Published : 10 Apr 2023, 02:25 PM
বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে একটু বয়স হলেই অভিনেত্রীদের কাজের সুযোগ কমে আসে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ‘ড্রিমগার্ল’ হেমা মালিনী।
“অথচ মিস্টার অমিতাভ বচ্চন এখনও এত দুর্দান্ত চরিত্র পান,” ভাষ্য ৭৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিড-ডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী হিন্দি সিনেমায় অভিনেত্রীদের হাল হকিকত নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আজকাল ভালো সুযোগ কোথায়? আজও অভিনেত্রীদের মাথায় রেখে ভালো স্ক্রিপ্ট লেখা হয় না। কেবল পুরুষ অভিনেতাদের নিয়ে ভাবা হচ্ছে। মিস্টার অমিতাভ বচ্চন এখনও এত দুর্দান্ত চরিত্র পান, সেগুলি বিশেষভাবে তার জন্য লেখা হয়। কিন্তু আজ অবধি অভিনেত্রীদের জন্য এমন বিশেষ ভূমিকা লেখা হয়নি।”
অভিনয় শিল্পীর দক্ষতা ও যোগ্যতাকে বিবেচনায় নিয়ে স্ক্রিপ্ট লেখা উচিৎ বলে মনে করেন হেমা মালিনী। তিনি বিশ্বাস করেন, ভালো কাজের সক্ষমতা এখনো তার আছে।
অভিনেত্রীদের বিয়ের পরে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বাধাগুলো নিয়েও কথা বলেন ধর্মেন্দ্রপত্নী হেমা মালিনী।

তিনি বলেন, “স্ত্রীদের একটু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। বিয়ের পরপরই সন্তান নেওয়া যাবে না। আপনাকে বুঝতে হবে, বিয়ের পরপরই সন্তান নিলে ক্যারিয়ার সেখানেই থেমে যায়। যদি আপনার কাজ করার মত বয়স ও সামর্থ্য থাকে, তবে কেন আপনি কাজ করবেন না? যদি প্রযোজকরা আপনাকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সাইন করতে প্রস্তুত থাকে, সে তো দারুণ ব্যাপার।”
তিন তালাক নিষিদ্ধের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেন হেমা
জন্মদিনে এক পলকে ‘ড্রিম গার্ল’ হেমা মালিনী
হেমা মালিনী ও বলিউডে অভিনেতা ধর্মেন্দ্র বিয়ে করেন ১৯৭৯ সালে। ধর্মেন্দ্র তখন বিবাহিত এবং চার সন্তানের জনক। হেমা মালিনীকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেলেও প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে তালাক মেলেনি এই নায়কের। অগত্যা বলিউডের এই দুই তারকা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং সেই ধর্মমতেই বিয়ে করেন।
হেমা মালিনী জানান, বিয়ের পর থেমে যাননি তিনি। অবিরাম কাজ চালিয়ে গেছেন এবং তাকে দেখে অনেকে অনুপ্রাণিতও হয়েছেন। এক্ষেত্রে স্বামীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
“স্বামীদেরও বোঝা উচিত, যে নারীকে সে বিয়ে করেছে, সে একজন প্রতিভাবান মানুষ।“

ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘তারকা সুলভ’ চেহারা নেই বলে তামিল পরিচালক সিভি শ্রীধর-এর সিনেমা থেকে বাদ পড়েছিলেন হেমা। পরে ১৯৬১ সালে ‘ইধু সাথিয়াম’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় প্রবেশ করেন এ অভিনেত্রী।
এরপর একে একে ‘শারাফাত’, ‘অভিনেত্রী’, ‘আন্দাজ’, আমির-গরীব’, সীতা অউর গীতা’, ‘ড্রিম গার্ল’ সিনেমার কল্যাণে জায়গা করে নেন দর্শকের মনে।
অভিনেত্রী পরিচয়ের বাইরে হেমা মালিনী একজন নির্মাতা ও রাজনীতিক। ১৯৯৯ সালে বিজেপি’তে যোগ দিয়ে প্রথমে রাজ্যসভা ও পরে লোকসভার এমপি হন তিনি।