২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

তেলের মূল্যবৃদ্ধি: বেনাপোলে ট্রাক ভাড়া বেড়েছে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা

সকাল থেকেই ভাড়া নিয়ে ট্রাক চালকদের সঙ্গে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের বাকবিতণ্ডা চলছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 05:52 PM

Updated : 21 Sep 2026, 05:52 PM

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে। এখান থেকে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। স্থানভেদে ট্রাকপ্রতি ভাড়া পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন শত শত আমদানি-রপ্তানি ট্রাক চলাচল করে। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ শতাধিক ট্রাক বন্দর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে যায়। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।

সোমবার সকাল থেকেই ভাড়া নিয়ে ট্রাক চালকদের সঙ্গে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের বাকবিতণ্ডা চলছে।

বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, “দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হল বেনাপোল। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং এক থেকে দেড়শ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়ে থাকে। তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানি-রপ্তানি পণ্য আমরা দেশের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বাইরে পাঠাতে পারছি না।

“তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাক মালিকরাও ভাড়া বাড়িয়েছেন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। এতে করে ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।”

রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার।

নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হবে।

বন্দরের পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে গন্তব্য অনুযায়ী ভাড়া বেড়েছে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় জিনিসপত্রের দামও বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন তারা।

রোববার বেনাপোল থেকে ঢাকায় ১৫ টন পণ্য পরিবহনে জন্য ট্রাক ভাড়া ছিল ২১-২২ হাজার টাকা। মধ্যরাত থেকে ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে এখন ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা।

চট্টগ্রাম পর্যন্ত আগে ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিল ২৭-২৮ হাজার টাকা। এক রাতের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪-৩৫ হাজার টাকা।

নারায়ণগঞ্জের আগে ভাড়া ছিল ২২-২৩ হাজার টাকা। এখন চাওয়া হচ্ছে ২৭-২৮ হাজার টাকা।

বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য নিতে আসা ট্রাকের চালক খায়রুল ইসলাম বলেন, “ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা হওয়ায় ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়া ট্রিপপ্রতি পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে তো আমাদের করার কিছু নেই।”

আরেক ট্রাক চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, “লিটারে ২০ টাকা করে ডিজেলের দাম বাড়ায় আমরা ভাড়া ঠিক করতে গিয়েও বেকায়দায় পড়ছি।

“তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। তখন আমাদের মতো গরিব মানুষদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।”

পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও আমদানিকৃত পণ্যের পরিবহন খরচ যুক্ত হয়ে পণ্যের দাম সাধারণ ভোক্তার ওপর পড়বে বলে মনে করছেন বেনাপোল আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক।

তিনি বলেন,পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকদের ওপর চাপ বাড়ছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজি বলেন, দেশে ডিজেলের দাম বেড়েছে। আবার পাম্পে চাহিদা মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তেলের দাম বাড়লে তো ট্রাকের ভাড়া বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক।

আজিম বলেন, “অনেক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাৎসরিক ভিত্তিতে মালামাল পরিবহনের চুক্তির ফলে অনেক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। লাভ তো দূরে থাক শত শত টাকা লোকসান দিয়ে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে আমদানিকারকের প্রতিষ্ঠানে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে টায়ার, ট্রাকের যন্ত্রাংশের মূল্য এবং ফেরি ভাড়া বৃদ্ধির কারণেই নাকি ট্রাকের ভাড়াও বেড়ে গেছে।”

বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও পরিবহন সংকটের জন্য ট্রাক ভাড়া এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেকটা বাড়তি। ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি করেন লাভের আশায় কিন্তু পরিবহন খরচ এত বেড়েছে যে এতে তাদের লোকসানে পড়তে হবে।

কাঁচা পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নিত্যপণ্য খালাস করে নিয়ে যাচ্ছেন। তেলের ও ফেরি ভাড়া বৃদ্ধি, ও ট্রাক সংকটের জন্য ভাড়া বেড়ে গেছে। ঢাকায় ট্রাক যাওয়ার পর সেখানে থেকে কোনো ভাড়া না হওয়ায় দুই পাশের খরচ পুষিয়ে নিচ্ছেন ট্রাক মালিকরা।