০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

এলডিসি উত্তরণ পেছানো ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত, সংস্কার এখন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দায়: দেবপ্রিয়

“যদি সংস্কার আপনি না করেন, তাহলে কিন্তু আপনার কথার বরখেলাপ হবে। তাহলে কিন্তু দেশ হিসেবে আমাদের যে বিশ্বাসযোগ্যতা, সেটাতে আঘাত আসবে—এটা স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 03:09 PM

Updated : 01 Nov 2026, 03:09 PM

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়টিকে ‘ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে চিঠি দিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের সহযোগিতা চাওয়ায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায় এখন সরাসরি সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর বর্তেছে।

দেবপ্রিয় বলেন, “আগে যেকোনো সময় এটা হয়ত আমলা, মন্ত্রী ইত্যাদির পর্যায়ে ছিল, এখন এটা সরকারের সামগ্রিকতায় রাজনৈতিক দায়দায়িত্বের ভিতরে চলে এসেছে।

“উনারা (জাতিসংঘ) এটাকে সেইভাবেই কিন্তু বিবেচনা করে নিয়েছেন, কারণ প্রধানমন্ত্রী চিঠি লিখেছেন। প্রধানমন্ত্রী চিঠি লিখেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে, সেহেতু প্রধানমন্ত্রী এই দায়িত্বটা নিয়েছেন যে উনি এই তিন বছরের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের রেখা পার হবেন।”

দেবপ্রিয় বলেন, “এটা আপনারা খেয়াল রাখবেন। এটা যে কোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন রকম কিন্তু। এটা আর কোনো কারিগরি বিষয় বলে বিবেচিত না।

“কারিগরি বিষয় আছে, বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় আছে, কিন্তু তার চেয়ে বেশি এটা এখন একটা রাজনৈতিক মালিকানার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।”

রোববার রাজধানীতে সিপিডির কার্যালয়ে এলডিসি থেকে উত্তরণ ও সরকারের সংস্কার পদক্ষেপ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন সিপিডিন সম্মাননীয় ফেলো।

গত ২৯ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে।

এর ফলে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ল।

দেবপ্রিয় বলেন, সিদ্ধান্তটিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে উত্তরণের সময় বাড়ানোর মূল মাপকাঠি করা হয়নি। তবে দেশের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

“সেহেতু আপনাদের আমি আজকে মূল কথা যেটা বলতে চাই, সেটা হলো এই পুরো প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে বাংলাদেশের উত্তরণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মালিকানা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিষয়টা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে।”

এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘শর্তসাপেক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করে দেবপ্রিয় বলেন, দেশের পক্ষ থেকে সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে, তার ওপর আস্থা রেখেই জাতিসংঘ অতিরিক্ত সময় দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “সেহেতু ওই সংস্কারের বিষয়টিই সবচেয়ে কেন্দ্রবিন্দুতে আছে। যদি সংস্কার আপনি না করেন, তাহলে কিন্তু আপনার কথার বরখেলাপ হবে। তাহলে কিন্তু দেশ হিসেবে আমাদের যে বিশ্বাসযোগ্যতা, সেটাতে আঘাত আসবে—এটা স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে।”