স্বেচ্ছাশ্রমিক সন্দীপনের গ্রন্থ-নির্মাণের লক্ষ্য
অনুবাদের ভাষা সম্পর্কে বলতে গিয়ে সবচেয়ে জরুরি কথাটা বলতে একেবারেই ভোলেননি- সেটি হচ্ছে অনুবাদের ভাষা। সন্দীপনের মতো, অনুবাদের ভাষা হতে হবে এমন, ‘যাতে তা বোধগম্য হয়, যাতে সহজেই পড়ে ওঠা যায় তা। আলঙ্কারিক কোন ভাষায় বা অ্যাকাডেমিক ভাষায় তা অনুবাদ করে লাভ কী! তাতে তো আপনার উদ্দেশ্যটাই মাঠে মারা যাবে।’
ছিন্নপত্রের টুকরো এক চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘মানুষ কি লোহার কল যে ঠিক নিয়ম-অনুসারে চলবে?’ সম্ভবত তাঁর এই কথার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ‘মানুষের মনের এত বিচিত্র এবং বিস্তৃত কাণ্ড-কারখানা-তার এতদিকে গতি-এবং এত রকমের অধিকার যে, এদিকে-ওদিকে হেলতেই হবে।’ মানুষের এই যে বিস্তৃত কাণ্ড-কারখানা, তার এদিকে-ওদিকে-সেদিকে চলাফেরা, রবীন্দ্রনাথের মতে, ‘সেই তার জীবনের লক্ষণ, তার মনুষ্যত্বের চিহ্ন, তার জড়ত্বের প্রতিবাদ।’ রবীন্দ্রনাথের এই কথাগুলোকেই যেন নিজের/ নিজেদের কাজের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন সন্দীপন ভট্টাচার্য। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘পাঠক হিসেবে যে-বই আমরা পড়তে চাই, আমরা সে-ই বই ছাপি। যে-বই আমরা নিজেরা পড়তে চাই না, সে বই কি অন্য কাউকে পড়তে বলা যায়, বলুন।’ তাঁর কথাগুলোকে আরেকটু বিস্তারে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এ দায় পূরণ করা কঠিন তো বটেই। যে-বই আমরা পড়তে চাই, সে বই সব সময় অন্যেরাও পড়তে চাইবে, তার কি মানে আছে? কাজেই এমন ঘটনাও অনেক ঘটেছে যে অনেক আশা করে ছাপা বই, পাঠক নেয়নি। সেই মুহূর্তে হয়ত মেলেনি তাদের সঙ্গে আমাদের ভাবনা। আবার যখন নিয়েছে, তখন খানিকটা আশ্বস্ত হয়েছি।’ কেন তাঁদের এই খানিকটা আশ্বতস্ত হওয়া? তার উত্তর পাওয়া যাচ্ছে এইভাবে। সন্দীপন বলছেন, ‘প্রথম যখন এ কাজে নেমেছিলাম, তখন পাঠক সম্পর্কে আবছা একটা ধারণা ছিল মাত্র, শুধু এইটুকু ভরসা ছিল যে আমাদের মত লোকজন কিছু কম নেই নিশ্চয়ই। কারণ আমরা তো আর আকাশ থেকে পড়িনি, এই সমাজেই আমাদের জন্ম। ফলে আমাদের মত পাঠক থাকবে না-ই বা কেন। এত দিন পরে এখন বলতে পারি যে, আমাদের ভাবনা কিছু অমূলক ছিল না। কাজেই কোন বই যখন পাঠক নেয় না, তখন আমরা পাঠকের রুচিকে দোষ দিই না, বরং ভাবতে বসি, গণ্ডগোলটা হল কোথায়। সে কি আমাদের, না অন্য কোন কারণ আছে তার। নানা রকম সম্ভাব্য কারণের মধ্যে ঘুরপাক খাই, সব সময় যে উত্তর মেলে, তা-ও না। কিন্তু আস্থা হারাই না আমরা, আবার কোমর বেঁধে লাগি।’ এ-কথা তো সত্যি আমৃত্যু তিনি নিজের কাজে সেই কোমর বেঁধেই লেগেছিলেন।
২.
সন্দীপন কখনো-কখনো খেদের সঙ্গে উল্লেখ করতেন, ‘কত বিষয়ে বই করতে চাই, তা নিয়ে কাজ করার যোগ্য লোক পাই না।’ আমরা বুঝতে পারি শুধুই বইয়ের অনুবাদ, সংকলন কিংবা সম্পাদনা নয়, তাঁর কাজের অন্যতম একটি ক্ষেত্র ছিলো ‘বই করা’; তার মানে একটা বই ঠিকঠাক মতো সম্পাদনায়, প্রচ্ছদে, আকারে-প্রকারে নিয়ে সেটা প্রকাশ করাটাও ছিলো তাঁর কাজের কিংবা কর্তব্যের আওতাধীন। বোধকরি এইসব কাজ তিনি আনন্দের সঙ্গেই করতেন কিন্তু তার মধ্যে কোথাও-না-কোথাও দায়বোধের, কর্তব্যের একটা জায়গা ছিলো। এতোটা নিশ্চিতভাবে কথাটা কেন সামনে আনছি তার কারণটা একটু খুলে বলি। আমাদের অনেকেরই জানা আছে যে ভিয়েতনামে মার্কিন বর্বরতার বিরুদ্ধে বার্টান্ড রাসেলের উদ্যোগে একটা আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছিলো। রাসেলের ‘ÔWar Crimes in VietnamÕ(১৯৬৭) বইটিও পড়েছেন কেউ-কেউ। রাসেলের ট্রাইবুনালে ফরাসি বুদ্ধিজীবী-দার্শনিক জাঁ-পল সার্ত্র On Genocide শিরোনামের বক্তৃতাটি “গণহত্যা” নামে ভাষান্তর ও সম্পাদনা করেছিলেন সন্দীপন। ২০০৭ সালে প্রকাশিত সেই পুস্তিকার ছোট্ট একটি ভূমিকার শেষে এসে সম্পাদক বলছেন, ‘ফিরে পড়তে গিয়ে মনে হয়নি যে আজও এর প্রাসঙ্গিকতা কিছু মাত্র ক্ষুণ্ন হয়েছে। ভাষান্তরের মূল প্রেরণা সেটাই।’ সময় ও ঘটনার এই প্রাসঙ্গিকতার কথা সন্দীপন ভট্টাচার্যের সম্পাদিত, সংকলিত কিংবা অনূদিত বইয়ে নানাভাবে এসেছে। আর আসবে না-ই বা কেন? সার্ত্র তাঁর সেই বিখ্যাত বক্তৃতার শেষাংশে বলেছিলেন, ÔWhen a peasant falls in his rice paddy, mowed down by a machine gun, every one of us is hit. The Vietnamese fight for all men and the American forces against all. Neither figuratively nor abstractly. And not only because genocide would be a crime universally condemned by international law, but because little by little the whole human race is being subjected to this genocidal blackmail piled on top of atomic blackmail, that is, to absolute, total war’। সার্ত্রের বক্তব্যের সেই বাংলা সন্দীপনের হাতে অনূদিত হয়েছে এইভাবে-‘ধানক্ষেতে যখন কোন কৃষক মেশিনগানের গুলি খেয়ে লুটিয়ে পড়ে, তখন আমরা প্রত্যেকেই তাতে আহত হই। ভিয়েতনামিরা সমগ্র মানবের জন্য লড়ছে, আর মার্কিন সেনারা লড়ছে তার বিরুদ্ধে। রূপকার্থে নয়, বিমূর্ত ভাবেও নয়। গণহত্যা শুধু যে আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক সারা বিশ্বে এক ধিকৃত অপরাধ, সে-জন্য নয়; বরং ক্রমে-ক্রমে সমগ্র মানবজাতি যে পারমাণবিক প্রবঞ্চনার ওপর স্তূপীকৃত এই গণহত্যার তঞ্চকতা, অর্থাৎ এক সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক যুদ্ধের অধীনে চলে যাচ্ছে, এই জন্য। আর এই অপরাধ প্রতিদিন গোটা দুনিয়ার চোখের সামনে সংঘটিত হচ্ছে।’
৩.
এখানে দুটো বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। সার্ত্রের বক্তব্যের মধ্যে তৎকালীন ষাটের দশকের দুনিয়ায় বিভিন্ন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক তৎপরতাটা খানিকটা হলেও বুঝতে পারা যায়। সেইটা নিশ্চয়ই কোনো-একভাবে সন্দীপন ভট্টাচার্যের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। এই সততাটুকু তাঁর মধ্যে ছিলো, সেজন্যই তিনি নিজের এবং যাঁদের সঙ্গে মিলে বই নির্মাণ করতেন, তাঁদের ‘রাজনৈতিক প্রণোদনা’র বিষয়টি একেবারে অস্বীকার করেননি। এক সাক্ষাৎকারে অকপটে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘রাজনীতি তো একটা আছেই, তবে তা কোনভাবেই দলীয় রাজনীতি নয়। কোন দলে যে আমাদের ঠাই হবে না, সে আমরা জানি। সে যোগ্যতাও আমাদের নেই। তা ছাড়া আমরাও পারব না কোনো দলের ফরমান মেনে চলতে। আমাদের হয়ে কোনো দল-উপদল, এমনকি কোনো ব্যক্তিও, আমাদের ভাবনাটা ভেবে দেবে, এ কখনও হয়! আমাদের ভাবনা তাই আমরাই ভাবি। ভুল হোক, ঠিক হোক, তারই নির্দেশ আমরা মানি।’ আবার এর পাশাপাশি নিজের অনুবাদকর্মের ব্যাপারে সন্দীপন ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, ‘নেহাত অনুবাদ করার জন্য তো অনুবাদ করার মানে হয় না কোন। আসলে ভিন্ন ভাষার সেই লেখা আপনি আপনার মত আরও পাঠককে পড়াতে চাইছেন, সে জন্যই তো অনুবাদ করছেন।’ অনুবাদের ভাষা সম্পর্কে বলতে গিয়ে সবচেয়ে জরুরি কথাটা বলতে একেবারেই ভোলেননি- সেটি হচ্ছে অনুবাদের ভাষা। সন্দীপনের মতো, অনুবাদের ভাষা হতে হবে এমন, ‘যাতে তা বোধগম্য হয়, যাতে সহজেই পড়ে ওঠা যায় তা। আলঙ্কারিক কোন ভাষায় বা অ্যাকাডেমিক ভাষায় তা অনুবাদ করে লাভ কী! তাতে তো আপনার উদ্দেশ্যটাই মাঠে মারা যাবে।’ এগুলো শুধুই যে নিছক কথার কথা ছিলো তা তো নয়, সন্দীপন ভট্টাচার্যের কাজের সূত্র ধরে আমরা অনুধাবন করতে পারি যে, তিনি তা বাস্তবেও প্রয়োগ করে দেখিয়েছেন। ব্রেখটের ‘নির্বাসিত জার্নালে’র পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণের ছোট্ট ভূমিকায় পরিপ্রেক্ষিতটুকু তুলে ধরে সন্দীপন তাঁর পাঠককে জানাচ্ছেন, ‘রাইখস্টাগ-এ আগুন লাগার পরপরই ১৯৩৩-এ দেশ ছাড়েন ব্রেখট। প্রথমে প্রাগ ও ভিয়েনা হয়ে সুইজারল্যান্ড, সেখান থেকে ডেনমার্ক। বছর-পাঁচেক সেখানে থাকার পর সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে থাকেন কিছুদিন করে, তারপর ছ-বছর আমেরিকা, শেষের এক বছর কাটে সুইজারল্যান্ডে। অবশেষে খণ্ডিত দেশে, পূর্ব বার্লিন ফেরেন, ১৯৪৮।’ এরপর অনুবাদের সূত্র ধরে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাসনের দিনগুলিতে নাটক ও কবিতার পাশাপাশি প্রায় নিয়মিত এই দিনলিপি লিখে গেছেন [ব্রেখট]। লেখা বাহুল্য যে যার একটা নির্বাচিত খণ্ডাংশই এই বইয়ে অনুবাদ করা সম্ভব হয়েছে। এই বইয়ের আগের সংস্করণে ১৯৩৪ থেকে ১৯৪০ পর্যন্ত ছ-বছরের বয়ান ছিল, এই সংস্করণে পরের আট বছর, অর্থাৎ ১৯৪৮-এ দেশে ফেরা পর্যন্ত দিনলিপির নির্বাচিত বয়ান যোগ করে আপাতত এই কাজ শেষ হল।’ তাঁর এই কাজের উদ্দেশ্যটা এখানেও একইভাবে তুলে ধরে সন্দীপন বলেন, ‘কৌতূহলী পাঠক নিশ্চয়ই এর পর প্রায় সাড়ে-চারশো পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ জার্নালটি ইংরাজি অনুবাদে বা মূল জার্মানেই পড়ে ফেলার উৎসাহ পাবেন। যদি পান, তবে এ কাজের একটা সার্থকতা মেলে।’ নিজেকে প্রচ্ছন্নে রেখে কী অসাধারণভাবেই-না নিজের মনের কথাগুলো পাঠকের সামনে এনে হাজির করতে পারতেন সন্দীপন ভট্টচার্য!
৪.
আমরা বলেছি যে, অনুবাদের ভাষার কথা বলতে গিয়ে তিনি পাঠকের বোধগম্যতাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পাশাপাশি সন্দীপন এটিও বলতে ভোলেননি যে, ‘তবে বোধগম্যতার দায়ে মূলের কোন বিকৃতি ঘটানো চলবে না। মূলের বক্তব্য তো বটেই, এমনকী তা পরিবেশনের ভঙ্গি পর্যন্ত অক্ষুণ্ন রেখেই এ কাজ করতে হবে, অন্য উপায় নেই।’ জার্মান ভাষা আমাদের জানা নেই, সন্দীপন নিজেও হিউ ররিসনের ইংরেজি অনুবাদকেই অবলম্বন করেছিলেন। সেখান থেকে খানিকটা তুলে দিচ্ছি। জার্নালের শুরুতেই ‘ডেনমার্ক’ পর্বে ব্রেখট বলেছিলেন, Ôi am a playwright. i would actually like to have been a cabinetmaker, but of course you don't earn enough doing that, i would have enjoyed working with wood. you don't get really fine stained and polished wood much any more, the beautiful panelling and balustrades of the old days, those pale, maplewood tabletops as thick as the span of your hand that we found in our grandparents' rooms, worn smooth by the hands of whole generations. and the wardrobes i've seen! the way the edges were bevelled, the doors inlaid, the internal compartments offset, and such beautiful proportionsÕ। সন্দীপনের অনুবাদে সেই বক্তব্যটা দাঁড়িয়ে গিয়েছে এই ভাষায়, ‘আমি এক নাট্যকার। কাঠের মিস্ত্রি হতে পারলেই খুশি হতাম বেশি, কিন্তু মুশকিল, ও-পথে উপার্জন কম। কাঠের কাজ করে ঢের আনন্দ পেতাম আমি। এখন তো সূক্ষ্ণ রংপালিশ-করা তেমন কাঠের জিনিশ আর চোখেই পড়ে না, পুরনো সেই সব চমৎকার প্যানেল আর কাজ-করা খুঁটি, ম্লান পুরু মেপ্ল কাঠের টেবল, সচরাচর আমাদের দাদু-দিদিমার ঘরে যেমন দেখতে পাই আমরা, কয়েক প্রজন্মের হাতের ছোঁয়ায় মসৃণ। আহা, কী সমস্ত ওয়ার্ডরোব আমি দেখেছি। যেমন তার কোণার ঢাল, দরজার কারুকাজ আর ভেতরের অংশ, তেমনই তার চমৎকার গঠনের সৌষ্ঠব।’ সেইসঙ্গে এটিও মনে পড়বে যে, ২০২৪-এর জুনে সন্দীপনের ভাষান্তরে ব্রেখটের কবিতার অনুবাদ ‘নতুন সব কিছু ভালো’ প্রকাশিত হয়েছিলো, যা কিনা সন্দীপনের নির্মিত ব্রেখটের ‘সংকলিত একশো কবিতা’। ব্রেখট বিশ্বাস করতেন যে, ‘এ রকম আসবাব দেখা আরও মহৎ চিন্তার পথ প্রশস্ত করে’; ঠিক একইভাবে মনে হয় সন্দীপনের অনুবাদের ভাষা পাঠকের চিন্তার পথ প্রশস্ত করার মধ্যে দিয়ে তাঁকে মূল লেখকের বক্তব্যের কাছাকাছি নিয়ে যায়। নিয়ে যায় কিন্তু পাঠককে তা কোনোভাবেই ভারাক্রান্ত করে না। এককথায় যদি সন্দীপনের কৃতিত্বের কথা বলতেই হয়, তাহলে এটিই হচ্ছে আমাদের শেষ বক্তব্য।
৫.
সন্দীপনের কথা ভাবতে গিয়ে আরেকজন ব্যক্তির কথা খুব করে মনে পড়ছিলো। তিনি হলেন অধ্যাপক রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য। তাঁর চলে যাওয়াটাও আমাদের কারো-কারো কাছে মনে হয়েছিলো অকাল প্রয়াণ। রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলতেন, ‘যে-কাজে মন লাগে সেটিকেই নিজের আসল কাজ বলে চিনতে শিখুন, আর সেই অনুযায়ী লম্বা মেয়াদের পরিকল্পনা নিন।... নিজের কাজকে সম্মান করতে না-শিখলে সুষ্ঠুভাবে কিছু করা যায় না। আর কাজের মান ক্রমাগত বাড়িয়ে না-চললে সে-কাজের মূল্য থাকে না।’ সন্দীপনের কথা ভাবতে গেলেই এই কথাগুলো বারবার মনে হয়। বলা যায় যে, অধ্যাপক রামকৃষ্ণের এই কথাগুলো যেন অনেকটা অক্ষরে-অক্ষরে পালন করে গিয়েছেন সন্দীপন ভট্টাচার্য। আমাদের অবশ্য জানা নেই তাঁদের দুজনের মধ্যে যোগাযোগ ছিলো কিনা। আমাদের জানা আছে যে, মীরা মুখোপাধ্যায়ের বইগুলো কী যত্নের সঙ্গেই-না নির্মাণ করেছিলেন সন্দীপন! তাঁর ‘প্রবাহিত জীবনের ভাস্কর্যে’র একটি লেখায় মীরা বলেছিলেন, ‘আজ মনে হচ্ছে, যদি দিনগুলি আরও লম্বা হত, ছবি আঁকতাম, পাথর কাটতাম। ছবি আঁকার সময় পেলাম না। তবু যতটুকু পারলাম দিয়ে গেলাম, আমার জন্মের মানে : ‘কাজ’।” সন্দীপন ভটাচার্য তাঁর অকাল প্রয়াণের মধ্যে দিয়েও আমাদের ঠিক যেন সেই কথাটাই বলে গেলেন তাঁর জন্মের মানে ‘কাজ’। তাঁর কাজগুলো আমাদের কাছে জমা রইলো। অগোচরে থাকা আরও কিছু কাজসহ সেসব দিনে-দিনে হয়তো পাঠকের কাছে গিয়ে পৌঁছবে। আর তাঁর সেইসব কাজের মধ্যে দিয়ে আমাদের কাছাকাছি থাকবেন স্বজন সন্দীপন, আমাদের সন্দীপন ভট্টাচার্য।
ঋণ-স্বীকার : ওয়েবম্যাগ ‘লাল জীপের ডায়েরী’ (http://laljiperdiary.wordpress.com) ।
