Published : 03 Nov 2020, 12:13 PM
***
বুধবার রাত ১টা ৫২ (বিডিএসটি)
উইসকনসিন বাইডেনের, পুনঃগণনা চান ট্রাম্প

ঝুলে থাকা সাত রাজ্যের একটি উইসকনসিনে জো বাইডেন জিততে চলেছেন বলে সিএনএন ও এপি জানিয়েছে, যার অর্থ হল বাইডেনের ইলেকটোরাল ভোট আরও ১১টি বাড়ল।
এখন মিশিগান, নেভাডা আর অ্যারিজোনায় বাইডেন জিতলেই তার ‘ম্যাজিক নম্বর’ ২৭০ হয়ে যাবে। এই তিনটিতে তিনি ট্রাম্পের চেয়ে এখনও এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিশিগানে ব্যবধান খুবই কম।
এদিকে উইসকনসিনে ভোট পুনর্গণনার দাবি ডনাল্ড ট্রাম্প শিবির তুলবে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার বিল স্টেফান এক বিবৃতিতে বলেছেন, “উইসকনসিন রাজ্যের বেশ কিছু কাউন্টিতে বহু অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, যা ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো।”
ট্রাম্প সেখানে ভোট পুনঃগণনার পক্ষে এবং সেই আবেদন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উইসকনসিন সিটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বাইডেন ৪৯.৪ শতাংশ এবং ট্রাম্প ৪৮.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
***
বুধবার রাত ১১টা ১০ (বিডিএসটি)
কী হতে যাচ্ছে?

‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ রাজ্য ওহাইও আর ফ্লোরিডার ভোটারদের রায় ট্রাম্পের পক্ষে যাচ্ছে, এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। সবার নজর এখন কয়েকটি রাজ্যে, যেখানে এখনও গণনা চলছে।
সেসব রাজ্যের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দুই প্রার্থীর জন্যই কয়েক রকম ফল আসতে পারে।
পেনসিলভেইনিয়া, উইসকনসিন ও মিশিগান: সবার মনোযোগ এখন এই তিন রাজ্যের দিকে। উইসকনসিনের বেশিরভাগ ভোট গণনা হয়ে গেছে, তাতে বাইডেন খুব সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে। মিশিগানে খুব সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ট্রাম্প। তবে ডেট্রোয়েটের মত ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত কিছু এলাকার সব ভোট এখনও গোণা শেষ হয়নি। আর ২০ ইলেকটোরাল ভোটের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য পেনসিলভেইনিয়া ট্রাম্প এগিয়ে আছেন বেশ খানিকটা। তবে সেখানে বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট এখনও গণনার অপেক্ষায়। সব গুণতে শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
অ্যারিজোনা: ডেমোক্র্যাটরা ১৯৯৬ সালের পর কখনও এ রাজ্যে জয়ী হতে পারেনি। তবে এবার সেখানে জো বাইডেন এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন।
নেভাডা, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনা: এসব রাজ্যের কোথাও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে, কোথাও আবার ভোট গণনা অনেক পিছিয়ে আছে।
মহামারীর মধ্যে এবারের নির্বাচনে ডাকযোগে যে রেকর্ড সংখ্যক আগাম ভোট পড়েছে, তা গুণে শেষ করতে কয়েক দিনও লেগে যেতে পারে।
আর প্রার্থীদের কেউ যদি ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান, তাহলে চূড়ান্ত ফল পেতে লেগে যেতে পারে কয়েক সপ্তাহ।
বিবিসি
***
বুধবার রাত ৯টা ৪৮ (বিডিএসটি)
১২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট
যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ কোটির বেশি ভোটার এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। ১২০ বছরের মধ্যে কোনো নির্বাচনে এত মার্কিন নাগরিক ভোট দেননি।
‘ইউএস ইলেকশন প্রোজেক্ট’ প্রাথমিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এ তথ্য তুলে ধরে বলেছে, এবার ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৬৬ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ১৯০০ সালের পর সর্বোচ্চ। ওই বছর ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
ইউএস ইলেকশন প্রোজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা বুধবার এক টুইটে বলেন, “১২০ বছরের মধ্যে ২০২০ সালেই সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। এখনও বেশ কিছু ভোট গণনা করা বাকি।”
***
বুধবার রাত ৯টা ৫৮ (বিডিএসটি)
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে চীনে বিদ্রুপ
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের ফল এখনও অমীমাংসিত। কে জিতবেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জয় দাবি করছেন, আবার ভোটে কারচুপির অভিযোগও করছেন- যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসি-ঠাট্টায় মেতেছে চীনারা।
চীনের মাইক্রো ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম উইবোতে একজন লিখেছেন, ‘‘তিনি (ট্রাম্প) জেতেন বা হারেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্য আমেরিকার গণতান্ত্রিক চেহারা ধ্বংস করে ফেলা।”
আরেকজন লিখেছেন, ‘‘ট্রাম্পকে আবার নির্বাচিত হতে দিন, যাতে তিনি আমেরিকাকে টেনে আরও নিচে নামাতে পারেন।”
***
বুধবার রাত ৯টা ০৮ (বিডিএসটি)
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ‘পাগলামি’: রাশিয়া, পরিস্থিতি বিস্ফোরক: জার্মানি
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব টিভি চ্যানেল রোশিয়া টোয়েন্টিফোর বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় লোকজনের চীৎকার আর মারামারির ভিডিও দেখিয়েছে; মার্কিন নির্বাচনকে আখ্যায়িত করেছে ‘পাগলামি’ হিসেবে।
রাশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি স্টেশন এনটিভিও যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতিতে অস্থিরতার পূর্বাভাস দেখছে।
এদিকে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্নেগ্রেট ক্রাম্প-কারেনবাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন ‘বিস্ফোরক’ হিসেবে।
তিনি বলেছেন, “এ এমন এক পরিস্থিতি, যা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সাংবিধানিক সংকট দেখা দিতে পারে।”
***
বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ (বিডিএসটি)
আইনি লড়াইয়ের ঝুঁকি
যে আইনি লড়াইয়ের শঙ্কা নিয়ে ভোট শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তাই এখন আরও বেশি চোখ রাঙাচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, তিনি জয়ের পথে আছেন। আর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই ভোট চুরির অভিযোগ করেছেন।
এরকম চলতে থাকলে শেষমেশ ফলাফল আদালতে গড়াতে পারে এবং পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের ক্ষোভের বিস্ফোরণে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে ।
আমেরিকার ভোটাররা ট্রাম্পকে জোরালভাবে প্রত্যাখ্যান করেনি, আবার তাকে বিপুল সমর্থনও দেয়নি। তাই নির্বাচনে যে-ই জয়ী হোক, রাজনৈতিক যুদ্ধ চলতেই থাকবে।
ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই আইনি পথে যাওয়ার কথা জোর গলায় বলে আসছেন। নির্বাচনের পর ফলাফল নিয়ে অচলাবস্থার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়েও ট্রাম্প একই কথাই বলেছেন।
এদিকে, বাইডেন আইনি লড়াই নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্চ না করলেও ট্রাম্পের হুমকি মোকাবেলায় আইনজীবীদের একটি দলকে প্রস্তুত রেখেছেন। বলেছেন, ভোট গোণা বন্ধের চেষ্টায় ট্রাম্প আদালতে গেলে তার বিরুদ্ধে লড়বেন তারা।
বিবিসি
***
বুধবার বিকাল ৪টা ৫৫ (বিডিএসটি)
ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানাল মেলানিয়ার দেশ স্লোভেনিয়া

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল আসার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেস জানেসা।
এক টুইটে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, “এটা খুব স্পষ্ট যে আমেরিকার জনগণ ডনাল্ড ট্রাম্প ও মাইক পেন্সকেই আরও চার বছরের জন্য নির্বাচিত করেছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মাতৃভূমি স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীই প্রথম ইউরোপীয় নেতা, যিনি ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানালেন।
রয়টার্স
***
বুধবার বিকাল ৪টা ০৯ (বিডিএসটি)
এখন কী হতে পারে?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে হবেন তার উত্তর এখনও জানা নেই।
এখন যা হতে পারে-
১. কয়েকদিনেও হয়ত উত্তর জানা যাবে না: এটাই এখন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বেশি। কারণ, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই এখন চলে যাচ্ছে পোস্টাল ভোটের দিকে, যেসব ভোট এখনও মিশিগান, উইসকনসিন এবং পেনসিলভানিয়ার মত জায়গাগুলোতে গণনা করা বাকি।
২. আইনি চ্যালেঞ্জ: ধোঁয়াশাচ্ছন্ন নির্বাচনী ফল যদি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায় সেজন্য আইনজীবীরা প্রস্তুতই আছেন। আর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আইনি চ্যালেঞ্জে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার হুমকি আগেই দিয়েছেন। তেমন হলে ফল নির্ধারিত হতে লেগে যাবে আরও কয়েক সপ্তাহ।
৩. অনিশ্চয়তায় অস্থিরতার শঙ্কা: নির্বাচনের এ পর্যায়ে অনিশ্চয়তা অবশ্যম্ভাবী। আর এ অনিশ্চয়তা থেকে দেখা দিতে পারে অস্থিরতা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাতে ভোট গণনার উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে বিভিন্ন শহরে।
বিবিসি
***
বুধবার বিকাল ৩টা ৩১ (বিডিএসটি)
ভোটের রাতে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাতে ভোট গণনার উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে বিভিন্ন শহরে।
বিবিসি জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটলে মিছিলের কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, কোথাও কোথাও আতশবাজিও পোড়ানো হয়।
মিছিল থেকে স্লোগান ওঠে- “আমরা যদি বিচার না পাই, তারাও শান্তিতে থাকতে পারবে না!”
হোয়াইট হাউজের বাইরে হাতাহাতির মত ঘটনারও খবর পাওয়া গেছে। সেখানে তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে এনবিসির খবরে জানানো হয়েছ।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদক ক্রিস্টিনা রুফিনি একটি টুইট করে জানিয়েছেন, সেখানে ‘স্মোক বম্ব’ জাতীয় কিছু ফাটানো হয়েছে বিক্ষোভের মধ্যে।
Now people are just fighting. This is not tear gas. Some sort of smoke bomb. Likely not police. #ElectionNight #BLMPlaza pic.twitter.com/pFugz67cCs
— Christina Ruffini (@EenaRuffini) November 4, 2020
রয়টার্স জানিয়েছে, সিয়াটলে বিক্ষোভ থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেখানে বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।
লস অ্যাঞ্জেলস, নর্থ ক্যারোলাইনা, পোর্টল্যান্ড, ওরেগন ও নিউ ইয়র্ক থেকেও বিক্ষোভের খবর এসেছে।
***
বুধবার দুপুর ১টা ৩৫ (বিডিএসটি)
উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি: ট্রাম্প

‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ হিসেবে বিবেচিত রাজ্যগুলোর প্রাথমিক ফলাফলে যখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চরম উত্তেজনা, তখনই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বললেন রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউজের ইস্ট রুম থেকে দেওয়া এই ভাষণের শুরুতেই নিজের পরিবার ও কোটি সমর্থককে তিনি ধন্যবাদ দিয়েছেন, যারা তাকে ভোট দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, “বিরাট উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। আমরা সবকিছু জিতে নিচ্ছি।”
গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ফ্লোরিডায় জয়ের খবর সমর্থকদের দিয়ে খুশির সুরে তিনি বলেন, “আমরা শুধু জিতিনি, বড় ব্যবধানে জিতেছি।”
পেনসিলভেইনিয়াতেও রিপাবলিকানদের এগিয়ে থাকার দাবি করেছেন ট্রাম্প, যদিও এর আগে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনও একই দাবি করেছেন।
নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনে ট্রাম্প তার ভাষণে বলেছেন, “আমেরিকার সাধারণ মানুষের সাথে একটা প্রতারণা হচ্ছে। এটা আমাদের দেশের জন্য লজ্জার।”
তিনি বলেছেন, “এই নির্বাচনে আমরাই জিতব। আমি যতদূর জানি, ইতোমধ্যে আমরা জিতেই গেছি।”
এখনও বহু ভোট গণনা বাকি থাকতে ট্রাম্পের এমন ঘোষণাকে ‘ভুয়া দাবি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ভোটের ফলাফল নিয়ে লড়াই করতে তিনি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।
বিবিসি ও গার্ডিয়ান
***
বুধবার দুপুর ১টা ২৭ (বিডিএসটি)
ভাষণ দিচ্ছেন ট্রাম্প
LIVE: President Donald J Trump https://t.co/J7hhaUPUf0
— Team Trump (Text VOTE to 88022) (@TeamTrump) November 4, 2020
***
বুধবার দুপুর ১টা ১৭ (বিডিএসটি)
উত্তেজনার মুহূর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে ৪৩৭টির প্রাথমিক ফলাফলে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে চরম উত্তেজনার মুহূর্ত উপস্থিত।
মিড ওয়েস্ট আর পেনসিল ভেইনিয়া, মিশিগান, আইওয়া, উইসকনসিনের প্রাথমিক ফলাফল বলছে, চূড়ান্ত জয়-পরাজয় নির্ধারণের আগে উত্তেজনার পারদ চড়তে পারে আরও।
রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ২১টি রাজ্যে জয়ের সুবাতাস পাচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড টেক্সাস আর ফ্লোরিয়ায় তার বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন তার দলের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর পাশাপাশি অ্যারিজোনায় জয়ের আভাস পাচ্ছেন।
বিবিসি
বুধবার দুপুর ১২টা ২০ (বিডিএসটি)
নির্বাচন চুরির চেষ্টা হচ্ছে: ট্রাম্প
প্রাথমিক ফলাফলে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে থাকা ডনাল্ড ট্রাম্প ভোটের রাতে টুইট করে অভিযোগ করেছেন তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
টুইটে তিনি লিখেছেন, “আমরা আশাবাদী, কিন্তু তারা এ নির্বাচন চুরির চেষ্টায় আছে। সেটা আমরা তাদের কখনোই করতে দেব না। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর ভোট নেওয়া যায় না!”
অবশ্য টুইটার কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের ওই টুইটে একটি লেবেল সেঁটে দিয়ে বলেছে, ওই বক্তব্য নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। টুইটার ব্যবহারকারীদের সঠিক তথ্য খুঁজে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে সেখানে।
শিগগিরই হোয়াইট হাউজ থেকে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।
We are up BIG, but they are trying to STEAL the Election. We will never let them do it. Votes cannot be cast after the Polls are closed!
— Donald J. Trump (@realDonaldTrump) November 4, 2020
***
বুধবার দুপুর ১২টা ০১ (বিডিএসটি)
জয়ের পথেই আছি: বাইডেন

ভোটের রাতে ডেলাওয়ারের উইলমিংটন শহরে সমর্থকদের সামনে এসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, নির্বাচনে তিনি জয়ের পথেই আছেন বলে তার বিশ্বাস।
“আমরা জানতাম, আমাদের অপেক্ষা দীর্ঘ হবে, আমরা জানতাম, হয়ত আমাদের সকাল পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে, কিংবা তারও বেশি।
“কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের যা অবস্থান, সেটা সন্তোষজনক। আজ রাতে আমি আপনাদের বলতে এসেছি, এই নির্বাচনে আমরা জয়ের পথেই আছি।”
সব ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন বাইডেন।
বিবিসি
***
বুধবার বেলা ১১টা ৪৫ (বিডিএসটি)
ফ্লোরিডা ট্রাম্পেরই থাকল
গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ফ্লোরিডায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্প। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিপুল চেষ্টার পরও ফ্লোরিডায় হতাশ হতে হল তাদের।
২৯টি ইলেকটোরোল কলেজ ভোট থাকায় এই রাজ্যের ফলাফল গুরুতদ্বপূর্ণ বিবেচিত হয়ে আসছে।
***
বুধবার বেলা ১১টা ৪১ (বিডিএসটি)
ডেলাওয়ারে বক্তব্য দেবেন বাইডেন
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ডেলাওয়ারের উইলমিংটন শহরের চেস সেন্টারে বক্তব্য রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজ্যগুলো থেকে ভোটের প্রাথমিক ফলাফল এখনও আসছে। কয়েকটি স্যুয়িং স্টেটের ভাগ্য নির্ধারণ এখনও বাকি। ফলে বাইডেন তার ভাষণে জয়-পরাজয় নিয়ে কোনো ঘোষণা দেবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও হোয়াইট হাউজ থেকে বক্তব্য দেবেন এই ভোটের রাতে।
বিবিসি
***
বুধবার বেলা ১১টা ২১ (বিডিএসটি)
ওহাইও ট্রাম্পের, নিউ হ্যাম্পশায়ারে বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট কোস্ট আর মধ্যভাগে ভোট শেষে প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে নিউ নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যে জো বাইডেনের জয়ের খবর এসেছে, যেখানে ডনাল্ড ট্রাম্পের পাল্লা ভারী ছিল। তবে ওহাইওতে তিনি জয় পেয়েছেন।
অ্যালবামা, আরকানস, ইন্ডিয়ানা, ক্যানসাস, কেন্টাকি, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, মিজৌরিসহ ১৭টি রাজ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জয়ের আভাস মিলেছে।
নেব্রাস্কা, নর্থ ও সাউথ ডেকোটা, ওকলাহোমা, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেনেসি, উটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও ওয়াইওমিংয়েও ট্রাম্প এগিয়ে।
ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য ধরে রাখতে পারবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে আছে ৫৫টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসি, ভারমন্ট, ডেলাওয়ার ও ম্যারিল্যান্ডে তার জয়ের আভাস মিলেছে।
এছাড়া ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, কেনাটিকেট, কলোরাডো, কলোরাডো, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ইলিনয়, অরিগন এবং ওয়াশিংটন রাজ্যে বাইডেন এগিয়ে আছেন।
বিবিসি ও নিউ ইয়র্ক টাইমস
***
বুধবার সকাল ১০টা ৪২ (বিডিএসটি)
এক্সিট পোল কী বলছে?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ভোটারদের মধ্যে শ্বেতাঙ্গদের সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় এবার ৬ শতাংশ কমেছে।
ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিতে, অন্যদিকে জো বাইডেনের সমর্থকরা বেশি ভাবছেন মহামারী আর বৈষম্য নিয়ে।

***
বুধবার সকাল ৯টা ৫০ (বিডিএসটি)
জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প
নিজের সামর্থ্যের জানান দিতে এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে রাতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তার নির্বাচনী প্রচার শিবিরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, ‘’হ্যাঁ, প্রেসিডেন্ট রাতে ভাষণ দেবেন। তখন যদি বিজয় ঘোষণা নাও হয়, তারপরও নিজের বক্তব্য তার তুলে ধরতে হবে।”
ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ইস্ট রুম থেকে এই ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছে সিবিএস।
বিবিসি
***
বুধবার সকাল ৮টা ৫০ (বিডিএসটি)
ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় নজর
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ঊপকূল ও মধ্যাঞ্চলে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেদের শক্ত ঘাঁটি অঞ্চলগুলোতে জয় পাওয়ায় নজর এখন ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার মতো কয়েকটি স্টেটের দিকে।
কলোরাডো, কানেটিকাট, ডেলাওয়ার, ইলিনয়, ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নিউ ইয়র্ক, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে জয় পাচ্ছেন বাইডেন। অপরদিকে আলাবামা, আরকানসাস, কেন্টাকি, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নেব্রাস্কা, নর্থ ডাকোটা, ওকলাহোমা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ওইয়োমিং, ইন্ডিয়ানা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় প্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন ট্রাম্প।
বড় স্টেটগুলোর মধ্যে টেক্সাস (৩৮ ইলেটোরাল ভোট) কার হাতে যাচ্ছে তা বলার সময় এখনও আসেনি। ১৯৭৬ সালের পর থেকে এই স্টেটে জয় পায়নি ডেমোক্র্যাটরা।
এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফ্লোরিডাকে। ২৯ ইলেকটোরাল ভোটের এই স্টেটে ২০১৬ সালে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের নির্বাচনী হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ আরও তিনটি স্টেট হল ওহিও, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনা। এসব জায়গায় দুই প্রার্থীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।
মিশিগান ও পেনসিলভেইনিয়ায়ও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস এসেছে। ডেমোক্র্যাট প্রভাব বলয়ের এই দুই স্টেট ২০১৬ সালে দখলে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার সেগুলো পুনরুদ্ধারে জোর দিয়েছিলেন বাইডেন।

***
বুধবার সকাল ৭টা ৩০ (বিডিএসটি)
ব্যাটলগ্রাউন্ডে ট্রাম্প-বাইডেনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।
এই স্টেটে জয় পেলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। স্টেটের ৮১ শতাংশ ভোট গণনায় দুই প্রার্থীই শক্তশালী অবস্থানে রয়েছেন।
এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বড় অংশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেটগুলো থেকে ফল আসতে শুরু করেছে। তবে জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, ভার্জিনিয়া ও অহিওর মতো অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফল নিয়ে কিছু বলার মতো পরিস্থিতি এখনও হয়নি।
পেনসিলভেইনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেটগুলোর দিকে নজর যাচ্ছে, যারা নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।
***
বুধবার ভোর ৬টা ৩৮ (বিডিএসটি)
ফল পেতে দেরির শঙ্কা
সময়ের ভিন্নতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একেক এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে একেক সময়ে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ইন্ডিয়ানা (১১ ইলেকটোরাল ভোট) ও কেন্টাকি (৮) অঙ্গরাজ্যের অনেক কেন্দ্রে ভোট শেষ হয়। এরপর জর্জিয়া (১৬), সাউথ ক্যারোলাইনা (৯), ভারমন্ট (৩) ও ভার্জিনিয়ায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল সাধারণত ভোটের রাতেই হয়ে থাকে। ২০১৬ সালে নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে বিজয় মঞ্চে এসে উল্লসিত সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প।
তবে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবারের নির্বাচন পরিস্থিতি অন্যান্যবারের চেয়ে ভিন্ন। কর্মকর্তারা এরইমধ্যে শঙ্কা জানিয়ে বলেছেন, ভোটের ফল পেতে কয়েক দিন এমনকি কয়েক সপ্তাহ দেরি হতে পারে। এর কারণ হিসেবে পোস্টার ব্যালট অনেক বেশি হওয়ার কথা বলেছেন তারা।
এ বছর দশ কোটির বেশি আমেরিকান ভোটার ডাকযোগে আগাম ভোট দিয়েছেন, যা দেশটির ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ভিড় এড়াতেই মূলত ডাকযোগে ভোটের সংখ্যা বেড়েছে।
ভোটারের স্বাক্ষর ও ঠিকানার মতো বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখার মতো যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হওয়ায় পোস্টাল ভোট গণনায় সময় বেশি লাগে।
LIVE: Watch the #Election2020 electoral map as votes come in https://t.co/Gz2aiivjbN https://t.co/UNxxlGRUZu
— Reuters (@Reuters) November 3, 2020
ফ্লোরিডা ও ওহিও’র মতো কয়েকটি অঙ্গরাজ্য নির্বাচনের কয়েক দিন আগেই এই প্রক্রিয়া শুরু করায় সেখানে এসব ভোট গণনার পূর্ব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যে ভোটের রাতেই বিজয়ীর নাম পাওয়া যেতে পারে।
তবে পেনসিলভেইনিয়া ও উইসকনসিনের মতো অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আগে শুরু করা হয়নি।
পোস্টাল ভোট গণনা শেষে অনেক জায়গায় সরাসরি দেওয়া ভোটের ফল বদলে যেতে পারে। আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেনের পাল্লা ভারী হবে বলেই অনেকে ধারণা করছেন।
সে কারণে নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো ভোট গণনার আগে প্রাথমিক ফলাফলে নির্বাচনের পুরো চিত্র পাওয়া নাও যেতে পারে।
এ বছর অন্যান্য ভোটের ফল পেতেও দেরি হয়েছে। মধ্য মার্চের পর ২৩টি স্টেটে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল পেতে গড়ে চার দিন করে দেরি হয়েছিল বলে ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে দেখা গেছে।
আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সর্বশেষ ২০০০ সালে ভোট শেষ হওয়ার পর অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে ফলের জন্য। এক মাস পর আদালতের হস্তক্ষেপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল গোরকে হারিয়ে বিজয়ী হন রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ ডব্লিউ বুশ।
***
বুধবার ভোর ৫টা ৫০ (বিডিএসটি)
মহামারী নয়, সবার উপরে অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেশের অর্থনীতিকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে প্রারম্ভিক একটি বুথ ফেরত জরিপে বলা হয়েছে।
এডিসন রিসার্চের ওই জরিপে বলা হয়, এক তৃতীয়াংশ, ৩৪ শতাংশ ভোটার অর্থনীতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তারপরে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে স্থান পেয়েছে মহামারী, ১৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন করোনাভাইরাস তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে।
এরপরে আইনশৃঙ্খলা এবং হেলথ কেয়ার পলিসি ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে। বিবিসি

***
বুধবার ভোর ৫টা ১৫ (বিডিএসটি)
ইন্ডিয়ানা ও কেন্টাকির অনেক জায়গায় ভোটগ্রহণ শেষ
সময়ের ভিন্নতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একেক এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে একেক সময়ে। এরইমধ্যে ইন্ডিয়ানা ও কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের অনেক কেন্দ্রে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভোট শেষ হয়েছে।
রিপাবলিকানদের প্রভাব বলয়ের এই দুই স্টেটে ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষেই রায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবিসি
***
বুধবার ভোর রাত ৩টা ৫৭ (বিডিএসটি)
রোবোকলের তদন্তে এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের ঘরে নিরাপদে থাকার আহ্বান জানিয়ে রহস্যজনক যেসব ফোন কল গেছে, সে বিষয়ে এফবিআই তদন্ত করছে বলে দেশটির সাইবার সিকিউরিটি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির একজন জেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন।
“কিছু রোবোকল গেছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে… প্রতি নির্বাচনেই রোবোকল হয়ে থাকে। আমরা এ বিষয়ে অবগত আছি। এসব কলের বিষয়ে এফবিআই তদন্ত করছে,” বলেছেন ওই সিআইএসএ কর্মকর্তা।
রোবোকলের খবর দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, গত কয়েক সপ্তাহে আমেরিকান ভোটারদের কাছে আনুমানিক এক কোটি ফোন কল গেছে, যা করা হয়েছে যন্ত্রের মাধ্যমে। রেকর্ড করা ওই অডিও বার্তায় কম্পিউটারে তৈরি করা যান্ত্রিক নারী কণ্ঠে সবাইকে বাড়িতে থাকতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
ওই রোবোকলের পেছনে কারা আছে, তা জানা যায়নি। কলগুলো এসেছে ভুয়া অথবা অপরিচিত নম্বর থেকে। গত গ্রীষ্মে এ ধরনের কল আসা শুরু হলেও গত কিছুদিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব এলাকায় এ ধরনের কল আসার তথ্য মিলেছে।
***
বুধবার ভোর রাত ৩টা (বিডিএসটি)
রেকর্ড ভোট পড়ার আশা
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ভোট পড়বে বলে আশা করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।
মঙ্গলবার ভোট চলার মধ্যেই পেনসিলভেইনিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় রাস্তায় সমবেত সমর্থকদের সামনে বক্তব্যে এই আশাবাদ জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত জনতাকে তার সমর্থনে স্লোগান দিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায়। ‘আমরা তোমাকে ভালোবাসি’ এবং ‘আংকেল জো’ বলতে শোনা যায় সেখান থেকে।
সমবেত জনতার উদ্দেশে বাইডেন বলেন, “আমেরিকার ইতিহাসে এবার অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি মানুষকে ভোট দিতে দেখতে যাচ্ছি আমরা।”
১৫ কোটির বেশি মানুষ ভোট দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বলেন, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা ‘বড় সংখ্যায়’ ভোট দিচ্ছেন এবং এই ভোটের ‘৫৪ শতাংশ’ নারী ভোটার বলে তিনি ধারণা করছেন।

***
বুধবার রাত ২টা ১৩ (বিডিএসটি)
বিজ্ঞাপনে কার খরচ কত?
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচারে সব সময়ই বিজ্ঞাপনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে আসছে এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন বিজ্ঞাপনে ৬৩৮ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন, যার বেশিরভাগ গেছে টিভি বিজ্ঞাপনে। অপরদিকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পের বিজ্ঞাপন বাবদ মোট বরাদ্দ ছিল ৪৭২ মিলিয়ন ডলার।
— Donald J. Trump (@realDonaldTrump) November 3, 2020
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের দিন সকাল পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারে বিজ্ঞাপন বাবদ যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর ব্যয়ের এই তথ্য দিয়েছে একটি মিডিয়া অ্যানালাইসিস গ্রুপ।
It all comes down to this.
Go vote: https://t.co/eoxT07uII9 pic.twitter.com/0Sj7qlj5Bl
— Joe Biden (@JoeBiden) November 3, 2020
এতে বলা হয়, ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে অবশ্য ট্রাম্প তার প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে ৪৩ মিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় করে থাকতে পারেন। তবে প্রচারের শেষ সপ্তাহে লোকজনকে ভোট দিতে উৎসাহী করতে দেওয়া ফেইসবুক বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পকে ছাড়িয়ে গেছেন বাইডেন।
তাছাড়া পেনসিলভেইনিয়া, অ্যারিজোনা ও মিশিগানের মতো ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেটগুলোতে বিজ্ঞাপনে বেশি খরচ করেছেন বাইডেন।
# বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন এ নির্বাচনের মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী # যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে অন্তত ২৭০টি নিশ্চিত করতে হবে # মোট ভোটার প্রায় ২৪ কোটি। তারমধ্যে ১৯ কোটির মত ভোটার এবার নিবন্ধন করেছেন। আগাম ভোট দিয়ে ফেলেছেন ৯ কোটির বেশি ভোটার # ভোটের আগে সবশেষ জনমত জরিপে বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প। তবে ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ হিসেবে বিবেচিত ১৩টি রাজ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবধান অল্প # যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলো এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০ আসনের ৩৫টিতেও একইসঙ্গে ভোট হচ্ছে। |
***
বুধবার রাত ১টা ৩৩ (বিডিএসটি)
নারীর পছন্দে ট্রাম্প না বাইডেন?

২০১৬ সালের নির্বাচনে নারী ভোট টেনে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প। সেবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেও ৫০ শতাংশের বেশি শ্বেতাঙ্গ নারীর সমর্থন পেয়েছিলেন ট্রাম্প।
কিন্তু চার বছর পর নারীদের এই সমর্থন কি ধরে রাখতে পেরেছেন তিনি? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দুজন নারী ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি।
হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়া বেসি ক্লার্কের পছন্দ বাইডেন
ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নারী বিষয়টি প্রভাব ফেলছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অবশ্যই। একজন নারী হিসেবে আমি কখনই ডনাল্ড ট্রাম্পের মতো কাউকে ভোট দেব না যিনি অব্যাহতভাবে নারীর অমর্যাদা করেন।
“আমি যাকে ভোট দেব তার বিষয়ে আমি খুবই সচেতন থাকব এবং দেখব তারা নারীর অধিকার রক্ষা ও সমান মজুরি নিশ্চিতে চেষ্টা করছে এবং নারী শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর পদের জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করছে।
“আমি মনে করি, ট্রাম্প সত্যিকারে এগুলো খাটো করে দেখেছেন।”
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী টেইলর গোল্ডেনের পছন্দ ট্রাম্প
ভোটের ক্ষেত্রে নারী বিষয়টি প্রভাব ফেলছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না। আমি কিছু নারীকে চিনি যারা ট্রাম্পকে ভোট দিতে চাননি তার অতীতের জন্য। আমি খুবই কৃতজ্ঞ যে, আমাকেও অতীত ধরে বিবেচনা করা হয়নি। আমি ‘পারফেক্ট’ নই।
“অতীতে তিনি ‘সেক্সিস্ট’ কথা বলে থাকতে পারেন বা আচরণ করে থাকতে পারেন এবং তিনি তোমার ডিনারে নিমন্ত্রণ নাও পেতে পারেন। কিন্তু এই দেশ যত প্রেসিডেন্ট দেখেছে তার মধ্যে তিনিই সেরা।
“ব্যক্তি নয়, নীতির জন্য ভোট দিন। কেউই ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নন। জাতির ভবিষ্যতের প্রশ্নে আমরা ভণ্ডামি করতে পারি না। এখন যৌক্তিক, পক্ষপাতহীন ও সৎ হওয়ার সময়।”
***
বুধবার রাত ১২টা ২১ (বিডিএসটি)
ভোট দিয়েছেন মেলানিয়া
ফ্লোরিডার পাম বিচের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক সপ্তাহ আগে আগাম ভোট দিলেও মেলানিয়া মঙ্গলবার ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়েই নিজের ভোট দিলেন।
মেলানিয়া বলেন, ‘‘আজ ভোটের দিন। আর আমি এখানে এসে ভোটের দিনই ভোট দিতে চেয়েছিলাম।”
কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা মেলানিয়ার মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।
এক বছর আগে নিউ ইয়র্ক থেকে নিজেদের ‘রেসিডেন্সি’ পরিবর্তন করে ফ্লোরিডায় স্থায়ী আবাসের নিবন্ধন করেন ট্রাম্প-মেলানিয়া দম্পতি।
রয়টার্স
"I FEEL GREAT": @FLOTUS casts her ballot on Palm Beach on Election Day. pic.twitter.com/NtAcIHd1qZ
— WPBF 25 News (@WPBF25News) November 3, 2020
***
বুধবার রাত ১২টা ০৬ (বিডিএসটি)
ট্রাম্পই জিতবেন: বোলসোনারো
যুক্তরাষ্ট্রে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ডনাল্ড ট্রাম্পই জিতবেন, সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দ্বিগুণ আস্থার সঙ্গে এ কথাই বলেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো।
অথচ, বেশিরভাগ জনমত জরিপে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প।
বোলসোনারো খুব সম্ভবত বিদেশের মাটিতে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ভক্ত, যিনি বরাবরই ট্রাম্পের প্রায় সব সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়ে আসছেন।
সিএনএন-র ব্রাজিলিয়ান নেটওয়ার্ককে বোলসোনারো বলেন, তিনি ট্রাম্পের জয়ের ব্যাপারে ‘পুরোপুরি নিশ্চিত’ এবং ট্রাম্পের জয় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ইতিবাচক হবে বলেই তার বিশ্বাস।
***
মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৮ (বিডিএসটি)
কী কী হতে পারে

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভোট শেষে শুরু হবে গণনা, ফল পেতে পেতে আমেরিকানদের হয়ত শেষ রাত হয়ে যাবে। যারা তখন ঘুমিয়ে থাকবেন, সকালে উঠে তারা তিন ধরনের শিরোনাম দেখতে পারেন সংবাদ মাধ্যমে। বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা জন সোপেলে।
তার ভাষায়, এই তিন ধরণের সম্ভাব্য দৃশ্যপটের যে কোনো একটি ঘটলে তিনি মোটেও অবাক হবেন না।
১. জো বাইডেনের সহজ জয়: তার মানে জনমত জরিপের পূর্বাভাস সত্যি প্রমাণ করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন সহজেই জিতে যাবেন।
২. ফের ট্রাম্পের অবাক করা জয়: সেক্ষেত্রে ২০১৬ সালের মতই ভুল প্রমাণিত হবে সব জনমত জরিপ। ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। এই সম্ভাবনা সত্যি হলে পেনসিলভেইনিয়া এবং ফ্লোরিডার ভোটের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
৩. বাইডেনের বিপুল বিজয়: জো বাইডেন বিপুল ব্যবধানে জিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবে- এ সম্ভাবনাও ফেলে দেওয়া যাচ্ছে না। ১৯৮০ সালে জিমি কার্টারের বিপক্ষে রোনাল্ড রিগ্যান অথবা ১৯৮৮ সালে মাইকেল ডুকাকিসের বিপক্ষে জর্জ বুশ তেমন বিজয়ই পেয়েছিলেন।
অবশ্য এর বাইরেও আরও একটি সম্ভাবনার কথা মাথায় রাখতে বলছেন জন সোপেলে।
ইলেকটোরাল কলেজের ভোট হিসাব করার ক্ষেত্রে ‘উইনার টেইকস অল’ নিয়ম নেব্রাস্কায় খাটে না। সেখানে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ইলেকটোরাল ভাগ করে দেওয়া হয়।
তাতে যদি শেষ পর্যন্ত এমন হয় যে দুই প্রার্থীই ২৬৯টি করে ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন, তখনই বাধবে গোল। অবশ্য তেমন ঘটনা কখনও ঘটেনি।
বিবিসি
***
মঙ্গলবার রাত ১০টা ১১ (বিডিএসটি)
নাইজেরীয়দের ভালোবাসার ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আফ্রিকার দেশগুলোকে ‘নোংরা দেশের’ তকমা দিয়ে অপমান করার পরও নাইজেরিয়ায় তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি।
আমেরিকার ভোটের দিন মঙ্গলবার নাইজেরিয়ার এক শহরে শত শত নারী-পুরুষ ‘ট্রাম্প ২০২০’ লেখা টি-শার্ট পরে, হাতে মার্কিন পতাকা নিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে মিছিল করেছেন।
অথচ এ বছর ট্রাম্প যে ক’টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন, নাইজেরিয়া তার একটি।
তারপরও আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটির মানুষ ট্রাম্পের উপরই আস্থা রাখছেন বলে উঠে এসেছে জনমত জরিপে।
ট্রাম্পের নাইজেরীয় সমর্থকরা মনে করেন, তার মত একজন নেতা নাইজেরিয়া পেলে তাদের দেশ বসবাসের জন্য আরও উপযুক্ত হত, নাইজেরীয়দের আর বাইরের দেশে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ত না।
***
মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩৬ (বিডিএসটি)
রোবোকল রহস্য
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ না মেলার কথা বললেও কৌতূহল জাগার মত কিছু ঘটনার খবর এসেছে ওয়াশিংটন পোস্টে।
পত্রিকাটি লিখেছে, গত কয়েক সপ্তাহে আমেরিকান ভোটারদের কাছে আনুমানিক এক কোটি ফোন কল গেছে, যা করা হয়েছে যন্ত্রের মাধ্যমে। রেকর্ড করা ওই অডিও বার্তায় কম্পিউটারে তৈরি করা যান্ত্রিক নারী কণ্ঠে সবাইকে বাড়িতে থাকতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
ওই রোবোকলের পেছনে কারা আছে, তা জানা যায়নি। কলগুলো এসেছে ভুয়া অথবা অপরিচিত নম্বর থেকে। গত গ্রীষ্মে এ ধরনের কল আসা শুরু হলেও গত কিছুদিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব এলাকায় এ ধরনের কল আসার তথ্য মিলেছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট ও গার্ডিয়ান
***
মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩৬ (বিডিএসটি)
বিদেশি শক্তির ‘হাত নেই’
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চ্যাড উলফ বলেছেন, এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি।
মঙ্গলবার ভোটের দিন ইন্টারনেটে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “কোনো বিদেশি শক্তি ভোটে কোনো গড়বড় করতে সক্ষম হয়েছে, এমন কোনো নমুনা আমরা এখনও দেখিনি।”
২০১৬ সালের নির্বাচন থেকেই ‘বিদেশি শক্তির’ হস্তক্ষেপের সন্দেহ তাড়া করে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রকে। সেই নির্বাচনে রাশিয়ার হ্যাকাররা ডনাল্ড ট্রাম্পকে জেতাতে এবং হিলারি ক্লিনটনকে হারাতে কাজ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রয়টার্স
***
মঙ্গলবার রাত ৯টা ২৯ (বিডিএসটি)
‘জয় পেলে তবেই’ নিজেকে জয়ী ঘোষণা করবেন ট্রাম্প

ভোটের প্রচারে নিজের ‘বিরাট বিজয়ের’ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ঠিকঠাক ফল আসার আগেই তিনি জয় দাবি করে বসতে পারেন এবং তাতে জটিলতা লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল মার্বিন সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে ভোটের দিন ট্রাম্প একটু অন্য কথা বলেছেন।
‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ টেলিভিশন শোতে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি তখনই নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন, যখন জয় আসবে।
“এ নিয়ে খেলার তো কোনো কারণ নেই। আমি এখানে জয়ী হওয়ার খুব ভালো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। আমি জানি না তারা কীভাবে সম্ভাবনার হিসাব করে।”
সিএনএন
***
মঙ্গলবার রাত ৯টা ১১ (বিডিএসটি)
একটি জরিপকারী সংস্থা নিশ্চিত, জিতবে ট্রাম্পই
অধিকাংশ জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে ডনাল্ড ট্রাম্প যদি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে যান, অন্তত একটি জরিপকারী সংস্থা বলতে পারবে- “আমরা আগেই বলেছিলাম।”
রবার্ট কাহালি পরিচালিত ট্রাফলগার গ্রুপ চলতি বছরের শুরু থেকেই বলে আসছিল, ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত রাজ্যগুলোতে তাদের জরিপে বরাবরই লড়াকু অবস্থানে আছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প। কখনও কখনও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের তুলনায় এগিয়েও গেছেন।
অথচ সেসব রাজ্যে বাইডেনের ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে থাকার তথ্য দিয়ে আসছে জরিপকারী অন্যান্য সংস্থা।
ট্রাফলগার গ্রুপ কীভাবে ওই জরিপ চালিয়েছে, সেই তথ্য তারা প্রকাশ করেনি। অন্য অনেকেই তাদের ওই জরিপ ফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। অবশ্য রিপাবলিকান ‘স্ট্র্যাটেজিস্ট’ কাহালি তাদের ২০১৬ সালের কথা মনে করিয়ে দিতে পারেন।
২০১৬ সালের ওই নির্বাচনেই প্রথমবার জনমত জরিপের তথ্য প্রকাশ শুরু করে ট্রাফলগার গ্রুপ। আর সেখানে ট্রাম্পের বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করা হচ্ছিল, যা শেষ পর্যন্ত ফলে যায়।
এমনকি ওই নির্বাচনে ট্রাম্প আর হিলারি ক্লিনটনের ইলেকটোরাল ভোটের ব্যবধান যে ৩০৬-২২৭ হবে, ট্রাফলগারের সেই ভবিষ্যদ্বণীও মিলে গিয়েছিল। অবশ্য কোনো কোন রাজ্যে ট্রাম্প কত ভোট পাবেন, সেই সংখ্যায় সামান্য হেরফের হয়েছিল।
নিউ ইয়র্ক টাইমস
***
মঙ্গলবার রাত ৮টা ৩৭ (বিডিএসটি)
ট্রাম্পের ভোটের নাচ
সোমবার প্রচারের শেষ দিন উইসকনসিন, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা ও পেনসিলভেইনিয়াতে চষে বেরিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সমর্থকদের ভোট দিতে যাওয়ার উৎসাহ দিয়ে টুইটারে নিজের এই ভিডিওটি তিনি পোস্ট করেছেন।
VOTE! VOTE! VOTE!pic.twitter.com/85ySh1KYkh
— Donald J. Trump (@realDonaldTrump) November 3, 2020
***
মঙ্গলবার রাত ৮টা ০২ (বিডিএসটি)
চূড়ান্ত ফল মিলবে কখন?

এবছর প্রায় দশ কোটি আমেরিকান ভোটার ডাকযোগে আগাম ভোট দিয়েছেন, যা দেশটির ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ভিড় এড়াতেই মূলত ডাকযোগে ভোটের সংখ্যা বেড়েছে।
সেই হিসেবে মঙ্গলবার বুথে গিয়ে ভোট দিতে পারেন মোট নিবন্ধিত ভোটারের অর্ধেক। ফলে বুথে পড়া ভোটের হিসাবে জয় পরাজয় নির্ধারিত নাও হতে পারে। কিন্তু ডাকযোগে যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের ব্যাটল পেপার পৌঁছাতে এবং গণনা শেষ হতে মঙ্গলবার পেরিয়ে আরও কয়েকদিন সময় লেগে যেতে পারে।
সে কারণে নির্বাচনের দিন ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে পেনসিলভেইনিয়ার মত অঙ্গরাজ্যে এগিয়ে থাকতে পারেন রিপাবলিকানরা। নির্বাচনের ম্যাপে যাদের ‘লাল রঙ’ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।
পেনসিলভেইনিয়ায় ভোটের দিনের পর আরও তিনদিন ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট পেপার গ্রহণ করা হবে। আর যেহেতু ডেমোক্র্যাটরা ডাকযোগে বেশি ভোট দিয়েছেন, তাই প্রথম দিন ‘লালে লাল’ হয়ে যাওয়া নির্বাচনী ম্যাপ ধীরে ধীরে নীল হয়ে যেতে পারে। ডেমোক্র্যাটিকদের ম্যাপে নীল রঙ দেখানো হয়।
আবার ফ্লোরিডা ও নর্থ ক্যারোলাইনার মত অঙ্গরাজ্যে উল্টো ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ওই দুই অঙ্গরাজ্যে ভোটের আগের দিন থেকেই ডাকযোগে পাওয়া ব্যালটপেপার গণনা শুরু হয়ে গেছে। তাই নীল ম্যাপ ভোটের দিন লাল হয়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে কখন চূড়ান্ত ফল পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে এবার।
***
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৩ (বিডিএসটি)
আদালতে যেতে হবে?

ডাকযোগে রেকর্ড সংখ্যায় ভোট, ইলেকটরদের মধ্যে বেশিমাত্রায় মেরুকরণ কিংবা সুপ্রিম কোর্টে বিচারকদের প্রস্তুতির যে আভাস যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো দিচ্ছে, তাতে নতুন প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত হওয়ার লড়াই শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়াতে পারে।
যে কোনো একটি ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ অঙ্গরাজ্যের ফলাফল সমান-সমান বা চুল পরিমাণ পার্থক্য হলেও উভয় পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।
রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তো আগেই বলেছিলেন, নির্বাচনে পরাজিত হলে তিনি রায় মেনে নাও নিতে পারেন। প্রয়োজনে যেতে পারেন উচ্চ আদালতে। এজন্য প্রস্তুতিও নিয়েছেন।
যেসব অঙ্গরাজ্যে ভোটের লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে সেখানে ট্রাম্প হয়ত আগাম ভোটের ফলের উপর ভিত্তি করেই দলীয় ইলেকটরদের অনুমোদন দিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের রাজি করানোর চেষ্টা নিতে পারেন। তারপর যখন আরও ব্যালট গণনা করা হবে, তখন ঘটনাচক্রে একই রাজ্যে বাইডেনের জয়ও নিশ্চিত হতে পারে।
সেক্ষেত্রে দুইপক্ষের ইলেকটরদের দ্বান্দ্বিক অবস্থান এবং এর ফলশ্রতিতে জয়-পরাজায় নির্ধারণ করে দিতে পারে কংগ্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রে গত ১৪০ বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে মাত্র একবার আদালত চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ২০০০ সালে আদালতের হস্তক্ষেপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল গোরকে হারিয়ে বিজয়ী হন রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ ডব্লিউ বুশ।
আল গোর ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ভোট পুনঃগণনার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন। আদালতে হেরে যাওয়ার পর আল গোর নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নেন।
এবার ভোটের লড়াই আদালত পর্যন্ত গড়ালে সেখানে নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির মধ্যে ৬:৩ ব্যবধানে রক্ষণশীলরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
সর্বশেষ গত ২৬ অক্টোবর ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী এমি কনি ব্যারেটের নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দ্বিগুণ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন রক্ষণশীলরা। এই ছয় জনের মধ্যে তিনজনই আবার ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া।
তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে এতটা সহজ করে দেখছেন না। এমন একজন এডাভ নোটি বলেন, “প্রেসিডেন্টের কিছু কিছু বক্তব্যে মনে হচ্ছে তিনি ভাবছেন, সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে কে বিজয়ী হয়েছেন এবং সুপ্রিম কোর্ট একটা রায় দিয়ে দিবে। কিন্তু বিষয়টা আসলে এতটা সহজ না। নির্বাচনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এভাবে কাজ করে না।”
***
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২৯ (বিডিএসটি)
কমলা হ্যারিসের সম্মানে পনির টিক্কা, নানাবাড়িতে পূজা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সম্মানে নামকরা ভারতীয় খাবার পনিরের টিক্কা তৈরি করেছেন মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটিক দলের সদস্য প্রমিলা জয়পাল।
অনলাইন প্রচারে যোগ দিয়ে হ্যারিস বলেছিলেন, ভারতীয় খাবারের মধ্যে তার যে কোনও ধরনের টিক্কা পছন্দ।
আর তাই নির্বাচন সামনে রেখে সোমবার রাতেই জয়পাল পনিরের টিক্কা তৈরি করে টুইটারে ছবি পোস্ট করেন। তখন থেকেই ইন্টারনেটে ঘুরছে এই ছবি। ভারতে ওই টিক্কা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাঙ্গও।
কারণ, প্রমিলা জয়পাল উপরে ধনে পাতা ছড়ানো ঘন ঝোলের পনির টিক্কা তৈরি করেছেন। কিন্তু ভারতীয় রন্ধন প্রণালীতে পনির টিক্কা হয় শিকে গাঁথা শুকনো কাবাবের মত।
Compulsive, night-before-election activity: make comfort food. That’s paneer tikka tonight, in honor of electing #KamalaHarris Veep tomorrow since she just said on Instagram that her favorite North Indian food is any kind of tikka! Let’s go, people! VOTE! #BidenHarris2020 pic.twitter.com/gqyT7BotgG
— Pramila Jayapal (@PramilaJayapal) November 3, 2020
এদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের জয় কামনা করে ভারতে তার নানা বাড়ির গ্রামে পূজাও হয়েছে।
কমলার বাবা ডনাল্ড হ্যারিস জ্যামইকার নাগরিক। মা ক্যান্সার গবেষক শামলা গোপালানে জন্ম ভারতে। শামলার বাবা ভারতীয় কূটনীতিক পিভি গোপালানের জন্ম ভারতের দক্ষিণের রাজ্য তামিল নাড়ুর থুলাসেন্দ্রাপুরাম গ্রামে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট গ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থুলাসেন্দ্রাপুরাম ও তার আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন স্থানীয় একটি মন্দিরে জড়ো হয়ে বিশেষ পূজার আয়োজন করে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী কমলা হ্যারিসের জয় কামনা করে দেড়শর বেশি দরিদ্র মানুষকে খাওয়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
বিবিসি
***
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ (বিডিএসটি)
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন যেভাবে দেখছে বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটের ফলের গভীর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বে। আর তাই বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমগুলোতে শিরোনাম হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।
এবারের নির্বাচন ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের রূপ’ নিতে পারে বলে মনে করছে রাশিয়ার চ্যানেল ওয়ান।
ইরানের ইংরেজি ভাষার প্রেস টিভি মঙ্গলবার সকালে সিবিএস নিউজের সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফের সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রতিবেদন করেছে।
তাতে এটিই প্রকাশ পেয়েছে যে, হোয়াইট হাউসে যে-ই আসুন না কেন ইরান চায় তাদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরি আচরণ বন্ধ হোক।
আরব দেশগুলোর গণমাধ্যমও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মার্কিন নির্বাচনের খবর প্রকাশ করছে। যদিও কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রাধান্য পাচ্ছে অস্ট্রিয়ায় হামলার খবর।
আল-আরাবিয়ার বুলেটিনে ‘বিভক্তি, উত্তেজনা এবং বিক্ষোভের নজিরবিহীন শঙ্কার মধ্যে’ নির্বাচনের ব্যালট বক্স খোলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
তুরস্কের সরকারপন্থি গণমাধ্যম প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের উষ্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তাকে সমর্থন দিয়েছে।
তুরস্কের আরও দুটি পত্রিকা বলেছে, দুই প্রার্থী ভোটের ফল নিয়ে আপত্তি তুলতে পারে। এ কারণে নির্বাচনী লড়াই শেষ পর্যন্ত পুলিশ স্টেশনে গিয়ে শেষ হতে পারে।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া মার্কিন নির্বাচনের দিনে করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ে উৎকণ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরেছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত ট্যাবলয়েড ‘গ্লোবাল টাইমস’ বলেছে, চীন মার্কিন নির্বাচনের চেয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
***
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৪ (বিডিএসটি)
বেশি ভোট পেয়েও হারতে হতে পারে

ইতোমধ্যে প্রায় দশ কোটি ভোটার আগাম ভোট দিয়ে দেওয়ায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটের হার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলবে বলে আগেই পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছেন বিশ্লেষকরা। তবে সারা দেশে মোট ভোটে এগিয়ে থাকা প্রার্থীকেও পরাজয় মেনে নিতে হতে পারে মার্কিন নির্বাচন পদ্ধতির কারণে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পরাজয় নির্ধারিত হয় ইলেকটোরাল ভোটের হিসাবে। মঙ্গলবার যে ভোট দেওয়া হচ্ছে, তাতে প্রতিটি রাজ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেকটর নির্বাচিত হবেন। আর পুরো দেশের অর্ধেকের বেশি ইলেকটরের সমর্থন বা ইলেকটোরাল ভোট যে প্রার্থী পাবেন, তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে অন্তত ২৭০টি নিশ্চিত করতে হবে।
এক একটি রাজ্যে ইলেকটরের সংখ্যা একেক রকম। এটি নির্ধারিত হয় কংগ্রেসে রাজ্যের কতোজন প্রতিনিধি ও সিনেটর আছেন তার বিচারে। জনসংখ্যার ওপর রাজ্যগুলোর প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ভর করে, প্রতি ১০ বছর পর পর আদমশুমারির মাধ্যম এটি নির্ধারণ করা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৫টি, টেক্সাসে ৩৮, নিউ ইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় ২৯টি, পেনসিলভেইনিয়া ও ইলিনয়ে ২০টি করে ইলেকটোরাল ভোট আছে। আবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় আছে ৩টি।
নেব্রাস্কা ও মেইন বাদে বাকি সব রাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় যিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন ‘উইনার টেইক অল’ পদ্ধতিতে সেখানকার সব ইলেকটোরাল কলেজ ভোটও তিনিই পাবেন। নেব্রাস্কা ও মেইনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ইলেকটোরাল ভাগ করে দেওয়া হয়।
এখন মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে ২৭০টি পেয়ে গেলেই একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন। আবার মোট ভোটের হিসেবে সারা দেশে বেশি ভোট পেয়েও ইলেকটোরাল ভোটে হেরে যেতে পারেন একজন প্রার্থী।
গত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে দুটোতে মোট ভোটে কম পেয়েও ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন জর্জ ডাব্লিউ বুশ ও ডনাল্ড ট্রাম্প।
২০১৬ সালে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যদিও তিনি মোট ভোটের হিসাবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে ৩০ লাখ ভোট কম পেয়েছিলেন।
তার আগে ২০০০ সালে রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ ডাব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ২৭১টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে, যদিও মোট ভোটে তার চেয়ে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ভোট বেশি পেয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল গোর।
বিবিসি
***
মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ৪৪ (বিডিএসটি)
‘বিরাট জয়ের’ প্রত্যাশা ট্রাম্পের
মিশিগানকে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ রাজ্য। সেখানে শেষ দিনের প্রচারে মধ্যরাতের এক জনসভায় সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পদ বাঁচানোর লড়াইয়ে থাকা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা লাল রঙের একটি ক্যাপ মাথায় দিয়ে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ‘রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম বড় বিজয়’ আসন্ন।
VOTE! VOTE! VOTE!pic.twitter.com/85ySh1KYkh
— Donald J. Trump (@realDonaldTrump) November 3, 2020
গার্ডিয়ান
***
মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ২৮ (বিডিএসটি)
ট্রাম্পের জন্য ভারতে প্রার্থনা

ভারতের ডানপন্থি হিন্দু সংগঠন হিন্দু সেনা বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেছে মঙ্গলবার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্প যেন পুনর্নির্বাচিত হন, সেজন্যই দিল্লিতে তাদের এই বিশেষ পূজার আয়োজন। ছবি: রয়টার্স
***
মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ১৫ (বিডিএসটি)
বাইডেনকে এশিয়ান আমেরিকান রিপাবলিকান গ্রুপের সমর্থন
এশিয়ান আমেরিকান রিপাবলিকান গ্রুপ এবার জো বাইডেনকে সমর্থন দিয়ে তাদের হাজার হাজার সদস্যকে ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে ২০১৬ সালের নির্বাচনে এশিয়ান আমেরিকান রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছিল। এবছর তারা আর ট্রাম্পকে সমর্থন করবে না বলে জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “২০১৬ সালে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়াটা ঠিক ছিল। কারণ, আমরা সিস্টেম ভাঙতে বাইরের কাউকে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি পুরো বিল্ডিংই ধ্বংস করে ফেলছেন।”
বাইডেনের নানা নীতির সঙ্গে একমত না হলেও ‘ঝুঁকিতে থাকা দেশ এবং বিশ্বের স্বার্থে’ এবার ‘জো বাইডেনকে ভোট দিন, আমেরিকাকে বাঁচান!’ স্লোগান দিয়ে বিবৃতি শেষ করেছে এশিয়ান আমেরিকান রিপাবলিকান গ্রুপ।
বিবিসি
***
মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ০৩ (বিডিএসটি)
ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোর জরিপ কী বলছে?
ডেমোক্রেটিক পার্টি আর রিপাবলিকান পার্টি- এই দুই শিবিরে ভাগ হয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অধিকাংশ রাজ্যের ভোটের ফল অনেকটাই অনুমেয়। বাকি যে রাজ্যগুলোতে দুই প্রধান প্রার্থীর ব্যবধান কম, সেগুলোই হয়ে উঠতে পারে জয়-পরাজয়ের চূড়ান্ত নির্ধারক। সেই ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ রাজ্যের শীর্ষ ছয়টির মধ্যে পাঁচটিতেই সবশেষ জরিপে এগিয়ে আছেন জো বাইডেন।
বাইডেন ফ্লোরিডায় ১.৮ শতাংশ পয়েন্ট, পেনসিলভেইনিয়ায় ২.৬ শতাংশ পয়েন্ট, মিশিগানে ৫.১ শতাংশ পয়েন্ট, উইসকনসিনে ৬.৭ শতাংশ পয়েন্ট এবং অ্যারিজোনায় ০.৯ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে আছেন ট্রাম্পের চেয়ে।
কেবল নর্থ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্প ০.২ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন বাইডেনের চেয়ে।
বিবিসি

***
মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ১১ (বিডিএসটি)
কোন রাজ্যে কখন ভোট
সময়ের ভিন্নতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের একেক এলাকায় ভোটকেন্দ্রগুলো খুলবে একেক সময়ে। নিউ হ্যাম্পশায়ারসহ কিছু রাজ্যে এরই মধ্যে ভোট চলছে।
ওদিকে, ভারমন্টের মতো পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভোট শুরুর সময় ০৫:০০টা (১০:০০ জিএমটি)। হাওয়াইয়ে ভোট হবে আরও পরে ১২:০০টায় (১৭:০০ জিএমটি)।
ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া এবং আরও কিছু রাজ্যে ভোট শুরুর সময়-
০৬:০০ ইএসটি (১১:০০ জিএমটি): কেনাটিকেট, ইন্ডিয়ানা, কেনটাকি, মাইন, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, ভার্জিনিয়া।
০৭:০০ ইএসটি (১২:০০ জিএমটি): ডেলাওয়ার, ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ইলিনয়, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিজৌরি, পেনসিলভানিয়া, রোডে আইল্যান্ড, সাউথ ক্যারোলাইনা।
৯:০০ ইএসটি (১৪:০০ জিএমটি) কলোরাডো, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ মেক্সিকো, ইউটাহ, উইয়োমিং।
১০:০০ ইএসটি (১৫:০০ জিএমটি): ক্যালিফোর্নিয়া, আইডাহো, নেভাডা।
বিবিসি
***
মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৩৮ (বিডিএসটি)
ট্রাম্প ফিরেছেন হোয়াইট হাউজে, বাইডেন শৈশবের শহরে
ম্যারাথন প্রচার শেষে এসেছে ভোটের দিন। প্রচারের শেষ দিন চার রাজ্যে পাঁচটি নির্বাচনী সভা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রচারের সমাপ্তি টেনে ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় সোমবার রাত আড়াইটায় তিনি ফিরেছেন হোয়াইট হাউজে। মঙ্গলবার ভোটের দিন বেশিরভাগ সময় তিনি হোয়াইট হাউজেই কাটাবেন।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন ভোটের দিনটি কাটাবেন পেনসিলভেইনিয়ার স্কারানটনে, তার শৈশবের শহরে।
বাইডেন পেনসিলভেইনিয়া ও ওহাইওয় জনসংযোগ করে প্রচারে ইতি টেনেছেন; ট্রাম্প ছুটে বেড়িয়েছেন উইসকনসিন, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা ও পেনসিলভেইনিয়াতে।
শেষ মুহুর্তের প্রচারে দুই প্রার্থী জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এ রাজ্যগুলোর ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করেছেন।
রয়টার্স
President Trump and Democratic rival Joe Biden made a last-ditch push for votes in battleground states as their campaigns prepared for post-election disputes that could prolong a divisive presidential election https://t.co/moBFLYtPQJ pic.twitter.com/hChqt0uPbG
— Reuters (@Reuters) November 3, 2020
***
মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৫৭ (বিডিএসটি)
তথ্য কণিকা: ৭৪ বনাম ৭৭

৭৪ বছর বয়সী ডনাল্ড ট্রাম্প লড়ছেন দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য। জয়ী হতে ব্যর্থ হলে ১৯৯২ সালে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের পর তিনি হবেন পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ প্রথম প্রেসিডেন্ট।
ভোটের আগে সর্বশেষ জনমত জরিপেও ট্রাম্পের তুলনায় এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে। ৭৭ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট জিতে গেলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রার্থী।
করোনাভাইরাস মহামারী ছাড়াও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবা, অভিবাসন পদ্ধতি ও বর্ণবাদ প্রসঙ্গ এবারের নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের প্রভাবিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস এরই মধ্যে দেশটির প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
নির্বাচনে জিতলে বাইডেন ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় দেশজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প বলছেন, মার্কিন অর্থনীতি নতুন কোনো লকডাউনের ধাক্কা সহ্য করতে পারবে না।
***
মঙ্গলবার দুপুর ২টা ১৩ (বিডিএসটি)
করোনাভাইরাস আক্রান্তরাও ভোট দিতে পারবেন
যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস আক্রান্ত ভোটাররা এবং যারা স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে আছেন তারাও ভোট দিতে পারবেন।
সিডিসি জানিয়েছে, আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও সুরক্ষার নিয়ম মেনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে কোনো বাধা নেই। তবে কেন্দ্রে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, অন্যান্যদের সঙ্গে ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং ভোট দেওয়ার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে অথবা হাত স্যানিটাইজ করতে হবে।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যা ৯২ লাখ ৯১ হাজার ২৪৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৫৬২ জনের।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে করোনাভাইরাস মহামারীর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
বিবিসি
***
মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪৬ (বিডিএসটি)
তথ্যকণিকা: যুক্তরাষ্ট্রে ভোট হয় যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জনগণের সরাসরি বা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন না। ভোটাররা মঙ্গলবার যে ভোট দিচ্ছেন, তাতে প্রতিটি রাজ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেকটর নির্বাচিত হবেন। আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের যে প্রার্থী অর্ধেকের বেশি ইলেকটরের সমর্থন বা ইলেকটোরাল ভোট পাবেন, তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ (ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া) মোট ইলেকটোরাল কলেজ ৫১টি। ভোটাররা এই ৫১টি ইলেকটোরাল কলেজের ৫৩৮ জন ইলেকটর নির্বাচিত করেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে এই ৫৩৮ ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে অন্তত ২৭০টি নিশ্চিত করতে হয়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীরা ভোটারদের কাছ থেকে যে ভোট পান তাকে বলা হয় পপুলার ভোট। আর ইলেকটোরাল কলেজের ভোটকে বলা হয় ইলেকটোরাল ভোট।
কোন অঙ্গরাজ্যে কতজন ইলেকটর থাকবেন তা সেখানকার মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। একটি রাজ্যে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি পপুলার ভোট পান, তিনি ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেকটোরাল ভোটও পেয়ে যান। এ নিয়মকে বলে ‘উইনারস টেইক অল’। নেব্রাস্কা ও মেইন বাদে বাকি সব রাজ্যে এ নিয়ম প্রযোজ্য। নেব্রাস্কা ও মেইনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ইলেকটোরাল ভাগ করে দেওয়া হয়।
ইলেকটোরাল কলেজের এ নিয়মের কারণে পেনসিলভেইনিয়া, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলিনা ও অ্যারিজোনার মত অঙ্গরাজ্যগুলো জয়-পরাজয় নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।
সবচেয়ে বেশি ইলেকটোরাল ভোট ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৫টি; এরপর টেক্সাসে ৩৮, নিউ ইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় ২৯, পেনসিলভেইনিয়া ও ইলিনয়ে ২০টি করে। ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় আছে ৩টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট।
***
মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৩ (বিডিএসটি)
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটগ্রহণ শুরু

রীতি অনুযায়ী মঙ্গলবার প্রথম প্রহরেই ভোট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত সংলগ্ন নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের ছোট শহর ডিক্সভিল নচের ভোটাররা। আর এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
ডিক্সভিল নচের হেমলেট এলাকার বালসামস হোটেলের হেল হাউসে স্থানীয় ভোটাররা তাদের রায় জানান। তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফলও ঘোষণা করা হয়। ওই কেন্দ্রে পড়া ৫টি ভোটের সবগুলোই পেয়েছেন �েয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন; ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পাননি একটিও।
ডিক্সভিল নচের কাছাকাছি মিলসফিল্ডেও মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে ভোট হয়েছে। সেখানে ট্রাম্প পেয়েছেন ১৬ ভোট, আর বাইডেন ৫ ভোট পেয়েছেন।
তবে কেন্দ্রভিত্তিক এই ফল থেকে কে হতে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট, তার আভাস পাওয়া যায় না।
২০১৬ সালের নির্বাচনে এ কেন্দ্রে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জিতেছিলেন; নিউ হ্যাম্পশায়ারে সেবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ট্রাম্প সামান্য ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন। যদিও অন্য রাজ্যগুলোর ভোট তাকে ঠিকই হোয়াইট হাউসে পৌঁছে দিয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স ও সিএনএন
[৩ নভেম্বর মঙ্গলবার, বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১১ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লাইভ শুরু]