তেলের দামের হলকা ছড়াচ্ছে সর্বত্র
“ট্রাকের ভাড়া চার হাজার টাকা বাড়তি; এই চার হাজার টাকার খরচ কি মালামালের ওপর পড়ব না,” বলেন আড়তদার ইদ্রিস ফকির।
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জনজীবনে।
পরিবহন থেকে শুরু করে নিত্যপণ্য–সব কিছুর দামই চড়তে শুরু করেছে।
পাঁচ মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারকে এ সিদ্ধান্তকে সরে আসার দাবিও তুলেছে বিভিন্ন সংগঠন।
এসব সংগঠনের নেতারা বলছেন, জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে ‘চরম অস্থিরতা’ বিরাজ করছে; এর মধ্যে এক লাফে এতটা দাম বাড়ানো মানুষের ‘পকেট কাটার শামিল’।
রোববার রাত ১২টা থেকে থেকে চার ধরনের জ্বালানি তেলের লিটার এক লাফে ২০ টাকা বাড়ায় সরকার। নতুন দর অনুযায়ী, ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোলের লিটার পড়ছে ১৬০ টাকা।
এর আগে গত এপ্রিলে এই চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
সেবার ডিজেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ এবং কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়।
রোববার মধ্যরাত থেকে নতুন দর কার্যকর হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতে।
পঞ্চগড় ও খুলনা থেকে সবজি এনে মোহাম্মদপুর রায়ের বাজারের সাদেক খান কৃষি মার্কেটে বিক্রি করেন আড়তদার মো. ইদ্রিস ফকির।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় আড়তেই কথা হয় তার সঙ্গে। ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ চার হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ইদ্রিস ফকির বলেন, “চার হাজার টাকা বাড়তি। এই চার হাজার টাকার খরচ মালামালের উপর পড়ব না?
“শনিবার রাতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার গাড়ি ভাড়া করলাম ২৬ হাজার ৫০০ টাকা। আজ ভাড়া করলাম ৩০ হাজার ৫০০ টাকায়। খুলনার গাড়ি আনছিলাম ১৪ হাজার ৫০০, আজ ১৭ হাজার ৫০০; তিন হাজার বাড়তি। এই বাড়তি টাকা মালটার ওপর পড়ব।
“তাইলে দাম অটো বাইড়া যাইব। কাল থেকেই সবজির দাম বাড়ব।”
মানিকগঞ্জ থেকে সবজি কিনে আনেন এই বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সাজু রহমান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “গাড়ি ভাড়া ছিল ২ হাজার ৬০০ টাকা। আজ সকালে মাল আনলাম ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে; ৯০০ টাকা বাড়তি।
“এটা তো আমার পকেট থেকে দিব না। কাস্টমারের কাছ থেকে নিতে হবে। কেজিতে ১০ টাকা বাড়ব। খুচরা, যারা আমাদের থাইকা কিনা নিয়ে যায়, তারা আরও বেশি বেচব। বাড়তি টাকা চাইলে কাস্টমারের সঙ্গে মন কালাকালি হবে।”
তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে গাড়ি ভাড়া নিয়ে মালিক ও ব্যাপারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হওয়ার কথা জানান পিকআপ চালক আমির বিশ্বাস।
সিংগাইর থেকে প্রতিদিন মালবোঝাই পণ্য ঢাকার বিভিন্ন বাজারে আনেন আমির।
তিনি বলেন, “তেলের দাম কিছুদিন আগে বাড়ল। হঠাৎ করে আজ আবার বাড়ল। ভাড়া বাড়তেছে। যেকোনো মানুষ ভাড়া বাড়ার বিষয়ে বললে দিতে চায় না। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল লাগে। সিংগাইর থেকে ঢাকায় প্রতিদিন পারমানেন্ট ট্রিপ দুই হাজার টাকা। আজ মালিক ফোন কইরা বলল ২৫০০ টাকা ভাড়া ধরার জন্য। তাতে ব্যাপারী সকালে আমার সঙ্গে রাগারাগি করছে। আমি বলছি, আমার সঙ্গে কথা না বলে মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। তেলের দাম বাড়ার কারণে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে।”
মহাখালী এলাকায় দুপুরে বাসস্ট্যান্ডের কোনায় প্যাডেল রিকশা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন মকবুল মিয়া। তিনি ২০ বছর ধরে রিকশা চালান; বাড়ি ময়মনসিংহ। সাড়ে তিন হাজার টাকা ভাড়ায় সাততলা মসজিদ এলাকায় স্ত্রীসহ একটি ছোট বাসায় থাকেন তিনি।
আগেও তেলের দাম বাড়ার কারণে তার দৈনন্দিন ব্যয় বেড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বাড়তি তেলের দাম তার কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সবজি খাওন লাগে ৪০/৪৫ টেহায়। মোটা চাল খাওন লাগে ৬৫ টেহায়। সারাদিনে আয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। জমা দেওন লাগে দেড়শ। কী বাজার খামু, কী ওষুধপত্র খামু, কী করমু, একমাত্র আল্লাই জানে।”
ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে দূরপাল্লার বাস ভাড়া বাড়ানোরও আয়োজন চলছে। এরই মধ্যে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং শহরের ভেতরে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
সোমবার রাতে কিংবা মঙ্গলবার সকালে এ বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত আসার কথা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক (সদর) এএসএম আহম্মেদ খোকন বলেন, “আমরা এখন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি। সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে, ওই অনুযায়ী ভাড়া বাড়াব।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ডিজেলের দাম বাড়ানোর কারণে আজ থেকে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চার হাজার টাকা খরচ বেড়েছে; শুধু তেলের জন্য। ২০ টাকা লিটার বেড়েছে। যে গাড়িটার ২০০ লিটার তেল লাগবে, সেই গাড়ির খরচ ৪০০০ টাকা বেড়েছে।”
সরকারের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত আসার আগেই অবশ্য গণপরিবহনে ভাড়া বেড়ে গেছে। দূরপাল্লা ও শহরের ভেতরের বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ এসেছে যাত্রীদের কাছ থেকে।
তারা বলেছেন, ঢাকার অভ্যন্তরে বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। আর দূরপাল্লার বাসে বেশি নেওয়া হচ্ছে একশ টাকা পর্যন্ত।
প্রতিদিন ঢাকা উদ্যান থেকে বাংলামোটরে অফিস করেন এনজিও কর্মী নয়ন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিসকে তিনি বলেন, “শ্যামলী থেকে বাংলামোটর ভাড়া ১৫ টাকা। আজ সকালে ‘লাব্বাইক’ বাস ২০ টাকা চায়। কেউ দিচ্ছে, কেউ দিচ্ছে না। যাত্রীদের সঙ্গে হেলপারদের বিতণ্ডা চলে।”
সরকারের সিদ্ধান্ত আসার আগেই বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কারণ হিসেবে ‘অরিন পরিবহনের’ কাউন্টারে বসে থাকা কর্মী মনসুর আলী বলেন, “তেল তো বাড়তি টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ভাড়া বেশি না নিলে কি গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকব।
“আগের ভাড়া নিলে তো প্রতি ট্রিপে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসনা হবে।”
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থলবন্দরে। বেনাপোলে স্থানভেদে ট্রাক ভাড়া পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার কথা শুনিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, “তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাক মালিকরাও ভাড়া বাড়িয়েছেন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। এতে ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।”
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর খরচ বেড়েছে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়েও। এক্ষেত্রে চার্জ ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়িয়েছে বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইসিডিএ)।
বিআইসিডিএ মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের দাম রয়েছে। আমরা সবগুলোতে গড়ে ৯.৮৫ শতাংশ করে বাড়িয়েছি; যেটা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে।”
সরকারি চাকুরেদের বেতন দ্বিগুণ বা এর চেয়ে বেশি বাড়িয়ে চলতি সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। বেতন বৃদ্ধির প্রভাবে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো কতটা যৌক্তিক হলো, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারকে সামনে আনছে সরকার। দাম না বাড়ালে সরকারের অন্যান্য সেবা ব্যাহত হত, এমন কথাও বলা হচ্ছে।
সোমবার মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে এসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “এটি না করা হলে সরকারের টিকা কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কম মূল্যে খাদ্য সরবরাহের মতো কার্যক্রম ‘বিঘ্নিত’ বা ‘স্থগিত’ হয়ে যেত।
একই দিন সচিবালয়ে বাজার পরিস্থিতি বিষয়ক সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশকেও এর অর্থনৈতিক চাপ বহন করতে হয়।
“সরকার ভোক্তাদের ওপর পুরো চাপ একবারে না দিয়ে একটি অংশ বহন করলে শেষ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার উপরেই পড়ে। তাই জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার দাম বৃদ্ধির যুক্তি শোনালেও সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক দাম কমে আসার এ যুক্তি তুলে ধরে কেউ কেউ সরকারের কাছে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহরের দাবি তুলেছে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, “বর্তমান সরকার ৫ মাসে ৩ বার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল। এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষি ও গণপরিবহনের চালিকাশক্তি ডিজেলের দাম ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, যা সরাসরি সেচ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকদের খাদের কিনারায় ঠেলে দেবে।
“পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং গ্রামীণ মেহনতি মানুষের আলোর উৎস কেরোসিনের দাম ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা করায় তীব্র সংকটের সৃষ্টি হবে।”
তিনি বলেন, “এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের যখন মূল্যস্ফীতি তীব্র চাপে নাভিশ্বাস উঠছে, তখন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করে দাম বৃদ্ধি ও জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সরকারের তথাকথিত লোকসান কমানোর এই নীতি সরাসরি আমজনতার পকেট কাটার শামিল।”
অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
মধ্যরাতে হঠাৎ করে বাড়ানো জ্বালানি তেলের বাড়তি মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, “বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন নিম্নমুখী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকটে বিভিন্ন কলকারখানা বন্ধের কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দেশে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
“এমন সময়ে সাত (পাঁচ) মাসের মাথায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে যাতায়াত, যোগাযোগ, পণ্য ও যাত্রী পরিবহনসহ শিল্প উৎপাদনে ভাড়া ও মূল্য উস্কে দেওয়া হয়েছে।”
‘গণবিরোধী’ এ সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে ‘ফিরে আসার’ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বাংলাদেশ কভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন।
সোমবার রাতে সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়, “জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের পণ্য পরিবহন খাতে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইম মুভারের পরিচালন ব্যয়ের বড় একটি অংশ জ্বালানি তেলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ব্যয়ও অনিবার্যভাবে বাড়বে। এর প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।”
সরকার দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের কথা সামনে আনলেও রাজস্ব ঘাটতিকেও কারণ হিসেবে দেখতে চাইছেন কেউ কেউ।
তাদের মতে, এর মধ্য দিয়ে রাজস্ব আহরণ হয়ত বাড়েবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সক্ষমতার জায়গা থেকে দেখলে এক লাফে এতটা দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম মনে করেন, “জ্বালানি সেবা দিতে যেটুকু টাকা খরচ হবে, সরকার শুধু সেইটুকুই জনগণের কাছ থেকে নেবে। আর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সহনীয় পর্যায়ের কিছু রাজস্ব আহরণ করবে। কিন্তু সরকারের রাজস্ব আহরণ অত্যন্ত বেপরোয়া।”
