গে বাবা সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। বাবা সিদ্দিকীকে হত্যার দায় স্বীকার করে বিষ্ণোই গ্যাং হুমকি দেয়, বাবা সিদ্দিকীর বন্ধুরাও যেন তৈরি থাকে।
বাবা সিদ্দিকী খুন হওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তার আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেন সালমান, কারণ লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দল তাকে নিশানায় রাখতে শুরু করেছিল আরও আগে থেকে।
'প্রাণে বাঁচতে' সালমান কী বিষ্ণোইয়ের ক্ষমাপ্রার্থী হবেন?
বাবা সিদ্দিকী খুনে 'নিরাপত্তা আতঙ্কে' ভুগছেন সালমান?
বাবা সিদ্দিকীর নৃশংস খুনের দায় স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের