Published : 22 Jul 2025, 02:04 PM
দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর জঙ্গি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বহু শিক্ষার্থীর হতাহতের ঘটনায় এদিন রাজধানী এবং ঢাকার বাইরেও বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির অনুরোধে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন হল মালিকরা।
ঢাকার প্রেক্ষাগৃহগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রদর্শক সমিতির অনুরোধে স্টার সিনেপ্লেক্স, শ্যামলী সিনেমা হল, লায়ন সিনেমাস একদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
আর ঢাকার বাইরে বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স, যশোরের মণিহার, সিলেটের গ্র্যান্ড মুভি থিয়েটার, সৈয়দপুরের তামান্না সিনেমা হলও বন্ধ রাখা হয়েছে।
চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল গ্লিটজকে মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তারা হল বন্ধ রাখতে আগের রাতেই এ সংক্রান্ত চিঠি মালিকদের কাছে ‘পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছেন’।
তিনি বলেন, "যে বাচ্চাগুলো নিহত হয়ছে, আহত হয়েছে তাদের জন্য শোক প্রকাশ করে আমরা সারাদেশের সিনেমা হল মালিকদের অনুরোধ করেছি মঙ্গলবার যেন সিনেমাহল বন্ধ রাখে।
“পাশাপাশি নামাজের পর যেন একটা দোয়ার আয়োজন করেন সেই অনুরোধ ও জানিয়েছি।"

তবে আজাদ সিনেমা হলের ম্যানেজার মো.আলাউদ্দিন বলেন, "আমরা তো কোনো চিঠি পাইনি, তাই এ বিষয়ে অবগত নই। দুপুর সাড়ে ১২ টার শো ছিল, কিন্তু দর্শক না থাকায় বন্ধ রেখেছি। আরেকটা শো সাড়ে ৩ টায়। দর্শক না আসলে চালাব না।"
শিক্ষার্থী শোকবার্তা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি।
এছাড়াও ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন 'অভিনয়শিল্পী সংঘ'ও শোক জানিয়ে বার্তা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীর হতাহতের এদিন ঘটনায় রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে বাংলাদেশ।
সকাল থেকে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশনেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকছে।
হতাহতদের জন্য সরকারিভাবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই বিমান।
প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, স্কুলে মাঠে বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটি ছেঁচড়ে গিয়ে ধাক্কা খায় দোতলা একটি অ্যাকাডেমিক ভবনে। অগ্নিগোলকে পরিণত হওয়া সেই বিমানের শিখা স্কুল ভবনটিকেও গ্রাস করে নেয়।
উদ্ধার অভিযান শেষে জঙ্গি বিমানের পাইলটসহ ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৭১ জনকে ওই ভবন থেকে আবহ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, তাদের অধিকাংশই মারাত্মকভাবে দগ্ধ, আর বেশিরভাগই শিশু।
আহতদের মধ্যে আরো দশজন রাতে হাসপাতালে মারা গেলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় ২৭ জন। এখনো ৭৮ জন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।