Published : 05 Feb 2026, 01:03 AM
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নতুন নথিপত্রে বাদ নেই বলিউড ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের নাম। এবার হিন্দি সিনেমার পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের নাম এসেছে যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত এপস্টেইনের নথিতে।
টাইমস নাউ লিখেছে, এপস্টেইনকে পাঠানো একাধিক ই মেইলে অনুরাগের নাম পাওয়া গেছে।
এসব ই মেইল আদান–প্রদান করা হয় তিনজন ব্যক্তির মধ্যে। ওই আলাচনায় এপস্টেইনও ছিলেন। অনুরাগ কাশ্যপকে ‘বলিউড গাই’ হিসেবে ডাকা হয়েছে।

ই মেইলে এপস্টেইনের কিউবা সফরের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। যে সফরে বৌদ্ধধর্ম, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিষয়ক কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকায় অনুরাগের নাম আছে।
তবে অনুরাগ আদৌ সেই কর্মশালায় যোগ দিয়েছিলেন কী না বা এপস্টেইনের সঙ্গে একই জায়গায় উপস্থিত থেকে অপরাধমূলক কোনো অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিলেন কী না সে প্রমাণ নেই।
এই বিষয়ে অনুরাগের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
‘এপস্টেইন ফাইলস’ যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত কেলেঙ্কারির এক গোপন নথি।
এপস্টেইনের সঙ্গে খাতির থাকা বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালীদের তালিকা কেবলই লম্বা হচ্ছে। মার্কিন সরকার কুখ্যাত এ বিনিয়োগকারীকে নিয়ে তাদের তদন্তের লাখ লাখ নথি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে, তাতে পুরনো কয়েকজনের পাশাপাশি আরও অনেক ধনকুবের, উদ্যোক্তা ও রাজনীতিকের নাম এসেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
৩০ জানুয়ারি মার্কিন সরকার ‘এপস্টেইন ফাইলসের’ যে অংশ প্রকাশ করেছে তাতে ৩০ লাখ পৃষ্ঠার পাশাপাশি আছে এক লাখ ৮০ হাজার ছবি ও দুই হাজার ভিডিও। নাম এসেছে রিচার্ড ব্র্যানসন, বিল গেটস ও ইলন মাস্কের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম।
এপস্টেইনের নথিতে পপ সম্রাপ মাইকেল জ্যাকসন, গায়িকা ডায়ানা রস, ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের নাম। আর ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারের নামও রয়েছে।
তবে নাম থাকার অর্থই যে তারা অপরাধী, এমনটা নয়। আগে প্রকাশিত নথিগুলোতে নাম আসা ব্যক্তিরা এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এসব নথি প্রকাশের দাবি উঠেছিল।
নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেছিলেন, তাতে কুখ্যাত এ যৌন অপরাধী সংক্রান্ত তদন্তের সব নথি প্রকাশের কথা ছিল। সে অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ পর ৩০ জানুয়ারি এ বিপুল পরিমাণ নথি সম্পাদিত আকারে জনসমক্ষে আসে।
যৌনদাসী কেনাবেচা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যৌনদাসী সরবরাহের অভিযোগ আছে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে- এপস্টেইনের পিডো দ্বীপের বিলাসবহুল প্রাসাদে চলত অবৈধ সম্পর্ক। নাবালিকা, এমনকি শিশুদের দিয়েও চালানো হত যৌন সম্পর্কের কাজ। এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিখ্যাত ও ক্ষমতাধর অতিথিরা সেখানে যেতেন।
যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এপস্টেইন ২০১৯ সালের ১০ অগাস্টে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন। সে সময় তার বয়স ছিল ৬৬।
যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে নারীদের পাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলায় বিচারকাজ চলা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
এপস্টেইন নথিতে কোন কোন রথী-মহারথীর নাম এসেছে?
এপস্টেইনের দ্বীপ ও কুবরিকের 'আইজ ওয়াইড শাট'
সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে রাত কাটাতে আরেক নারীকে রাজপ্রাসাদ
এপস্টেইন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে রাজি ক্লিনটন দম্পতি
এপস্টেইন মামলার আরও ১০ লক্ষাধিক নথি খুঁজে পেলেন মার্কিন কর্মকর্তারা
এপস্টেইন এস্টেট থেকে প্রকাশিত নতুন ছবিতে ট্রাম্প-ব্যানন-ক্লিনটন
বিল গেটস 'রুশ মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্কের পর যৌনরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন'