১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নাট্যকর্মীদের সমাবেশে হামলার পর শিল্পকলার সামনে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

“ভারতের দালাল, আওয়ামী লীগের দালালদেরকে আমরা এখানে থাকতে দেব না,” বলেন নাট্যকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াদের একজন।

নাট্যকর্মীদের সমাবেশে হামলার পর শিল্পকলার সামনে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Nov 2024, 09:24 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:53 AM

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সমাবেশে হামলার পর জাতীয় শিল্পকলার সামনে নাট্যকর্মীদের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে একদল লোক।

শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের উত্তেজনার পরিস্থিতিতে সেখানে অবস্থান নেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। উভয়পক্ষের মাঝে তারা ব্যারিকেড তৈরি করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

নাট্যকর্মীরা অবস্থান নেন নাট্যশালার মেইন গেইটের সামনে। আর তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান লোকজন দাঁড়ান দুর্নীতি দমন কমিশনের গেইটের সামনে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শিল্পকলা এলাকা। সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত চলে এমন পরিস্থিতি।

নাট্যকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। তাদের একজন রাজনৈতিক পরিচয় না দিলেও নাট্যদল ‘দেশ নাটক’ এর এহসানুল আজিজ বাবুকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ আখ্যা দেন।

অন্য বিক্ষোভকারীরাও শিল্পকলার সামনে ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’- এমন স্লোগান দিচ্ছিলেন।

গত ৩ নভেম্বর জাতীয় নাট্যশালায় একদল ব্যক্তির বিক্ষোভের মুখে 'নিত্যপুরাণ' নাটকের প্রদর্শনী মাঝপথে বন্ধ করতে বাধ্য হন আয়োজকরা। নাটকটি প্রযোজনা করে ‘দেশ নাটক’ নাট্যদল।

ওই দিন শিল্পকলার গেইটের সামনে দেশ নাটকের এহসানুল বাবুকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভও করেন একদল লোক।

ওই নাটক বন্ধের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে নাট্যশালার সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। কিন্তু বিকাল ৫টার দিকে সমাবেশে নাট্যকার, নির্দেশক, সংগঠক মামুনুর রশীদ যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, সেসময় কিছু লোক পেছন থেকে ডিম ছুড়ে মারেন। এসময় নাট্যকর্মীরা ধাওয়া দিলে আক্রমণকারীরা পালিয়ে যান।

এর ৪০/৪৫ মিনিট পর একদল লোক সংগঠিত হয়ে নাট্যশালার সামনে স্লোগান দিতে থাকেন। নাট্যকর্মীরাও নাট্যশালায় স্লোগান দিতে থাকেন। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নাট্যকর্মীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভারতের দালাল, আওয়ামী লীগের দালালদেরকে আমরা এখানে থাকতে দেব না। জুলাইয়ে আমাদের ভাইয়েরা জীবন দিয়েছে, তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।”

ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি একজন আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিকভাবে একটি দলের কর্মী। কিন্তু সেই পরিচয় এখানে বলব না। আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে এখানে এসেছি।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শফিক নামে একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশ বাংলা নাট্যদলের (সঠিক নাম ‘দেশ নাটক’) এহসান বাবু আওয়ামী লীগের দালাল। তার নাটক এখানে হতে দেওয়া হবে না।”

শফিকের পুরো পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘সাধারণ জনতা’ বলে দাবি করেন।

এদিকে নাট্যশালার সামনে ডিম নিক্ষেপের ঘটনার পর গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা সাত দিন সকল সাংস্কৃতিক আয়োজনে কালো ব্যাজ ধারণ করব এবং আগামী ১৫ নভেম্বর সারাদেশের নাট্যকর্মীরা এই ঘটনার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করব।”

সেইসঙ্গে শনিবার বেলা ১১টায় শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করবে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন।

আরও পড়ুন-

নাট্যশালায় সমাবেশে 'ডিম নিক্ষেপ', ধাওয়া খেয়ে পালাল হামলাকারীরা

হঠাৎ বিক্ষোভে শিল্পকলায় মাঝপথে বন্ধ হল নাটকের প্রদর্শনী