বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ ৩ বছর পেছাল
নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার এ দুদেশের এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন উরুগুয়ের প্রতিনিধি।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ তিন বছর পেছানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে জাতিসংঘ।
১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকাভুক্ত হওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালকেও এই সুযোগ দিয়ে নিউ ইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার এক প্লেনারি মিটিংয়ে এ প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল চলতি বছর ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াতে বাংলাদেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাড়তি এ সময় মিলল।
‘গ্রুপ অব ৭৭’ ও চীনের পক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার এ দুদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন উরুগুয়ের প্রতিনিধি।
পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। ওই সেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘের একাশিতম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বাংলাদেশের প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো দেশের প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেননি বা এর বিরোধিতা করেননি।
অপরদিকে ফ্রান্স, কানাডা ও আয়ারল্যান্ডের (ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে) প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের সময় পেছানোর বিষয়ে সমর্থন দিয়ে বক্তব্য রাখেন। তবে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা এসেছে তাদের তরফে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বগ্রহণের পরদিন এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে জাতিসংঘকে চিঠি পাঠায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৮ সালে। চূড়ান্তভাবে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে।
কিন্তু কোভিড মহামারীর কারণে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায় দুই বছর। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। এখন সময় পাওয়ায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসি হিসেবে আগের মত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।
স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপের রপ্তানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে সেই সুবিধা থাকার কথা নয়।
এজন্য উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারানো, ওষুধ ও তৈরি পোশাক শিল্পের সংকট মোকাবিলা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার প্রস্তুতির জন্য এই অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে ব্যবসায়ীরাও দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
ক্ষমতার পালা বদলের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অনুরোধের পর ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক পত্রে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা ২ জুন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়।
এরপর এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে গত ২১ জুলাই সুপারিশ করে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)।
বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে ওই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হল।
এখন সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাবে বাংলাদেশ ও নেপাল।
