Published : 07 Jul 2026, 12:58 PM
যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় সাড়ে তিন মাস আটকে থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশ উপকূলে পৌঁছেছে ১ লাখ ৮ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী (ক্রড অয়েল) জাহাজ ‘এমটি নরডিক পোলাক্স’।
মঙ্গলবার সকালে কেইমন আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এই জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি এসে পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নোঙর করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, “এমটি নরডিক পোলাক্স আজ বিকেল ৩টা নাগাদ নোঙর করতে পারে। জাহাজটি এখন বাংলাদেশের সীমান্তে আছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে নোঙর করতে পারছে না।
“জাহাজটিতে ১ লাখ ৮ হাজার ৬২৫ টন ক্রড ওয়েল আছে। নোঙর করার পর তেল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আমদানি করা সব তেল পরিবহন করে আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। বিএসসি একটি চার্টারিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজটি ভাড়া নিয়েছিল তেল পরিবহনের জন্য।
গেল ৩ মার্চ ‘এমটি নরডিক পোলাক্স’ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে জ্বালানি বোঝাই করে। এরপর যুদ্ধের কারণে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে।
যুদ্ধ পরিস্থিতে প্রায় ১১২ দিন আটকে থাকার পর ২২ জুন জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয়। এরপর জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে ২৫ জুন জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
তবে সোমবার কেইমন আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এই জাহাজটি বাংলাদেশের কুতুবদিয়া অংশে নোঙর করার কথা
এর আগে ৬ মে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে একবার এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে এবং জুনের তৃতীয় সপ্তাহে আরো এক লাখ টন তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে বাংলাদেশে এসেছিল।
এছাড়া মে মাসের মাঝামাঝি এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামে আরেকটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে এসেছিল।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে অস্থিরতা তৈরি হলে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে ১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে বাংলাদেশে অপরিশোধ তেল আসা বন্ধ হয়ে যায়।
এতে অপরিশোধিত তেলের সংকট দেখা দিলে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইর্স্টান রিফাইনারিতে পরিশোধন কার্যক্রম ‘প্রায় বন্ধ’হয়ে যায়।
গত ৬ মে ‘এমটি নিনোনিয়া’ প্রথমবার তেল নিয়ে আসার পর থেকে ইর্স্টান রিফাইনারি পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়েছিল।