ঋণ ব্যবহারের অগ্রগতি জানতে আইএমএফ প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকে
আগামী অক্টোবর মাসে দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের আগে অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য আইএমএফ মিশন এবার ঢাকা এসেছে।
ঋণের অর্থ ব্যবহারের অগ্রগতি এবং অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের হালনাগাদ তথ্য জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করছে ঢাকায় আসা আইএমএফ প্রতিনিধি দল।
আগামী অক্টোবর মাসে দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের আগে অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য আইএমএফ মিশন এবার ঢাকা এসেছে।
এ সংস্থার এশিয়া ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্ব পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে বৈঠক দিয়ে শুরু করেন তাদের দিনের সূচি।
বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে তাদের বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে বিকেল ৩টায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আইএমএফ এর স্টাফ ভিজিট একটি রুটিন ওয়ার্ক। সদস্য সব রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর এরকম সফর তারা করে থাকেন, এবারের সফরটিও সেরকম।
“তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক সূচকগুলোর হালনাগাদ তথ্য নিয়ে আলোচনা করবেন। সেখানে আইএমএফ এর ঋণের অর্থের ব্যবহারের অগ্রগতি সম্পর্কিত বিষয়াদিও যুক্ত থাকবে।”
মুখপাত্র বলেন, “বাংলাদেশকে দেওয়া আইএমএফ এর ঋণের অর্থ ব্যবহারের অগ্রগতি সংক্রান্ত যে আলোচনা হওয়ার বিষয় রয়েছে, তার মধ্যে ডলারের বিনিময় হার একটিতে নিয়ে আসা, ঋণ সুদহার বাজারমুখী করা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গণনার পদ্ধতি অগ্রাধিকার পাবে।”
এবারের সফরেও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব অধিদপ্তর (এনবিআর) ও নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে আইএমএফ প্রতিনিধি দল।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপের মুখে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আইএমএফ এর ঋণের আবেদন করে বাংলাদেশ। ঋণ চুক্তির সময় বাংলাদেশ এসব বিষয়ে সংস্কারের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিল।
৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার হাতে পায় বাংলাদেশ। এর আগে ও পরে বাংলাদেশ পরামর্শ অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি কমানোসহ আর্থিক খাতের কাঠামো ও নীতি সংস্কারে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে।
প্রথম কিস্তি পাওয়ার পর থেকেই পরামর্শ অনুযায়ী আর্থিক খাতের কাঠামো ও নীতি সংস্কারের বেশ কিছু শর্ত বাস্তবায়নও করেছে বাংলাদেশ।
