Published : 08 May 2026, 01:02 PM
পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে ধরাশায়ী হওয়ার পর রাজনীতি ছাড়ান ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ চক্রবর্তী।
আনন্দবাজার জানিয়েছে ২০২১ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ব্যারাকপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন এই পরিচালক। সেবার জিতে পাঁচ বছর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন রাজ। কিছু দিন আগে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ তথ্যচিত্রের পরিচালনাও করেছিলেন তিনি।
তবে এ বছর নির্বাচনে তিনি পুরনো কেন্দ্রে ফের দাঁড়ালও হেরে যান। ফল বেরনোর দুদিন পরে নিজের রাজনৈতিক অধ্যায়ে ইতি টানার কথা বললেন পরিচালক।
সোশাল মিডিয়ায় ব্যারাকপুরের বিদায়ী বিধায়ক রাজ লিখেছেন, ‘‘জীবনে যখনই কোনও দায়িত্ব পেয়েছি নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করেছি৷ এক জন পরিচালক হিসাবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সবসময় আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কখনও হেরেছি। কখনও জিতেছি।
“২০২১-এ আমার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ৷ মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার। পাঁচ বছর ধরে সেই ভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গিয়েছি। সেই অধ্যায় শেষ হল ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হল আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।’’
একই সঙ্গে বিজেপিকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন রাজ।
তিনি লিখেছেন, ‘‘বাংলার মানুষের মতামতে নতুন সরকার এসেছে। আগামী ৯ মে ২০২৬-এ তারা শপথ নেবেন। তাদের জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করব, আপনাদের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাবে উন্নতির পথে। মানুষের সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে। সবাই ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।’’
ভোটের সময় ব্যারাকপুরে রাজনের রোড শো ঘিরে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা, কিন্তু ফল ঘোষণার দিন গণনাকেন্দ্র থেকে বেরনোর সময় ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। অভিযোগ, তাকে লক্ষ্য করে কাদা ও গোবরও ছোড়া হয়।
তার পরে অবশ্য রাজের তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷
পরাজয়ের পরেই তার স্ত্রী অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন।
তাতে শুভশ্রী বলেছিলেন, রাজই তাদের জীবনের নায়ক। এই পরাজয়ে যাতে কোনও ভাবেই পরিচালকের মনোবল ভেঙে না দিতে পারে সেই ইঙ্গিতই মিলেছিল নায়িকার লেখায়৷
পদ্ম ফোটালেন রূপা-রুদ্ররা, তৃণমূলের আলোচিতরা কে কার কাছে হারলেন