Published : 10 Jun 2026, 08:19 AM
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব বাজেট প্রত্যাশা করছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন।
তিনি বলেছেন, “আমাদের প্রধান প্রত্যাশা হচ্ছে ব্যবসাবান্ধব, শিল্পবান্ধব একটা বাজেট হতে হবে। যাতে আমরা যারা এখন শিল্প বাণিজ্যে রয়েছি, তারা যাতে বেঁচে থাকতে পারি।
“এই সংকটের মাঝে এবং নতুন বিনিয়োগের পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি হয়। আমরা নতুন যেন বিনিয়োগ করতে পারি, সেই ধরনের দিকনির্দেশনা বাজেটে থাকতে হবে।”
তবে বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে মীর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, “শিক্ষাতে সবচাইতে বেশি, স্বাস্থ্যতে, তারপরে জ্বালানিতে, তারপরে শিল্প বাণিজ্যে এদিকে দিতে হবে।”
জাতীয় বাজেট সামনে রেখে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘ইনসাইড আউট’ আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন মীর নাসির হোসেন।
অনুষ্ঠানটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেইসবুক পেইজে সম্প্রচার করা হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দুই দশক বাদে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন এ সরকার এবারই প্রথম বাজেট দিচ্ছে।
এ বাজেট ঘিরে যেসব প্রতিশ্রুতি সামনে আসছে, তাতে নানা খাতের সংকট উত্তরণের দিশা কতটা থাকবে, মীর নাসিরের আলোচনায় সেই প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
একইসঙ্গে এই বাজেটে তার প্রত্যাশা, বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ, ব্যাংক খাতের সংস্কার, বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের করণীয়সহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

‘বড় চ্যালেঞ্জ জ্বালানি নিরাপত্তা’
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন মনে করেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া ‘শঙ্কা’। বিপুল অঙ্কের ঋণের কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
তার ভাষায়, “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আমার কাছে হচ্ছে—একটা লিগ্যাসি, মানে বিগত সরকার থেকে আরম্ভ করে যেটা শুরু হয়েছে। আমি পতিত সরকারের কথা বলছি। প্রচুর ডেবট রয়ে গেছে।
“পাওয়ার সেক্টরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে; তো যার জন্য আজকে আমাদের এনার্জি সিকিউরিটিটা ব্যাহত হয়েছে, ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
আওয়ামী লীগ সরকারের গত তিন মেয়াদে গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
মীর নাসির বলেন, “মানে ইনল্যান্ডেও না এবং যেখানে আমাদের ছাব্বিশটা বোধহয় ব্লক রয়েছে বে অফ বেঙ্গলে, অফশোরে আমরা উত্তোলনের কোনো প্রচেষ্টা নিইনি।
“যার জন্য আমাদের দেশীয় যে উৎপাদন হচ্ছে গ্যাস, সেটার চাহিদার সাথে যে চাহিদা রয়েছে ইন্ডাস্ট্রির বা দেশের—সেটা মিলছে না। প্রায় ৩৫ পার্সেন্ট আমাদেরকে এলএনজি এনে সেই শূন্যতাটা পূরণ করতে হচ্ছে।”

শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ যে জরুরি বিষয়, সেই প্রসঙ্গ টেরে তিনি বলেন, “আমরা তো এভাবে বসে থাকতে পারি না। কারণ গ্যাস ছাড়া কিন্তু শিল্প চলবে না, বাণিজ্য চলবে না। তো সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে এখন, ইতোমধ্যে বাপেক্স কিছু ড্রিলিং শুরু করেছে।
“বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং অফশোরে সরকার প্রডাকশন শেয়ারিংয়ের কনট্রাক্ট ইনভাইট করেছে। তো আমি মনে করি যে এগুলি যদি করা যায়, তাহলে হয়ত কয়েকটা বছর সময় লাগবে, কিন্তু হয়ত আমরা তার থেকে সুফল পাব।”
রাজস্ব নীতির ‘ঘনঘন পরিবর্তন নয়’
অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ হিসেবে ব্যাংকের ‘বর্ধিত’ সুদ এবং রাজস্ব নীতিতে ঘনঘন পরিবর্তনকেও দায় দিচ্ছেন মীর নাসির।
তিনি বলেন, “ফিসকাল পলিসিটা (রাজস্ব নীতি) আমাদের রিগ্রেসিভ টাইপের। আমাদের করদাতার সংখ্যা বাড়ছে না। দেশের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, দেশের পার ক্যাপিটাল ইনকাম বাড়ছে, পার ক্যাপিটাল ইনকাম ২৭০০ ডলারের উপরে প্রায়, কিন্তু ট্যাক্সের আওতায় খুব নগন্য সংখ্যক। মাত্র আট লাখ ভ্যাটদাতা আছে; আর টিনধারী আছে প্রায় এক কোটি।
“কিন্তু বোধহয় ৪০ লাখের মতো মানুষ ট্যাক্স দেয়। এই সংখ্যা দিয়ে ট্যাক্স জিডিপি রেশিও তো কোনোদিনই উন্নত হতে পারে না। আমাদের কিন্তু ট্যাক্স জিডিপি রেশিও এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম। কারণ, আমরা ট্যাক্স নেটটাকে (করজাল) সেভাবে বর্ধিত করিনি।”

রাজস্ব নীতিতে ঘনঘন পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা (করদাতা) সক্ষম, দেওয়ার সক্ষম—তাদের তো আওতায় আনতে হবে। তা নাহলে যারা করের আওতায় রয়েছে, তারা তো উপর্যুপরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
“রাজস্ব নীতির ঘনঘন পরিবর্তন হলে কিন্তু উদ্যোক্তারা স্বস্তিবোধ করে না। আজকে যদি আপনি করপোরেট ট্যাক্স ২০ (শতাংশ) করেন, কাল আবার ২২ করলেন; আবার কমিয়ে দিলেন বা ইনকাম ট্যাক্সের উপরে বিভিন্ন রকম সারচার্জ, এবার শোনা যাচ্ছে যে প্রপার্টি ট্যাক্স হবে—এগুলি দিয়ে কিন্তু একটা জটিল অবস্থা সৃষ্টি হবে।”
তিনি বলেন, “অর্থনীতিকে যদি একটা ভালো অবস্থানে আনতে হয়, তাহলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর সবচাইতে জোর দিতে হবে এবং সেটার জন্য শিল্পই সবচেয়ে বড় জায়গা। একটা শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।”
ব্যাংক খাত সংস্কারের তাগিদ
ব্যাংক খাত সংস্কারে সরকারকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন। তিনি মনে করেন, এই খাতে সংস্কার ‘অত্যন্ত প্রয়োজন’।
মীর নাসির বলেন, “কারণ ভালো ব্যাংকগুলো, যারা প্রফিটেবল রয়েছে, তারা কিন্তু ব্যবসা থেকে মুনাফা করছে না। করছে সরকারি বন্ড ট্রেজারি বন্ড থেকে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
“কোনো দেশে যদি ৩০ পার্সেন্টের উপরে ট্রেজারি বিল থেকে কোনো ব্যাংকের আয় হয়, সেটা কিন্তু সুস্থ পরিবেশ না। আমাদের কিন্তু ৬০-৭০ পার্সেন্ট ট্রেজারি বন্ড থেকে আসছে। তো এই জায়গার সংস্কার দরকার।”
তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলি কিন্তু শুধু প্রফিট আর্নিং মেশিন না। এরা সরকারের পার্টনার হওয়া উচিত। যখন পার্টনার একটা সংকটে পড়ে, পার্টনারকে এগিয়ে আসতে হবে।
“ব্যাংকগুলোকে রিফাইন্যান্সিংয়ের কথা চিন্তা করতে হবে। যারা বিভিন্ন কারণে ভুগছেন, তাদেরকে রিফাইন্যান্সিং করে জীবিত করতে হবে। চালিকাশক্তি বৃদ্ধি করতে হবে।”
সংস্কার আনার দাবি জানিয়ে মীর নাসির বলেন, “সরকারকে ব্যাংকিংয়ের সংস্কারগুলো আনতে হবে। এই যে পাঁচটা-ছটা ব্যাংক দিয়ে একটা নতুন ব্যাংক করা হয়েছে, এখানে কিন্তু সরকার ভর্তুকি দিয়েই যাচ্ছে। তারা আগে টাকা ছাপিয়ে করেছে, এখন ব্যাংক থেকে লোন করে করছে। এটার প্রভাব তো বেসরকারি খাটের ওপর এসেই পড়ছে।
“আমি মনে করি যে এটা রিভিজিট করার দরকার যে, ব্যাংকগুলিকে যে একত্রীকরণ করা হয়েছে, সেটা সঠিক কি না। আমি মনে করি যে একটা কমিশন করে এটা দেখা উচিত।”
এ পরিস্থিতি ‘শুভকর নয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমি মনে করি যে এইভাবে ক্লাস্টার ওয়েতে করা ঠিক হয়নি।
“প্রতিটি দুর্বল ব্যাংক আলাদা করে, সেখানে অডিটর লাগিয়ে যদি অন্য একটা সবল ব্যাংক দিয়ে টেকওভার করা হত, সেখানে যদি সরকার রিফাইন্যান্সিংগুলি করত, তাহলে মনে হয় এর থেকে ভালো ফল পাওয়া যেত।”
তেল-বিদ্যুৎতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ‘জনজীবনে পড়বে’
পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যে সম্প্রতি জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার।
মীর নাসির মনে করেন, এর প্রভাব জনজীবনে পড়লেও সরকার ‘বাধ্য হয়েই’ দাম বাড়িয়েছে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণেই সরকারকে দাম বাড়াতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “এটা অবশ্যই প্রভাব ফেলবে; কিন্তু আমি মনে করি—সরকারের তো বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। কারণ গ্যাসের, তেলের দাম বৈশ্বিক বাজারে অনেক গুণ বেড়ে গেছে।
“ব্যারেল প্রতি প্রায় পঞ্চাশ-ষাট ডলারের উপরে বেড়েছে। কিন্তু সরকার অনেক দেরিতে তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। ইতোমধ্যে সরকারকে কিন্তু ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিতে হয়েছে।”

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে ‘অপরিকল্পিতভাবে’ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মীর নাসির।
তার ভাষ্যে, “আমাদের আগের সরকার যেটা করে গেছে, পতিত সরকার, অত্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুতের উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা করেছেন। আমাদের সঞ্চালন ব্যবস্থা সঠিক নয়; আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে যাচ্ছি।
“আমাদের কিন্তু এখন বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৫ থেকে ২৬ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন তো ১৪ থেক ১৫ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু এটা আমরা দিতে পারছি না, কারণ গ্যাসের স্বল্পতা।”
বিদ্যুৎ খাতকে সুশৃঙ্খল করার পরামর্শ দিয়ে মীর নাসির বলেন, “গ্যাস না থাকা অবস্থায় কেন এত অধিক সংখ্যক গ্যাস বেসড পাওয়ার প্লান্ট দেওয়া হয়েছে, আমি জানি না। তাদের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট করতে হচ্ছে। ফসিল ফুয়েলের যে পাওয়ার প্লান্টগুলো আছে, সেগুলো ভীষণ সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
“আমরা প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি, কিন্তু অত্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে। সেজন্য এখানে একটা ডিসিপ্লিন আনতে হবে, সরকার যাতে ভর্তুকি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।”
‘সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হয়নি’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী, মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ।
এর আগে এর থেকে বেশি মূল্যস্ফীতি ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে। ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এরপর থেকে কমা-বাড়ার মধ্যে মার্চে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে উঠেছিল মূল্যস্ফীতি।
মীর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সরকার সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যে চেষ্টা করছে, তা খুব বেশি ফল্প্রসূ হচ্ছে না।
তার কথায়, “অনেকগুলি টুলস রয়েছে ইনফ্লেশন (মূল্যস্ফীতি) কমানোর। তার মধ্যে একটা হচ্ছে সুদের হার বাড়ানো। কিন্তু ইফেক্টিভলি দেখেন—এটা কোনো কাজেই দেয়নি। কারণ আমাদের এদিকে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু তার সুফল আসেনি।
“মূল্যস্ফীতি বেড়েইছে এবং জনগণের মধ্যে সেই চাপটা পড়েছে। অতএব, আমি যেটা বলেছি যে—অন্যান্য ম্যানেজমেন্টগুলি সরকারের করতে হবে। সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ফরেন কারেন্সির যে ম্যানেজমেন্ট, এখন তো ফরেন কারেন্সি পজিশন ভালো। এই কতগুলি জিনিস যদি না করা যায়, তাহলে কিন্তু আমরা এর থেকে সুফল পাব না।”
উচ্চ সুদের হার ও উচ্চ উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে নতুন বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন মীর নাসির।
তিনি বলেন, “নতুন বিনিয়োগ তো উৎসাহিত হচ্ছে না। কারণ হচ্ছে যে, যারা বিনিয়োগ করেছেন, তারাই তো টিকতে পারছেন না। প্রচুর শিল্প বাণিজ্য কিন্তু ধুঁকছে।
“আপনি যদি খোঁজ নেন, আমরা তো ফিল্ডে রয়েছি, আমরা জানি। প্রচুর ব্যবসা শিল্প তাদের পুঁজি হারিয়ে ফেলেছে অনেক জায়গায়।”

এ ব্যবসায়ী নেতা বলছেন, “একটা বড় পুঁজি হারিয়েছে, যখন কারেন্সি ডিভ্যালুয়েশন (মুদ্রা সংকোচন) হয়েছে। ৪৩ থেকে ৪৪ শতাংশ কারেন্সি হঠাৎ করে কমেছে; যেখানে ৮৫ টাকা ডলার ছিল, সেটা ১২২ টাকায় চলে এসছে।
“এইখানে তো যাদের ফরেন কারেন্সির ঋণ ছিল যেমন ইউপাস এলসি, সেগুলিতে তাদের বর্ধিত আকারে পে করতে হয়েছে এবং যার জন্য তাদের ক্যাপিটাল হারিয়ে গেছে।”
বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় কী?
দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার কমানো, পর্যাপ্ত গ্যাসের ব্যবস্থা, ঘনঘন রাজস্ব নীতি পরিবর্তন না করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির।
তিনি বলেন, “গ্যাসের এনার্জি ব্যবস্থা রাখতে হবে, ব্যাংকের সুদের হারটা দেখতে হবে; তারপরে রিফাইন্যান্সিং যেখানে দরকার, সেখানে করতে হবে। পলিসি চেঞ্জেস ফ্রিকোয়েন্টলি করা যাবে না এবং পলিসি যেন প্রাগমেটিক হয়।
“এটা একটা বাজেট করছেন নয় লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। সেখানে সাত লক্ষ কোটি টাকার ওপরে যদি রাজস্ব থেকে আয় করতে হয় এনবিআরকে, তারা তো এই বছরেই এই ফিসকালে আপনার ৬ লক্ষ ৬৫ হাজার কোটি টাকার যে লক্ষ্য, সেটা তো অর্জন করতে পারছে না।
“তখন তারা কী করে? তখন তো এই যারা ট্যাক্স পে করছে, তাদের ওপর এসে পড়ছে। এতে বিভিন্নভাবে ক্ষতি হচ্ছে, কস্ট অফ ডুয়িং দ্য বিজনেস বেড়ে যাচ্ছে। এই জায়গাগুলোকে ধরে কাজ করতে হবে; তাহলে বিনিয়োগ হয়ত বৃদ্ধি হতে পারে।”

মীর নাসির বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগ তখনই আসবে, যখন তারা দেখবে যে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা স্বচ্ছন্দে বিনিয়োগ করতে পারছে।
“তা না হলে তো তারা তো আর মার্কেট স্টাডি না করে আসবে না। তারা সব প্যারামিটার দেখেই কিন্তু আসবে। এগুলি না দেখে তারা কেউ আসবে না।”
‘প্রয়োজন সুশাসন’
সুশাসনের অভাবকে অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বলে মনে করেন মীর নাসির। তার ভাষ্য, সুশাসন না থাকলে অর্থপাচার, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ে। সুশাসন থাকলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
সরকারের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে যেটা সরকার বলতেছে যে, ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমি। সেটা যাবে কি না জানি না, তবে যদি দুই বছরের মধ্যে যেটা অর্থমন্ত্রী বলেছেন যে, এই সমস্যা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারব, তাহলে বাংলাদেশের কিন্তু অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
“কারণ অনেকগুলি এখানে পজিটিভ জিনিস রয়েছে। একটা উদ্যোক্তা শ্রেণি গড়ে উঠেছে, একটা প্রতিযোগিতামূলক বাজার রয়েছে। তারপরে ওয়েল ট্রেইনড বলব না, খুব অ্যাজাইল লেবার ফোর্স রয়েছে, যারা স্বল্প সময়ে কিন্তু খুব শিখে নিতে পারে।”
দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে মীর নাসির বলেন, “দেশের এখন দেখেন যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক বেশি। আপনি চিন্তা করেন যদি ১৮-২০ কোটি জনসংখ্যা হয়, তাহলে যদি ৫-৬ কোটিও হয়, ইউরোপ থেকে আরম্ভ করে অনেক দেশে কিন্তু মোট জনসংখ্যা ৫ কোটি না।”
এই চিত্র অর্থনীতির জন্য ‘বিরাট শক্তি’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমাদের বিদেশ থেকে ৩০ বিলিয়নের মতো রেমিটেন্স আসছে, রপ্তানি থেকে আসছে ফিফটি বিলিয়নের কাছাকাছি।
“যদি আমরা পুরো ইকোসিস্টেমটাকে বিজনেস ফ্রেন্ডলি করতে পারি, তবে ট্রিলিয়ন ডলার না হওয়ারও কোনো কারণ নেই।”