Published : 01 Jul 2026, 02:02 PM
আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে এক যুবকের প্রাণ গেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভাঙ্গা গোলচত্বর ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয় বলে ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।
নিহত ২২ বছর বয়সী সুমন মুন্সি কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন মুন্সির ছেলে। সে এলাকায় একটি ফাস্টফুডের দোকান চালাতো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সংঘর্ষের সময় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। অন্তত ২৫ থেকে ২৬টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে কয়েক ঘণ্টা।
স্থানীয়রা বলছে, ভাঙা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দুপাশে অবস্থান নিয়ে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলায় জড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজনও সংঘর্ষে অংশ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ভাঙা দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার অন্তত ২৫ থেকে ২৬টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধরা তাদের লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

নিহতের পরিবারের পরিবারের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে সুমন মুন্সি আহত হন। তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। পরে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন।
বর্তমানে সুমনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ ও তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জোবায়ের নাদিম বলেন, “আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
তার মুখের চোয়াল দিয়ে গুলিসদৃশ একটি বস্তু শরীরে প্রবেশ করে মাথার এক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।”
নিহতের চাচাতো ভাই জিহাদ মুন্সির অভিযোগ, কিছুদিন আগে দুই গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসা করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হলে হাসামদিয়া গ্রামের কয়েকজন এসে তাদের গ্রামের তিনজনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।
তার ভাষ্য, “এতে বাধা দিতে গেলে একজন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। তার ছোড়া গুলিতেই সুমনের মৃত্যু হয়।”
এদিকে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ লোকজন মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করলে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় সংঘর্ষ হয়েছে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সুমন মুন্সির মৃত্যুর বিষয়টি আমরা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে পেরেছি। ঘটনার তদন্ত চলছে।”