Published : 25 Mar 2026, 05:36 PM
বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কারের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের বাস্তব চিত্র মূল্যায়ন করবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এর ভিত্তিতেই ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী এই সংস্থাটির মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজর্জি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী এপ্রিলে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকের পর একটি পর্যালোচনা মিশন বাংলাদেশ সফর করবে।
আগের দিন মঙ্গলবার জানা গিয়েছিল, ওই সফরে ষষ্ঠ কিস্তি ও বাকি অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনা সফল হলে আগামী জুন নাগাদ ঋণের পরবর্তী অর্থ পেতে পারে বাংলাদেশ।
মিশন পর্যায়ের এ সফর আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হতে পারে ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ সফরসূচি চূড়ান্ত ও রোডম্যাপ নিয়ে বুধবার আলোচনা করার কথা বলা হয়েছিল।
আগের দিন অন্তবর্র্তী সরকারের সময়ে নেওয়া দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা কতটুকু থাকবে, কী পরিবর্তন আনা হবে তা নির্বাচিত নতুন সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে আইএমএফ।
সে দিন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্তর্জাতিক সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন।
সেই রোডম্যাপের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপের সময় নির্ধারণে বুধবার আলোচনা করতে আসেন আইএমএফের মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজর্জি। তার সঙ্গে ছিলেন সংস্থার বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ম্যাকসিম কিরিশকো।
বৈঠকে আইএমএফ বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, এ প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও সময়াবদ্ধ করার ওপর জোর দেয়।
ওই বৈঠকে সংস্কারের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্ট’ এর পক্ষ থেকে সংস্কারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনটি কোন পর্যায়ে আছে তা উপস্থাপন করা হয়।
বিভাগটির পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “আইএমএফ দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কারে অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।”
তিনি বলেন, “তারা (আইএমএফ) একটি সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ লিখিতভাবে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যার কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়াও রিজার্ভ বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ও বিভিন্ন বেঞ্চমার্ক অর্জনে অগ্রগতিকেও ইতিবাচকভাবে দেখছে সংস্থাটি।
“আগামী এপ্রিলে আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ের পর রিভিউ টিমের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী কিস্তির ঋণ ছাড়ের সিদ্ধান্ত হবে।’’
আর্থিক সংকট সামাল দিতে ২০২২ সাল থেকে কয়েক দফা আলোচনা শেষে পরের বছরের প্রথম দিকে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ।
সবশেষ গত জুনে অর্থ ছাড়ের সময়ে ঋণের আকার বাড়িয়ে করা হয় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। সে বছর ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পায় বাংলাদেশ। একই বছরের ডিসেম্বরে পাওয়া যায় দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার।
তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার আসে ২০২৪ সালের জুনে। শর্ত বাস্তবায়নে দেরি হওয়া চতুর্থ কিস্তি আটকে রেখে সময় বাড়িয়ে দিয়ে ২০২৫ বছরের জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি একসঙ্গে মিলিয়ে ১৩৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার হাতে পায় বাংলাদেশ।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের জুনে ঋণের অর্থ ৮০ কোটি ডলার বাড়িয়ে নিলে আকার ৫৫০ কোটি ডলার হয়।
পাঁচ কিস্তির ৩৬৪ কোটি ডলারের ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার। ষষ্ঠ কিস্তি ও অবশিষ্ট অর্থ ছাড়ের সময় ছিল গত বছরের ডিসেম্বরে।
তখন আইএমএফ জানিয়ে দেয়, ঋণের অবশিষ্ঠ অর্থ ছাড় করা হবে নির্বাচিত সরকারের সঙোগ আলোচনা করে। সেই আলোচনাটি এখন শুরু হয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে।
আগের খবর: