Published : 27 Mar 2026, 12:31 PM
দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’র গায়িকা মাহবুবা রহমান মারা গেছেন; তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একুশে পদকপ্রাপ্ত এ কণ্ঠশিল্পীর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম।
তিনি গ্লিটজকে বলেন, “বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে উনার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।”
মাহবুবা রহমানকে বাদ জুমা মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান রুমানা।

১৯৩৫ সালে চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া মাহবুবা সংগীতজগতে পা রাখেন অল্প বয়সেই। মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ঢাকা কেন্দ্র থেকে তার গান প্রথম প্রচারিত হয়। তখন তিনি নিভা রানী রায় নামে বেতারে গান করতেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকার কামরুননেসা গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর আর পড়াশোনা করেননি।
এরপর কেবলই সঙ্গীতে তার পথচলা। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে মাহবুবা বিয়ে করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা খান আতাউর রহমানকে।

পঞ্চাশ ও সত্তর দশকে রেডিও ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে মাহবুবা রহমান ছিলেন অন্যতম। পল্লিগীতি ও আধুনিক গানে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল। দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ সমর দাসের সুরে তিনি গেয়েছিলেন ‘মনের বনে দোলা লাগে’, যা তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি।
তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে আরও রয়েছে খান আতাউর রহমানের সুরে জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ ছবির ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’, ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’। ‘আসিয়া’ ছবিতে গেয়েছিলেন ‘আমার গলার হার খুলে নে ওগো ললিতে/আমার হার পরে আর কি লাভ হবে সখি...’ এবং ‘সাত ভাই চম্পা’ ছবির ‘আগুন জ্বালাইস না আমার গায়’।


এছাড়া তিনি ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘কখনো আসেনি’, ‘সূর্যস্নান’, ‘সোনার কাজল’, ‘রাজা সন্ত্রাসী’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’সহ বহু চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন।
রেকর্ডের যুগে মাহাবুবা গেয়েছিলেন শতাধিক গান। মমতাজ আলী খানের সঙ্গে তার গাওয়া—‘যাইয়ো না যাইয়ো না বন্ধুরে’ এবং ‘ও বৈদেশী নাগর’ গান দু’খানি এক সময় ছিল মানুষের মুখে মুখে।
সংগীতে বিশেষ অবদান রাখায় ১৯৯৮ সালে একুশে পদক পান মাহবুবা।