Published : 26 Mar 2026, 09:26 PM
লাল-সবুজে সজ্জিত মঞ্চ, শিল্পীদের পরিধানেও ছিল জাতীয় পতাকার রঙের পোশাক– এমন আবহে সম্মিলিত ও একক পরিবেশনায় স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিল্পীদের গান, আবৃত্তি ও নাট্যাংশের পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ধানমন্ডিতে ছায়ানটের মিলনায়তন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয় ‘স্বাধীনতা দিবসে ছায়ানটের নিবেদন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান, যা চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।
দর্শকপূর্ণ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় আটটি দেশাত্মবোধক গান। পাশাপাশি পরিবেশিত হয় সম্মিলিত সংগীত, একক গান, আবৃত্তি ও দলীয় আবৃত্তি।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘বলো বলো বলো সবে’ গান।
এরপর আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাসুমা জাহান, তিনি জীবনানন্দ দাশের ‘বাংলার মুখ’ কবিতা আবৃত্তি করেন। সৈয়দ শামসুল হকের 'আমার পরিচয়' কবিতাটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন আবু বকর সিদ্দিকী।
কবিতার পরে 'জন্ম আমার ধন্য হলো' গানটি একক পরিবেশনা করেন শিল্পী গার্গী ঘোষ।
এরপর আবারও কবিতা আবৃত্তি করেন নুসরাত আযম, মৌসুমী হক, নাঈমা আক্তার, মিন্টু চৌধুরী, রানা মুসাফিরসহ একাধিক শিল্পী।
কবিতার পাশাপাশি একক গান পরিবেশন করেন নূরজাহান সাবিহা পুষ্পিতা, অনামিকা সরকার সোমা, শরিফুর রহমান, সুনীল সূত্রধর, সমুদ্র শুভম, পরিতোষ কুমার মণ্ডল, রুম্পা চৌধুরীসহ ছায়ানটের শিল্পীরা।

তাদের কণ্ঠে শোনা যায় দেশাত্মবোধক গান ‘জন্ম আমার ধন্য হলো’, ‘এই বাংলার মাটিতে’, ‘এ দেশ আমার চোখের আলোয়’, ‘মা গো ভাবনা কেন’, ‘একতারা লাগাও আমার’ ও ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’ গান।
'নূরলদীনের সারাজীবন' নাট্যাংশে অংশ নেন এনায়েত হোসেন কাজল। অনুষ্ঠানে বৃন্দ আবৃত্তিতে অংশ নেন রবিউল, ইব্রাহিম ও রানা।
পরিবেশিত হয় সম্মিলিত সংগীত ‘চলছে মিছিল, চলবে মিছিল'। সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
দেড় ঘণ্টার এ অনুষ্ঠান শেষে দর্শকদের মধ্যেও দেখা যায় উচ্ছ্বাস।
মিরপুর থেকে আসা দর্শক সাবিহা নাসরিন বলেন, ছায়ানটের অনুষ্ঠান সবসময়ই আলাদা। এ আয়োজনটি বিশেষভাবে ভালো লেগেছে। দেশাত্মবোধক গানগুলো আবেগাক্রান্ত করে তুলেছিল।
মেয়েকে নিয়ে প্রতিবছর এ অনুষ্ঠান দেখতে আসেন গোকুল চাঁদ কুন্ডু। বলেন, “ছায়ানটের এই অনুষ্ঠান বরাবরই অসাধারণ হয়। মনে করিয়ে দেয় সংস্কৃতিই আমাদের একসঙ্গে বেঁধে রাখে।”
রাশেদ নামের আরেক দর্শক বলেন, “সুন্দর একটা সন্ধ্যা কাটল। গান, আবৃত্তি সব মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আবেগ নতুন করে অনুভব করেছি।"
অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র তবলায় ছিলেন বাবুল পলাশ, কী বোর্ডে রবিন চৌধুরী, বাঁশিতে সমরেন্দ্র রায় ও গিটারে প্রদীপ কুমার রায়।